ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ওয়াশিংটনে গাছ কাটায় ক্ষুব্ধ ফেডারেল বিচারক, সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ


ওয়াশিংটনে গাছ কাটায় ক্ষুব্ধ ফেডারেল বিচারক, সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি গলফ মাঠে শত শত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় দেশটির বিচার বিভাগের আইনজীবীদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। বিচারক আনা রেয়েস মন্তব্য করেছেন, আদালতকে সময়মতো না জানিয়ে গাছ কাটার কাজ শুরু করায় সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রায় চার ঘণ্টার ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে বিচারক জানতে চান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংস্কার পরিকল্পনার আওতায় ইস্ট পোটোম্যাক গলফ লিংকস মাঠে কেন এত গাছ কাটা হলো এবং আদালতকে আগে থেকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি কেন।

শুনানিতে ন্যাশনাল মল অ্যান্ড মেমোরিয়াল পার্কসের তত্ত্বাবধায়ক কেভিন গ্রিসকে শপথ নিয়ে জবানবন্দি দিতে নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের পরিচালনা বিভাগের উপপরিচালক ফ্রাঙ্ক ল্যান্ডসকেও শুনানিতে হাজির হয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর

বিচার বিভাগের আইনজীবী মারিসা পিরোপাতোকে উদ্দেশ্য করে বিচারক রেয়েস বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তার কাছে অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই। তার ধারণা, শত শত গাছ কাটার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই সরকার মামলাকারী ও আদালতকে দেরিতে জানিয়েছে।

শুনানির শুরুতেই বিচারক বলেন, তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং সরকারের এ আচরণে মোটেও সন্তুষ্ট নন। আদালত ও মামলাকারীদের গাছ কাটার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানোর ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের আইনজীবীরা সবচেয়ে খারাপ কাজ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসকে আরও গাছ কাটা থেকে বিরত রাখার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন বিচারক। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও এ সময়ের মধ্যে কোনো গাছ কাটা যাবে না। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের পাশাপাশি গলফ মাঠে ভবিষ্যতে কোনো কাজ শুরু করার অন্তত তিন দিন আগে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে বিচারক বারবার বিচার বিভাগের আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইস্ট পোটোম্যাক গলফ মাঠে কোনো নির্মাণকাজ বা এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা থাকলে আদালতকে আগেই জানাতে হবে। এতে আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে আসা বেশিরভাগ ওষুধই পাকিস্তান থেকে পাচার হওয়া: তালেবান

কিন্তু শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার ঠিক আগে আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে সরকার জানায়, শনিবার (১০ অক্টোবর) থেকে গলফ মাঠে গাছ সরানোর কাজ শুরু হবে। এটিকে গাছ ব্যবস্থাপনা ও ঐতিহাসিক ভূদৃশ্য পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ বলে উল্লেখ করা হয়।

কেভিন গ্রিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ১৬৯টি এবং পরে আরও ৯০টি গাছ কাটার পরিকল্পনা ছিল। পুরো প্রকল্পে আনুমানিক ৫২৯টি গাছ কাটা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল।

তবে রোববার (১১ অক্টোবর) ইস্ট পোটোম্যাক গলফ মাঠ সংস্কারের বিরুদ্ধে মামলা করা ডিসি প্রিজারভেশন লিগের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, শনিবারই (১০ অক্টোবর) ৫২৯টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তাদের দাবি, কাটা গাছের মধ্যে সুস্থ ও পরিণত ওক এবং ম্যাপল গাছও ছিল।

গাছ কাটার কাজ প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত এগোচ্ছে বলে বিচার বিভাগের আইনজীবীরা সংরক্ষণবাদী সংগঠনটিকে জানিয়েছিলেন। এরপরই সংগঠনটি আরও গাছ কাটা বন্ধে জরুরি নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরও শত শত গাছ কাটার কথা ছিল। তবে রোববার (১১ অক্টোবর) বৃষ্টির কারণে সেই কাজ ব্যাহত হয়।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলের বলসোনারো পরিবার ক্ষমতা ও নির্বাসনের দ্বন্দ্বে

বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ৯৯টি গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রিস আদালতকে জানান, ইতিমধ্যে কাটা ৪৩০টি গাছকে বিপজ্জনক বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

শুনানিতে বিচারক রেয়েস জানতে চান, গাছ কাটার পরিকল্পনার কথা মারিসা পিরোপাতো কখন জেনেছিলেন এবং কেন শুক্রবারের (৯ অক্টোবর) আগে আদালত ও মামলাকারীদের জানানো হয়নি। তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে অজ্ঞ থাকার অজুহাত এখানে গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারের প্রতি গভীর হতাশা প্রকাশ করে বিচারক বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন মার্কিন নাগরিকদের তিনি বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে সরকারের ওপর তার আস্থা রয়েছে। কিন্তু শনিবার (১০ অক্টোবর) কেন গাছ কাটার কাজ চালানো হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

সপ্তাহান্তে গাছ কাটার চূড়ান্ত অনুমতি কে দিয়েছিলেন, সে বিষয়েও গ্রিস ও ল্যান্ডসকে প্রশ্ন করেন বিচারক। এ বিষয়ে জানতে স্বরাষ্ট্র বিভাগের উপপ্রধান কর্মী গ্রেগরি উইশারকে শুনানিতে আনার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পিরোপাতো।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

গ্রিস বলেন, তিনি ৫ অক্টোবর গাছ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের প্রধানের কাছে জমা দিয়েছিলেন এবং পরদিন সেটির অনুমোদন পান। তবে তিনি ও ল্যান্ডস দুজনই জানান, শনিবারই (১০ অক্টোবর) গাছ কাটার কোনো জরুরি প্রয়োজন ছিল না।

গ্রিসের দাবি, গাছ কাটার পরিকল্পনাটি ২০১৯ সালের একটি ঐতিহাসিক ভূদৃশ্যবিষয়ক প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুসারে তৈরি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে গলফ মাঠের পুরোনো নকশা ও ঐতিহাসিক উদ্ভিদবিন্যাস ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছিল।

গলফ মাঠের স্থপতি ওয়াল্টার জে ট্রাভিসের নকশায় তৈরি ইস্ট পোটোম্যাক ১৯২০-এর দশকে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। গ্রিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের গলফ মাঠে সাধারণত গাছ কম থাকে এবং নিচু উদ্ভিদ বেশি থাকে। কিন্তু শত বছরের বেশি সময়ে মাঠটিতে নানা ধরনের গাছ লাগানো হয়েছে, ফলে মূল নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য নষ্ট হয়েছে।

গ্রিস আরও জানান, গত আগস্টে ‘ফ্রিডম ২৫০ গ্রাঁ প্রি’ আয়োজন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মী ও অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হওয়ায় গাছ কাটার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদেরও এ কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

তবে ডিসি প্রিজারভেশন লিগের আইনজীবীরা সরকারের এই যুক্তির বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি, গলফ মাঠ সংস্কারে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যাপকভাবে গাছ কাটতে হবে। তাই পুরোনো প্রতিবেদন অনুসরণের কথা বলে গাছ কাটার কাজকে আলাদা ছোট প্রকল্প হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, এভাবে কাজ করায় জাতীয় পরিবেশ নীতি আইনের শর্ত এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই আইনে সরকারি সংস্থাগুলোকে কোনো প্রস্তাবিত প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে হয়।

সংগঠনটির আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, এটি সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নয়। তাদের দাবি, ইস্ট পোটোম্যাক পার্কের ১৩০ বছরের ইতিহাসে এক দিনে পাঁচ শতাধিক গাছ কাটার ঘটনা নজিরবিহীন। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আরও শত শত গাছ কাটার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের ভয়ে বদলে গেল সালমানের যুদ্ধের সিনেমার নাম ও দৃশ্য?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


চীনের ভয়ে বদলে গেল সালমানের যুদ্ধের সিনেমার নাম ও দৃশ্য?

ভারত ও চীনের সীমান্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সালমান খানের নতুন সিনেমা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ছবিটির প্রথম নাম ছিল ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’, যা পরে পরিবর্তন করে ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ রাখা হয়েছে। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি সিনেমার কাহিনি ও দৃশ্যের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার ভিত্তিতে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারান। ছবিতে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হবে, এমন আলোচনা ছিল আগে। তবে সিনেমার নাম পরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী দাবি করেছেন, সিনেমা থেকে চীনের সমালোচনা রয়েছে এমন কিছু দৃশ্য বাদ দিতে হয়েছে। তাঁর মতে, ভারত-চীন সম্পর্কের অবনতি রোধের জন্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া ছবির কিছু অংশ নতুন করে ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ধ্রুব রাঠীর এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বিশিষ্ট সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেয়েছে। সংশোধিত সংস্করণে দুই দেশের সম্পর্ক তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিচালক অপূর্ব লাখিয়ার এই সিনেমায় সালমান খানের পাশাপাশি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেনাদের আত্মত্যাগ ও মানবিকতার দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর ছবিটি মুক্তি পেতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে চীনের আপত্তির কারণে সিনেমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো মেলেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণে কাজ চলছে, দুর্ঘটনা রোধে উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণে কাজ চলছে, দুর্ঘটনা রোধে উদ্যোগ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দক্ষিণ অঞ্চলের কর্ণফুলী উপজেলা থেকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া অংশের অধিকাংশ স্থান বর্তমানে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, সরু রাস্তা এবং অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে মহাসড়কে প্রতিদিন অসংখ্য ছোট-বড় দুর্ঘটনায় যাত্রী ও পথচারীরা প্রাণ হারাচ্ছেন। মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধের জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ চার-ছয় লেনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি ফিরতে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ২১ ফুটের মহাসড়ককে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার কাজ শুরু করেছে। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এর ফলে মহাসড়ক যাতায়াতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি প্যাকেজে শুরু হয়েছে। প্রথম প্যাকেজে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত ৮ দশমিক ২ কিলোমিটার কাজ এমএএইচ কনস্ট্রাকশন করছে, যার ব্যয় প্রায় ৩৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে রাজঘাটা ব্রিজ থেকে চুনতি গ্রিন ভিউ নার্সারি পর্যন্ত ৭ দশমিক ২ কিলোমিটার কাজ এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং করছে, যার ব্যয় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। তৃতীয় প্যাকেজে গ্রিন ভিউ নার্সারি থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার কাজ এমএএইচ কনস্ট্রাকশন করছে, যার ব্যয় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। এছাড়া, মহাসড়কের সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় মৃত্যুপুরী নামে পরিচিত জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ মিটারজুড়ে চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ বর্তমানে ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। রাস্তার গুণগতমান সঠিকভাবে বজায় রাখার জন্য নিয়মিত ল্যাব টেস্ট করা হয়। ল্যাব টেস্টের ফলাফল সঠিক হলে কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করে বিল অনুমোদন করা হয়। তিনি আরও বলেন, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পরেও অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ কাজ হয়, কারণ মহাসড়কে যারা কাজ করছেন তারা মানুষ। সচেতন মহলের দাবি, মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হলে দূরপাল্লার গাড়িসহ সব ধরনের যানবাহনের দুর্ঘটনার হার কমে আসবে। মহাসড়কটি চার-ছয় লেনে উন্নীত হলে পর্যটননগরী কক্সবাজার ভ্রমণে পর্যটকদের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ফ্লোরিডার উপকূল থেকে শুরু করে ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত ঝড়ের কারণে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বহু মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। এই ঘটনায় ফ্লোরিডা ও আলাবামায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে দ্বিতীয় শ্রেণির শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উপকূলে আছড়ে পড়ে ইসাইয়াস। এরপর ঝড়টি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলজুড়ে তাণ্ডব চালাতে থাকে।

ফ্লোরিডার উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে মিল্টন এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। সেখানে প্রবল বাতাসের কারণে একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে একটি বাড়ির ওপর। গাছটি পড়ার সময় বাড়িটিতে ৭৭ বছর বয়সী ফিলিস হেনেবেরি নিজের ঘরে শুয়ে ছিলেন। গাছটি পড়ার পর বাড়ির ছাদের বড় অংশ ভেঙে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি দেখিয়ে হেনেবেরি বলেন, ‘কখনো ভাবিনি ৭৭ বছর বয়সে এসে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্টের ছাদ উড়ে গেছে। কোথাও কোথাও শোবার ঘরের দেয়ালও ভেঙে পড়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ফ্লোরিডায় দেড় লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। আলাবামায়ও ২০ হাজারের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

ঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা। ধর্মযাজক জোনাথন কৌশলের নেতৃত্বে একটি গির্জার দল মানুষের মধ্যে খাবার ও পানি বিতরণ করছে।

কৌশল বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পর অনেক মানুষ সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করছেন। তাই তারা স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।

ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের অবশিষ্ট অংশ থেকে জর্জিয়া ও ক্যারোলাইনা অঞ্চলে অন্তত আটটি টর্নেডো সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি টর্নেডো চার্লসটন শহরের প্রায় ৯০ মাইল পশ্চিমে একটি বাড়ির ছাদ উড়িয়ে নিয়ে যায়।

পশ্চিম নর্থ ক্যারোলাইনায় ছয় ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাতে সড়কগুলো প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইসাইয়াসের তাণ্ডলের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে আঘাত হেনেছে আরেকটি ঝড়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র‍্যাচেলের অবশিষ্ট অংশ থেকে সৃষ্ট বিশাল ঢেউ লস অ্যাঞ্জেলেসের দক্ষিণে সমুদ্রতীরবর্তী বাড়িগুলোতে আছড়ে পড়ে। ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় আট ফুট।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে তীরে উঠে আসা একটি পালতোলা নৌকায় আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করে উপকূলরক্ষী বাহিনী।

এদিকে দক্ষিণ নেভাডায় বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে লাস ভেগাসের বিখ্যাত স্ট্রিপ এলাকায়। অন্যদিকে, উটাহ অঙ্গরাজ্যে পাঁচ দিনব্যাপী ‘মোয়াব ২৪০’ অতি দীর্ঘ দৌড় প্রতিযোগিতা চলাকালে ভয়াবহ আবহাওয়া দেখা দেয়। বিপজ্জনক বন্যার কারণে সেখানে আটকে পড়া প্রায় ৭০ জন দৌড়বিদকে বাসে করে উদ্ধার করা হয়।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে সংকুচিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি: আইএমএফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে সংকুচিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি: আইএমএফ

মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি ২০২৬ সালে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে, যা ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে ঘটবে।

এই তথ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসে উঠে এসেছে। ছয় মাস আগে সংস্থাটি এ অঞ্চলে ১ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে যুদ্ধের প্রভাবে এবার সেই পূর্বাভাস পরিবর্তিত হয়ে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে তেল উৎপাদন, জাহাজ চলাচল ও রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে চাপ আরও বেড়েছে।

চলতি বছর ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের অর্থনীতি দুই অঙ্কের হারে সংকুচিত হতে পারে। তবে তেল উৎপাদন ও বাণিজ্যপথ স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে দেশগুলোতে জোরালো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ বছর ইরানের অর্থনীতি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এ বছর একমাত্র ওমানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশটির অর্থনীতি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে।

তবে চলতি বছরের অর্থনৈতিক মন্দার পর ২০২৭ সালে এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়া জরুরি বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%