০৫:০৫ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরের জামালখানে সাত বছরের শিশু মারজান হক বর্ষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অবশেষে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে তিন বছরেরও বেশি সময় পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শুনানি শেষে আসামি লক্ষণ দাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (লাশ গুম) এই অভিযোগ গঠন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর বিকেলে কুসুম কুমারী বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী শিশু বর্ষা চিপস কেনার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তিন দিন পর ২৭ অক্টোবর জামালখানের সিকদার হোটেলের পাশের নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। বস্তায় থাকা টিসিবির সিলমোহরের সূত্র ধরে পরদিন ২৮ অক্টোবর মুদির দোকানের কর্মচারী লক্ষণ দাশকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
গ্রেপ্তারের পর আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বর্ষাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ গুমের কথা স্বীকার করে।
তবে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে অস্বাভাবিক দেরি হওয়ায় মামলার তদন্ত থমকে থাকে দীর্ঘদিন। ডিএনএ প্রতিবেদনের জমার বিলম্ব নিয়ে কালের কণ্ঠ গুরুত্বসহকারে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে।
মামলায় বাদীপক্ষকে আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ’র মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে চার্জ গঠন করতেই প্রায় তিন বছর সময় লেগে গেল।
এত দেরির কারণে ভবিষ্যতে সাক্ষী হাজির করা দুরূহ হয়ে পড়তে পারে, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বড় বাধা। তিনি বলেন, বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
আদালতে রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস (পিপি), অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, অ্যাডভোকেট পরেশ চন্দ্র দাশ, অ্যাডভোকেট এ এইচ এম জসিমউদদীন, অ্যাডভোকেট হাসান আলী, অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন আরমান, অ্যাডভোকেট শাহানা আফরোজ ও অ্যাডভোকেট খুশনুদ রাইসা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন