১১:২৪ এম
দীর্ঘদিন ধরে পাওনা বঞ্চিত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণের উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ বিতরণ কার্যক্রম আগামী ১৫ আগস্ট ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) যুগান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার ও কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৪ হাজার অর্থাৎ মোট ১ লাখ ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পেতে যাচ্ছেন।
এবার অবসরভাতার টাকা পেতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচেষ্টা সঠিক পথে পরিচালনা করতে, প্রথমবারের মতো আইবাস++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন
ফলে এবার কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সহায়তা নেয়া প্রয়োজন হবে না।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে পাওনা না পেয়ে দুর্ভোগের মধ্যে থাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলমান রয়েছে।
এই পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার ১১৫টি আবেদনের নিষ্পত্তির পরিকল্পনা রয়েছে। চাকরিকালে প্রধান বেতনের ৬ শতাংশ হারে জমা দেয়া চাঁদার ভিত্তিতে অবসর সুবিধার অর্থ নির্ধারণ করা হয়।
আরও পড়ুন: চুয়েটে ৩৬ দিন পর বুধবার থেকে ক্লাস শুরু, বিভাগের প্রধানরা নিশ্চিত নন
বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, একজন শিক্ষক বা কর্মচারী সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। এই পর্যায়ের আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা হওয়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তির কাজ চলছে।
কল্যাণ সুবিধার জন্য চাকরিকালে মূল বেতনের ৪ শতাংশ হারে চাঁদা জমা প্রদান করা হয়। এর ভিত্তিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সর্বাধিক প্রায় আড়াই লাখ টাকা এবং নিম্নে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেতে পারেন। এই পর্যায়ের আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট মিলিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা রয়েছে। সব আবেদন সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
অর্থাৎ, সরকারের দেওয়া ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে বড় একটি অংশের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হলেও, দীর্ঘদিনের পুরো জটিলতা একবারে শেষ হবে না। বাকি আবেদনকারীদের পাওনা পরিশোধে ভবিষ্যতে আরও অর্থ খরচ হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অবসর ও কল্যাণ তহবিলের অর্থের বড় অংশই শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিকালে জমা দেওয়া চাঁদা থেকে আসে। অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে অর্থ কেটে রাখা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসর তহবিলে এবং ৩০ টাকা কল্যাণ তহবিলে জমা হয়।
যাহোক, প্রতি মাসে যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ছে, তা নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় তহবিলের আয় কম। ফলে প্রতি মাসই অর্থের ঘাটতি তৈরি হয় এবং আবেদন জমতে থাকে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
অবসর সুবিধা বোর্ডের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, পুরোনো সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় ডিজিটালভাবে আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে পড়েছিল। ফলে অনেক আবেদন হাত দিয়ে যাচাই করতে হচ্ছে, এ কারণে নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় বেশি সময় লাগছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৩ আগস্ট এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন। এরপর ১৫ আগস্ট ৬৪ জেলায় একযোগে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধে সরকারের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অবশিষ্ট আবেদনকারীরা তাদের পাওনা কবে পাবেন, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন