০৪:৪৯ পি.এম
টানা তিনদিন ধরে চলা মুষলধারে বৃষ্টির ফলে এবং কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবের কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে শিকলবাহা, চরপাথর ঘাটা, জুলধা তিনটি উপকূলীয় এলাকা। একইসঙ্গে, চরলক্ষ্যা ও বড়উঠান ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলও পানিতে ডুবে গেছে। সড়ক, বসতবাড়ি এবং কৃষিজমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল ও নালার নাব্যতা হ্রাস, এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে। এর ফলে নিচু এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এবং বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় তাদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
অতিবৃষ্টির কারণে স্থানীয় বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার জন্য জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, যার ফলে তাদের আয়-রোজগারে সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া, পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিজমির ফসলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
আলোকিত নারী কল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এস এম সাদিয়া বলেছেন, টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে শিকলবাহা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কলেজবাজার এলাকায় সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে চলাচলে বিশাল দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে বৃষ্টির পানি ঘরেও ঢুকে যাচ্ছে।
চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মুছা জানিয়েছেন, “বর্ষাকালে বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক হলেও প্রতিবছর এ সময়ে এলাকার ঘরবাড়ি এবং রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড, জুলধা ইউনিয়নের ১, ২ এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড, ও শিকলবাহা এবং বড়উঠান ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা প্রতীয়মান হয়েছে। কৃষিজমির ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে, এমনকি বহু পুকুরের মাছও প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।” তিনি উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য।
চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে তাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনই বলা সম্ভব নয়। সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে পরিষদের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। ইউনিয়নবাসী যদি যেকোনো সমস্যা বা জরুরি সহযোগিতার প্রয়োজন অনুভব করেন, তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রিদুয়ানুল ইসলাম জানিয়েছেন, কর্ণফুলি উপজেলা উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে অনেক এলাকা সহজেই প্লাবিত হয়। এছাড়া, অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পানি চলাচলের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকার কারণে জলাবদ্ধতা ঘটে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন