আবুল কাশেম রুমন,সিলেট প্রতিনিধি
১১:৫৮ এম
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে সালাম এয়ার চালু হচ্ছে ১লা সেপ্টেম্বর হতে। ৮ বছর বন্ধ থাকার পর সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ফের শুরু হচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনা সিদ্ধান্ত। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট চালু করছে ওমানভিত্তিক বিমানসংস্থা সালাম এয়ার। ওইদিন সিলেট থেকে ওমানের মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে সালাম এয়ার।
জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি কোনো এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট ছিল না। মাঝখানে কয়েক বছর দুবাই ভিত্তিক ‘ফ্লাই দুবাই’ ফ্লাইট পরিচালনা করলেও ২০১৮ সাল থেকে তা বন্ধ রয়েছে।
তবে সম্প্রতি পুণরায় ওসমানী থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া। সেপ্টেম্বরে ফ্লাইট চালু করবে সালামএয়ার। ডিসেম্বরের মধ্যে আরও একাধিক বিদেশি এয়ারলাইন্স ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে বলে জানা গেছে।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে সালাম এয়ার। এই ফ্লাইট চালু হলে তুলনামূলক কম ভাড়ায় ওমান প্রবাসী সিলেটিদের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।
সালাম এয়ারের সিলেট এরিয়া ইনচার্জ সেলিম আল রাজি জানান, সালামএয়ার গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইউরোপজুড়ে বিস্তৃত এবং এ নেটওয়ার্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে এয়ারলাইনটি ৩৮টি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
সালামএয়ার বাংলাদেশ থেকে প্রতি সপ্তাহে ২৪ টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে সালাম এয়ার। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ১৪টি, ঢাকা থেকে ৭টি ও সিলেট থেকে ৩টি।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পপ্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছিল দুবাই ভিত্তিক ‘ফ্লাই দুবাই’। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল সিলেট-দুবাই রুটে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে সপ্তাহে পাঁচ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করলেও যাত্রী চাহিদা বাড়ায় পরে প্রতিদিনই ফ্লাইট চলাচল করত। তবে নিজস্ব পরিচালনাগত সমস্যার কারণে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় এয়ারলাইন্সটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক ওয়্যারহাউজ। নতুন টার্মিনাল ভবনসহ আরও বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও বিদেশি কোনো এয়ারলাইন্স এই বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে না।
বর্তমানে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার, সৌদি আরব, কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ও আবুধাবিতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘ফ্লাই দুবাই’ আবারও সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ দিকে আবারও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইট চালু হতে পারে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক আরেক এয়ারলাইন্স ‘এয়ার আরাবিয়া’ও সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। চলতি বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরু থেকে তাদের ফ্লাইট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি ওসমানী বিমানবন্দরে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট পুণরায় চালুর অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলে ছিলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছালে সিলেট-গুয়াহাটি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সম্প্রসারিত হবে।
সালাম এয়ারের সিলেট ইন-চার্জ সেলিম আল রাজী জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরে একটি জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিলেট থেকে সালাম এয়ারের আন্তর্জাতিক যাত্রা আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে।
যেকোনো প্রয়োজনে সিলেটের যাত্রী ও ট্রাভেল এজেন্টরা সালাম এয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। বিক্রয়-সংক্রান্ত যোগাযোগ নম্বর ০১৮৪৭৪৬৭৭০৯ থেকে ০১৮৪৭৪৬৭৭২৬ এবং রিজার্ভেশন ও টিকেটিং কাউন্টারের যোগাযোগ নম্বর ০১৮৪৭৪৬৭৭২২ থেকে ০১৮৪৭৪৬৭৭২৩।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ফিরতে শুরু করেছেন লাখো কর্মজীবী মানুষ তিনদিনের ছুটিতে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই দেখা গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
তবে, ছুটির আনন্দে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত বাসভাড়া, যানজট ও পরিবহন সংকটের কারণে ভোগান্তিও সহ্য করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
জানানো হয়েছে যে, শিল্প পুলিশ বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে সরকারী দুদিনের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে শিল্পকারখানার শ্রমিকরা টানা তিনদিনের অবকাশ পেয়েছেন। এর ফলে, ভোর থেকেই বিভিন্ন মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
তিনি জানিয়েছেন, গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায় সকালের সময়।
উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্দ্রা ত্রিমোড়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ধীরগতির যান চলাচলের সৃষ্টি হয়।
এদিকে, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে কয়েকটি পরিবহন কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও টিকিট সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
চন্দ্রা বাস কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রী জেরিন আক্তার বলেছেন, 'তিনদিনের ছুটি পেয়েছি। তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু কাউন্টারে গিয়ে টিকিট পাইনি।'
আরেক যাত্রী ইকলাছুর রহমান জানিয়েছেন, 'উত্তরাঞ্চলের মানুষ বাড়ি ফিরলেই বাসভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এদিন ৫০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।'
তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অসংখ্য যাত্রী থাকার কারণে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ স্বীকার না করলেও, এটির জন্য যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপকে দায়ী করছেন।
চন্দ্রা এলাকার শাহ ফাতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার মালিক ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, 'পরিবহনের তুলনায় যাত্রী বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক গাড়ি কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যাত্রী পরিবহন করছে, তাই ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।'
অন্যদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত পরিবহন না পেয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে যানজটের ফলস্বরূপ যাত্রাপথে বাড়তি সময় ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।
হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর অঞ্চলের নাওজোড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর হোসেন জানিয়েছেন, 'ভোর থেকে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পলাতক ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার পথ তৈরি হচ্ছে কিনা, সেটা ভেবে দেখা দরকার।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকার জুলাই-আগস্টের কাঙ্ক্ষিত দেশ গড়ার জন্য কাজ করছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কাজও চলমান রয়েছে। গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সংসদীয় কমিটি কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ কখনোই তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান ঠেকাতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে জনগণকে হত্যা করা হয়েছিল। পরাজিত ফ্যাসিস্টদের এমন বর্বরতা বিরল, তিনি বলেন। ফ্যাসিবাদী আমলে গুম ও খুনকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছিল, যা দুঃশাসনের সাথে তুলনা চলে। ইতিহাস সাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ কখনই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মেনে নেয়নি।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে তিনি বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পূর্বসূরিদের বীরোচিত ভূমিকা তুলে ধরবে। অন্যদিকে, উন্মোচিত হবে ফ্যাসিস্টদের মুখোশও। এই জাদুঘর দেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই জাদুঘর কোনো একক রাজনৈতিক দলের বয়ান প্রতিষ্ঠার প্লাটফর্ম হবে না। কারণ গণঅভ্যুত্থান কোনো দল বা গোষ্ঠির একক কৃতিত্ব নয়, বরং এই কৃতিত্ব গণতন্ত্রকামী সব মানুষের।
প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, অতিরঞ্জতি, অসম্পূর্ণ বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না। বরং তা ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে, এবং ভবিষ্যতের জন্য বিভেদ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, তাদের জন্য পর্যায়ক্রমে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য। প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম খুনের শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহত প্রত্যেকের নামে তাদের এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা খুব ভালোভাবে চলছে। একইসঙ্গে তিনি হুমকি দিয়েছেন যে আলোচনা ফলপ্রসু না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। মঙ্গলবারের স্থানীয় সময় (৪ আগস্ট) ফক্স নিউজের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘তারা (ইরান) যদি আবার পিছু হটে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে খুব কঠিন আঘাত হবে। তারা এটি জানে এবং বুঝতে পারছে। আমরা যা করছি, তা না হলে তারা কখনও আলোচনায় বসতে পারতো না। আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হেনেছি। তবে এখনও একটি বড় আঘাত বাকি রয়েছে। আশা করি, সেটি করার প্রয়োজন হবে না। আমি সত্যিই আশাবাদী, তা করতে হবে না।’
ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘আমরা খুব ভালো আলোচনা করছি। এটি সত্ত্বেও তারা বিষয়টি স্বীকার করতে চায় না, কিন্তু হ্যাঁ, এটি কিছুটা উদ্বেগজনক বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং তারা একটি চুক্তি করতে চাইছে। এখন দেখা যাক কী ঘটে। যদি তারা চুক্তি না করে, তবে পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে যাবে।’
ইরানের কাছে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। হরমুজ ইস্যুতে চুক্তি সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। যদি তা না হয়, তবে তারা খুব কঠিন আক্রমণের সম্মুখীন হবে। এরপর অবশ্যই হরমুজ প্রণালিও খুলে যাবে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি পরিকল্পিত কঠোর হামলার প্রস্তুতি ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলার প্রস্তুতি আমরা তখন নিয়েছিলাম। তখন তারা আমাকে ফোন করে খুব ভদ্রভাবে জানতে চেয়েছিল, ‘দয়া করে আমরা কি কথা বলব?’ আমি বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। আসুন, বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান করি।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হতে পারে।
রুবিও সাংবাদিকদের জানান, ইরান ও ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আরও বেশি জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে, তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে। সিএনবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আজ অথবা আগামীকাল একটি চুক্তি হতে পারে। যা প্রণালিটি খুলে দিয়ে এই সংঘাতকে আরও স্বাভাবিক অবস্থার দিকে নিয়ে যাবে।’
জাহাজ চলাচলে ইরান কি কোনও ফি আরোপ করতে পারবে—এমন এক প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, ‘এটি স্বাধীন চলাচলের বিষয় হবে।’ সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো বা শর্ত সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরটি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের জীবন্ত দলিল। তিনি বলেছেন, "কোনো ত্যাগ, কোনো সংগ্রাম কোনোদিন বৃথা যায় না। ইতিহাস কখনো মিথ্যা হয় না।" জুলাই গণঅভ্যুত্থান তারই উজ্জ্বল প্রমাণ, বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, "দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান।" এই আন্দোলনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা, তাৎপর্য ও ব্যাপকতা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কীভাবে গণতন্ত্রের নামে একটি রাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে জনগণের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে। সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, ওই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ ও তুলে ধরতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এর কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, "এই জাদুঘরে নিয়মিত গবেষণা হবে। নতুন প্রজন্ম যেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে মাত্র ২০ দিনের আন্দোলনে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট এ ২০ দিনেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল ফ্যাসিবাদী শক্তির সাজানো সাম্রাজ্য।" জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই ইতিহাসেরই নাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ