০৩:১১ এম
পুরুষ বন্ধ্যত্ত্বের চিকিৎসার ব্যয় নারীদের জটিল রোগ এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসার ব্যয়ের সমান।
বন্ধ্যত্বকে এখনো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান জানাচ্ছে, প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের কারণ পুরুষ। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার খরচ নারীদের জটিল রোগ এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা খরচের সঙ্গে প্রায় সমান ধরা হয়েছে।
ভারতের মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি দীর্ঘদিনের একটি আর্থিক এবং স্বাস্থ্যগত বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে, যা উপেক্ষিত ছিল। গবেষণা অনুযায়ী, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার জন্য প্রতি ১০ দম্পতির মধ্যে ৬ জন আর্থিক চাপের সম্মুখীন হন।
আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা
গবেষণায় উল্লিখিত হয়েছে যে, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা নিতে আসা ৬০ শতাংশ দম্পতি ‘ক্যাটাস্ট্রফিক হেলথ এক্সপেন্ডিচার’-এর সম্মুখীন হন। অর্থাৎ, তাদের বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। এর ফলে অনেক পরিবার ঋণ নিতে বাধ্য হন বা তাদের সঞ্চয় ভেঙে চিকিৎসা চালাতে হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, বিশ্বে প্রতি ৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন জীবনের কোনো না কোনো সময় বীজতলা সমস্যায় ভুগছেন।
গবেষণায় ৫০০ দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় গড় ব্যয় এন্ডোমেট্রিওসিস: প্রায় ১৬,৯৪৩ রুপি,
• পুরুষ বন্ধ্যত্ব: প্রায় ১৬,৫৬৬ রুপি,
আরও পড়ুন: ডিকশনারি ডটকমের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’, জনপ্রিয় হলো কিভাবে
• অন্যান্য বন্ধ্যত্ব সমস্যা: প্রায় ১১,৩১৭ রুপি।
এর মানে হলো, গবেষকরা বলছেন, পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার খরচও এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসার সঙ্গে তুলনীয়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অবহেলিত বিষয়।
পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা কেন এত ব্যয়বহুল? এটি নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জটিল পরীক্ষা এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে আছে হরমোন পরীক্ষা, স্পার্ম বিশ্লেষণ, জেনেটিক পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, আইইউআই এবং আইসিএসআইয়ের মতো সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি।
এই চিকিৎসায় সরাসরি চিকিৎসা ব্যয় ছাড়াও বারবার হাসপাতাল যাতায়াত, ওষুধ ও সময়ের ক্ষতি যুক্ত হয়।
আরও পড়ুন: প্রেম খুঁজতে ফিনল্যান্ডে বিনা খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন কারা?
গবেষণায় দেখা গেছে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় সরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশি। বেসরকারি হাসপাতালের গড় ব্যয় প্রায় ১৪,২১৭ রুপি, তবে সরকারি হাসপাতালে এটি প্রায় ৮,৩৫৫ রুপি। সরকারি হাসপাতালে বিশেষায়িত সেবা শহরকেন্দ্রিক হওয়ার কারণে অনেক রোগীকে দূর থেকে আসতে হয়, যা পরিবহন এবং অন্যান্য খরচ বাড়ায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাত্র ১ শতাংশ দম্পতির কাছে বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার জন্য কোনো স্বাস্থ্যবীমা রয়েছে। এর ফলে অধিকাংশ পরিবারকেই নিজেদের সঞ্চয় বা ঋণ নিয়ে চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে।
গবেষকরা নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বন্ধ্যত্বকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে না দেখে, এটিকে একটি জনস্বাস্থ্য ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। চিকিৎসা খরচ কমাতে বীমা সুবিধা বৃদ্ধি এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এই সেবার অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই গবেষণা পুরুষ বন্ধ্যত্বের প্রতি প্রচলিত সামাজিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যে আরও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরছে।
আরও পড়ুন: ইলন মাস্কের সাফল্য নিয়ে ৮টি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন