ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফিতনার ঘনঘোর সময়ে ঈমান রক্ষার উপায়


ফিতনার ঘনঘোর সময়ে ঈমান রক্ষার উপায়

ইমান মুসলমানের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং এটি ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র সনদ। ইমানহীন ব্যক্তি লক্ষ্যহীন, উদ্ভ্রান্ত ও দুর্ভাগ্যগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ইমান যেমন মহামূল্যবান, তেমনি এটি অত্যন্ত সংবেদনশীলও।

এটি অর্জন করা যেমন পরম সৌভাগ্যের বিষয়, তেমনি অসতর্কতার কারণে ইমান হারিয়ে দুর্ভাগ্যগ্রস্তদের কাতারে শামিল হয়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। বর্তমান যুগ ফিতনার যুগ।

চারদিকে বিভ্রান্তিকর মতবাদ, নৈতিক অবক্ষয়, ভোগবাদ, মিথ্যা প্রচারণা এবং হারামকে স্বাভাবিক করে তোলার প্রবণতাসহ নানাবিধ ফিতনা দিনদিন বিস্তার লাভ করছে। ফলে এই সময়ে ইমানের ওপর অবিচল থাকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: খুলনায় অনুষ্ঠিত হলো ৩১তম হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা

রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে অন্ধকার রাতের খণ্ডের মতো ফিতনা গোটা সমাজে ছেয়ে যাবে। তখন সকালের মুমিন সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে।’ (তিরমিজি)। আজ চারদিকে নিত্যনতুন ফিতনার যে ঝড় বইছে, তাতে মনে হয় আমরা যেন কেয়ামতপূর্ব সেই সময়ের মধ্য দিয়েই অতিক্রম করছি। তাই এই ফিতনাসংকুল সময়ে ইমানের ওপর অবিচল থাকতে হলে ইমান সম্পর্কে বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন, যেসব কারণে ইমান দুর্বল বা বিনষ্ট হতে পারে সেসব বিষয় জানা এবং ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার উপায় সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইমানের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ও উদ্বিগ্ন থাকতেন। একবার হানজালা (রা.) অনুভব করলেন, নবীজি (সা.)-এর সান্নিধ্যে থাকলে তাঁর অন্তর আল্লাহমুখী থাকে; কিন্তু নবীজির (সা.) থেকে দূরে গেলে স্ত্রী-সন্তান, ধনসম্পত্তি ও দুনিয়াবি ব্যস্ততায় অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যায়। তিনি বিষয়টি আবু বকর (রা.)-কে জানালে তিনিও বললেন, আমারও তো একই অবস্থা। (মুসলিম)

এখান থেকে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় হলো, নবীজি (সা.) তখন তাঁদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন এবং ফিতনার নিত্যনতুন ঝড়ও আজকের মতো প্রবল ছিল না। তবু তাঁরা নিজেদের ইমান নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। অথচ আজ নানা ধরনের ইমানবিধ্বংসী ফিতনা আমাদের চারপাশ ঘিরে ধরেছে, কিন্তু সে তুলনায় আমাদের সচেতনতা ও আত্মসমালোচনা নেই। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজের ইমানকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া। ১. সঠিক জ্ঞান অর্জন : ফিতনাসংকুল সময়ে ইমান রক্ষার প্রথম ধাপ হলো সমসাময়িক ফিতনাগুলো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা। বিনোদন, খেলাধুলা কিংবা সংস্কৃতির নামে কীভাবে ইমানবিধ্বংসী চিন্তা ও জীবনদর্শন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা গভীরভাবে বোঝা। শিক্ষার নামে নাস্তিকতা, ভোগবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তার প্রসার, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে মানুষের রুহানিয়াত দুর্বল করে দেওয়া, স্বাধীনতা কিংবা অধিকারচর্চার নামে সমকামিতা ও অন্যান্য অনৈতিক বিষয়কে স্বাভাবিক করে তোলার প্রচেষ্টাসহ এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া। কারণ যে ব্যক্তি ফিতনাকে চিনতে পারে না, তার পক্ষে ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা করা অসম্ভব।

২. তাকওয়া অবলম্বন : আল্লাহভীতি বা তাকওয়া হলো মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল। হালাল-হারামের প্রশ্নে কোনো আপস না করা, আল্লাহর প্রতিটি নির্দেশ বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেওয়া এবং গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে সর্বদা আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা মুমিনের কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার শক্তি (ফুরকান) দান করবেন, তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।’ (সুরা আনফাল, ২৯)

৩. কোরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা : যে ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিই সৃষ্টি হোক না কেন, প্রথমেই দেখতে হবে কোরআন ও সুন্নাহ কী নির্দেশনা দিচ্ছে। মানুষের মত, আবেগ, সামাজিক চাপ বা প্রচলিত সংস্কৃতিকে নয়; বরং আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.)-এর নির্দেশনাকেই সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকবে, ততদিন কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। সেই দুটি বিষয় হলো, আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ।’ (মুয়াত্তা মালেক)

আরও পড়ুন: পুলিশের জন্য ৬৬০৮ কোটি টাকায় ৫৮৩০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব একনেকে আজ

৪. দোয়া করা : মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দোয়া। ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই সব সময় সঠিক পথে অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া ও জিকির পাঠ করা এই সময়ে অত্যন্ত জরুরি। ৫. বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী চলা : কোনো দিকে প্রভাবিত হওয়ার আগে বিজ্ঞ, আমানতদার ও তাকওয়াবান আলেমের কাছে বিষয়টি জানা এবং তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। নয়তো ফিতনাসংকুল সময়ে সাধারণ মানুষের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।

♦ জুমার মিম্বর থেকে

গ্রন্থনা : নুরুল ইসলাম তানঈম

আরও পড়ুন: রংপুরে হাতকড়াসহ মাদক ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা মমতাজুর রহমান পলাতক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলএনজি আমদানির ব্যয় বছরে ছাড়াতে পারে দেড় লাখ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ এম


এলএনজি আমদানির ব্যয় বছরে ছাড়াতে পারে দেড় লাখ কোটি টাকা

প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, এবং শিল্পকারখানা ও গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কারণে সরকার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সরকার ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করেছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কারণে কাতার থেকে বাংলাদেশে এলএনজি আমদানি কমে গেছে। এই অবস্থায় গ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ মূল্যে এলএনজি কার্গো আমদানি করছে। চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে সরকারের ব্যয় প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান এলএনজির মূল্য অপরিবর্তিত থাকলে আমদানির ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে।

সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে গ্যাসসংকট মোকাবেলার জন্য আরও কিছু ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে। পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত টার্মিনালগুলোর মধ্যে যদি অন্তত দুটি নির্মাণ করা যায়, তাহলে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারদর এবং সরবরাহের সক্ষমতা বিবেচনায় দুইটি নতুন টার্মিনাল যুক্ত হলে বছরে এলএনজি আমদানির ব্যয় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে যেতে পারে। বর্তমান স্পট মূল্য অব্যাহত থাকলে তা দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি এফএসআরইউ বিদ্যমান, যার মোট দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। একই সক্ষমতার আরও দুটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে মোট এলএনজি সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াবে। তবে, সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলএনজির আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপও বাড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, "অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখন চাইলেও সরকার এলএনজি আমদানি করতে পারবে না। আমাদের দুইটি এফএসআরইউ দিয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনতে পারি। আরও দুইটি এফএসআরইউ স্থাপনের যে পরিকল্পনা ছিল তা বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার একটি বড় ভুল করেছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন যে কমে যাবে এবং এলএনজি আমদানি করেই ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে হবে, এই চিন্তা থেকেই দুইটি এফএসআরইউ স্থাপনের কথা ভাবা হয়েছিল। এটি বাতিল করার আগে এর বিকল্প কী হতে পারে, তা চিন্তায় রাখা উচিত ছিল।" তিনি এলএনজি আমদানির ব্যয় কমাতে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়ার ওপর জোর দেন। এতে দ্রুত বাড়তি গ্যাস সরবরাহে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদনও বাড়াতে হবে বলে জানান ম. তামিম।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, গত আটটি অর্থবছরে এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের চাহিদা পূরণ করতে সরকারকে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জন্য একদিকে যেমন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, অন্যদিকে ভর্তুকি, বিদেশি ঋণ ও গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ)-এর ওপর পেট্রোবাংলাকে নির্ভর করতে হয়েছে। কিন্তু এত অর্থ ব্যয়ের পরও সম্প্রতি মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে সৃষ্ট দুর্ঘটনা, কারিগরি ত্রুটি এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দেশে গ্যাসসংকটে মারাত্মক বিপর্যয় তৈরি হয়। এর সরাসরি প্রভাব বিদ্যুৎ থেকে শিল্পের উৎপাদন, সিএনজি খাত এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর পড়ে।

চলতি অর্থবছরে বাজেটে ভর্তুকি হিসেবে এলএনজি খাতে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসেই ভর্তুকি হিসেবে পেট্রোবাংলা সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই এলএনজি আমদানি ও ভর্তুকির বোঝা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এলএনজি জেকেএম (জাপান-কোরিয়া মার্কেট)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২২ ডলার ৯৪ সেন্টের কিছু বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই দাম বেড়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। অথচ বছরের শুরুর দিকে ফেব্রুয়ারিতে এর দাম ছিল ১০ ডলার ৭১ সেন্ট। যা মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২২ ডলার ৯৪ সেন্টে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির তুলনায় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এলএনজির আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে ১১৩টি এলএনজি কার্গো আমদানি করা হয়েছে। এসব কার্গো আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এর সঙ্গে ভর্তুকি হিসেবে আরও ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত অর্থবছরের আমদানি পরিমাণ ও ব্যয়কে ভিত্তি ধরলে দুটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পর এলএনজি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে কার্গের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহ, এসব বিষয়ের ওপর প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, "দেশে গ্যাসের চাহিদা ও জোগানের পার্থক্য ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি এলএনজি আমদানির অবকাঠামো বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে। আরও কূপ খনন করে দেশীয় গ্যাস সরবরাহে যুক্ত করা গেলে এলএনজি আমদানির ওপর চাপ এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।"

দেশজুড়ে চলা গ্যাসসংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানার উৎপাদনেও। গ্যাসনির্ভর শিল্প বর্তমানে অনেকটাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, "সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের পার্টিকেল বোর্ড মিলটি বন্ধ করে দেব। আগামী দুই বছরেও গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না, এমন ঘোষণা পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের পাঁচটি স্পিনিং মিল ছিল, এরই মধ্যে পাঁচটিই এখন বন্ধ। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও আমরা এখন কনসোলিডেট করব। এতে অন্তত যে কর্মীদের এখন কাজ নেই তাঁদের বেতন দিতে হবে না এবং ব্যাংকের দায়ও বাড়বে না। দেশের মোট অর্থনীতির আকার প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থনীতিকে শুধু ধরে রাখলেই হবে না, এর প্রবৃদ্ধিও নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে অর্থনীতি ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে।"

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান গতকাল সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, জনগণের চলমান জ্বালানিসংকটের প্রতি সরকার সমব্যথী। তবে এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট। জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এ সময় গ্যাসের সরবরাহ পূর্ণমাত্রায় এখনো স্বাভাবিক হয়নি জানিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, গ্যাসের কার্গো সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তবে তা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। জ্বালানি খাতে ভালো অবস্থায় যেতে সরকারের প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, "জ্বালানিতে যথেষ্ট ভালো অবস্থায় যেতে দুই বছরের মতো সময় লাগবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাকি সময়ে দেশের অবস্থা আগের সময়ের চেয়ে খারাপ থাকবে। আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকব না। জ্বালানিসংকট থেকে দ্রুত বের হতে পারলে দেশে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং বন্ধ কারখানাগুলো চালু হবে।" প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, মোটাদাগে ব্যবস্থাপনায় কিছুটা অদক্ষতা থাকতে পারে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিই বড় সমস্যা। অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরে স্থলভাগে গ্যাস খোঁজার চেষ্টা হয়নি। সৌভাগ্যজনকভাবে ওই সময়ে তাদের মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পড়তে হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নেপালে ফের বন্যার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ এম


দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নেপালে ফের বন্যার শঙ্কা

নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আরেকটি বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে নদীর উজানে একটি বিশাল প্রতিবন্ধকতা বা ব্লকেজ এখনও আটকে রয়েছে। এই ব্লকেজ যেকোনো সময় ভেঙে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রলয়ংকরী বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) হঠাৎ করেই এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত ঘটে। এর ফলে ভোতে কোশি এবং ত্রিশূলি নদীর স্রোত বেয়ে প্রবল বেগে পানি, কাদামাটি এবং বিশাল আকারের পাথর ধেয়ে আসে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীগুলোর পানির স্তর বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গিয়ে চারপাশ প্লাবিত করে ফেলে।

হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ ও দুর্যোগ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) এই নতুন বিপদের বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটি তাদের একটি বিস্তারিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, উজানে আটকে থাকা ব্লকেজটি দ্রুত অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুভিত্তিক এই আন্তঃসরকারি সংস্থাটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, চীন, ভুটান, পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং আফগানিস্তানসহ হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশের পর্বত পরিবেশ, হিমবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা অন্যতম প্রধান একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

হঠাৎ করে এমন প্রলয়ংকরী বন্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা। একইসঙ্গে উজানে আটকে থাকা ব্লকেজটি থেকে সামনের দিনগুলোতে আরও কী ধরনের বিপদ ধেয়ে আসতে পারে, তা দ্রুত মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন তারা। যেন সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।

সূত্র:এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন, মৃত্যুর খবরে নিসচার ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ এম


ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন, মৃত্যুর খবরে নিসচার ক্ষোভ

লন্ডনে চিকিৎসাধীন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যু সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিসচা।

নিসচার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন।

নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ গ্লিটজকে জানিয়েছেন, “মানুষ অতি উৎসাহী হয়ে এ ধরনের খবর ছড়ায়। লন্ডনে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, সেখানে তার চিকিৎসা ভালো চলছে, তিনি ভালো আছেন।

“একজন জীবিত মানুষকে নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া মৃত্যুর মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে আমাদের সংগঠন।”

তথ্য যাচাই ছাড়া মৃত্যুর খবর ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন লিটন। তিনি বলেন, “এটি শুধু চরম দায়িত্বহীনতা নয়, বরং একজন মানুষের পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং তার প্রতি ভালোবাসা থাকা লাখো মানুষের অনুভূতির প্রতি নির্মম আঘাত।

“ইলিয়াস কাঞ্চন শুধুমাত্র একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার সঙ্গে দেশের অসংখ্য মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা জড়িত রয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি করে।”

মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়ানোর বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়েছে নিসচার এক বিজ্ঞপ্তিতে।

মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে লন্ডনে মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর দুই ধাপে চলছে কেমোথেরাপি।

১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন। এক সপ্তাহের বেশি সময় দেশের মাটিতে কাটিয়ে ১২ অগাস্ট চিকিৎসার জন্য ফের যুক্তরাজ্যে যান। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যেই তার মৃত্যু খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে কয়েকশ সিনেমায় কাজ করেছেন এই অভিনেতা, যার শুরুটা হয় ১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্তের বসুন্ধরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর একের পর এক দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছান ১৯৮৯ সালে বেদের মেয়ে জোসনা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।

১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুর্দিদের এসডিএফ বিলুপ্ত, সিরিয়ার জন্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ এম


কুর্দিদের এসডিএফ বিলুপ্ত, সিরিয়ার জন্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?

কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যা সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের (আইএসআইএল) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই সিদ্ধান্তটি দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে।

এসডিএফের প্রধান নিজেই গোষ্ঠীটির বিলুপ্তির খবরটি ঘোষণা করেছেন। সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপটি দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত প্রদান করছে।

মঙ্গলবার দামেস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসডিএফ নেতা মাজলুম আবদি উল্লেখ করেন, সিরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে এসডিএফ পুরোপুরি একীভূত হয়ে গেছে। এখন থেকে স্বাধীন কোনো বাহিনী হিসেবে এর আর কোনো কার্যক্রম চলবে না।

এক সময় সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ কুর্দি নেতৃত্বাধীন এই বাহিনীর হাতে ছিল। তবে গত জানুয়ারিতে সরকারি বাহিনীর হামলায় তারা নিজেদের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এরপর তারা সরকারের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তিতে সিরিয়ায় কুর্দিদের সাংস্কৃতিক, নাগরিক ও শিক্ষার অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মাজলুম আবদি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আমরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। এর মাধ্যমে আমরা সিরিয়ার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাতা উল্টে দিলাম। আর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন নামের একটি নতুন পাতা খুলতে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই আজকের এই দিনটি একটি সত্যিকারের পরিবর্তনের সূচনা হোক। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আমরা এখন বিনির্মাণের পথে যাব। আর অস্ত্রের যুগ পেরিয়ে আমরা শান্তির যুগে প্রবেশ করব।’

আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এসডিএফ একসময় সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সহযোগী ছিল। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তখন আল-শারার নেতৃত্বাধীন দামেস্কের নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে।

‘সিরিয়ার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত’

দামেস্ক থেকে আল–জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পেট মন্তব্য করেন, এসডিএফ বিলুপ্ত হওয়ার ঘটনাটি ‘সিরিয়ার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত’। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আল-শারা সরকারকে সমর্থন দেওয়ায় এসডিএফের নিয়তি বদলে যায়। এসডিএফের ভারী অস্ত্রগুলো কী হবে এবং ওয়াইপিজের নারী যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে—এসব প্রশ্নের সমাধান না হওয়ায় একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সাত মাসের বেশি সময় লেগেছে।

হেইডি আরও বলেন, ‘ওয়াইপিজে যুক্তি দিয়েছিল যে তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া উচিত। কারণ, তারা পেশাদার সেনাসদস্য। তারা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেনাসদস্য হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে চায়।’

আল–জাজিরার এই প্রতিবেদক বলেন, ‘দামেস্ক সরকার তাদের কেবল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছিল। এই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর কারণেই এত দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।’

হেইডি পেট আরও বলেন, সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।

আসাদ পরিবারের ৫০ বছরের শাসনামলে কুর্দিরা সব সময় অবহেলিত ছিল। এমনকি তাদের অনেককে নাগরিকত্বও দেওয়া হয়নি।

দামেস্কে দেওয়া বক্তব্যে মাজলুম আবদি জোর দিয়ে বলেন, আল-শারা সরকার কুর্দি ভাষায় শিক্ষালাভের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টিতে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, চলতি বছর থেকেই কুর্দি ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য তাঁরা কাজ করবেন।

‘সুদূরপ্রসারী প্রভাব’

এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসডিএফের এই বিলুপ্তি একটি ঐক্যবদ্ধ সিরিয়া গড়ার পথ তৈরি করতে সাহায্য করবে।

সিরীয়-বংশোদ্ভূত মার্কিন অধ্যাপক ও লেখক সালেহ মুবারক বলেন, ‘আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সংঘাত এড়ানোর পথ খোঁজার জন্য আমি উভয় পক্ষকে, বিশেষ করে সরকারকে সাধুবাদ জানাই।’

আল–জাজিরাকে সালেহ বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে ‘দক্ষিণ এবং সম্ভবত পশ্চিমের অন্য বিদ্রোহীদের ওপরও একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। তারা বুঝতে পারবে যে সিরিয়া একটি অখণ্ড দেশ হিসেবেই থাকবে। ধর্ম, সম্প্রদায়, ভাষা ও বর্ণের দিক থেকে আমাদের যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা স্বীকৃতি পাবে এবং উদ্‌যাপিত হবে।’

তবে এই বিশ্লেষক বলেন, আল-শারা সরকার ভাষার অধিকারসহ কুর্দিদের নানা অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় তা ‘এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে’।

এরপরও সালেহ বলেন, ‘কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই চুক্তিটি যে এই পর্যায় পর্যন্ত এসেছে, সেই দিক থেকে অবশ্যই এটি উদ্‌যাপনের দাবি রাখে।’

যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে তাদের ‘সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্রের’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঠিক এক দিন পরই এসডিএফের বিলুপ্তির ঘটনা ঘটল। সিরিয়ার ওপর কয়েক দশক ধরে এই তকমা লাগানো ছিল, যার কারণে দেশটিকে কঠিন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হয়েছিল।

আল-আসাদের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

প্রেসিডেন্ট শারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সিরিয়া একটি কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে এসেছে। দেশটি এখন উন্নয়ন, পুনর্গঠন এবং নতুন করে গড়ে ওঠার পথে অতীতের একটি যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় পেছনে ফেলল।’

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%