বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:১৫ পি.এম
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আজ বলেছেন, বিএনপি সরকার একটি অসাম্প্রদায়িক সরকার। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা সব ধর্মকে সম্মান করি, সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করি।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত স্লোগান "ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার" এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার চানপাড়া মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশে একজন মুসলমান মানুষ সরকারের কাছ থেকে যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, ঠিক তদ্রূপ সুযোগ-সুবিধা সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও পাবেন।" তিনি বলেন, সরকার ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের সব সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করে যাবে।
এ সময় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভিন, পুলিশ সুপার আবু সাইম সহ বিএনপির নেতাকর্মী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষরা উপস্থিত ছিলেন। পরে চানপাড়া মন্দির থেকে একটি রথযাত্রা বের করা হয়।
উল্লেখ্য, কথিত আছে, আষাঢ় মাসের শুক্ল দ্বিতীয়ায় বলরাম ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ। মাসির বাড়ি অর্থাৎ ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচার বাড়ি। সেখান থেকে সাতদিন পর তিনি আবার মন্দিরে ফিরে আসেন। এটাকেই জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি যাওয়া মনে করা হয়। এই যাত্রা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রথযাত্রা পালন করে আসছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সেনা সদস্যদের জন্য টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ৩০ বছরের বেশি বয়সি সেনাদের এই পরীক্ষা করা হবে লড়াইয়ের সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে। তবে যাদের বয়স ৩০ বছরের কম, তারাও চাইলে এই পরীক্ষা করাতে পারবেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গত বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক ঘোষণায় জানান, নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের যোদ্ধাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ভিত্তি বা জৈবিক সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
নতুন নীতির আওতায় টেস্টোস্টেরন পরীক্ষাকে সেনাবাহিনীর নিয়মিত বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এক্স-এ প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় হেগসেথ বলেন, সেনা সদস্যদের প্রতিদিন মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় কাজ করতে হয়। দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের টেস্টোস্টেরনের প্রয়োজনীয় মাত্রা রয়েছে কি না, নতুন এ পরীক্ষা তা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, যদি কারো টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার নিচে থাকে, তাহলে তিনি চাইলে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি গ্রহণ করতে পারবেন। তবে কৃত্রিমভাবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়ানোর চিকিৎসা গ্রহণে কোনো সেনাসদস্য অস্বীকৃতি জানালে এর পরিণতি সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।
এ সিদ্ধান্ত নারী সেনা সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। কারণ সাধারণত নারীদের শরীরে পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কম টেস্টোস্টেরন থাকে। তবে তাদের এ পরীক্ষার আওতার বাইরে রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে হেগসেথ কিছু বলেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হয়েছে নানা আয়োজনের মাধ্যমে। আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতা এবং অনেকে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরান থেকে তিলাওয়াত পাঠ করা হয়। এরপর ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্মিত ‘জুলাই অনির্বান’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হয়।
পরবর্তীতে দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, জুলাই শহীদ দিবস বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের আত্মদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি, কল্যাণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকেও ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, রাজনীতিবিদ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তাকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের স্মরণ করেন বক্তারা। তারা জানান, অসংখ্য ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও দৃঢ় অবস্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। বক্তারা মানবিক, স্বনির্ভর এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন টেলিফোনে যুক্ত হয়ে কথা বলেন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা, এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরিশেষে আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন মারা গেছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ৭ জন। এর মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসূখা ব্রিজের এলাকায় দুই মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুই জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আঞ্চলিক সড়কে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোয় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় ধুলীয়াখাল পয়েন্টে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়। আশঙ্কাজন অবস্থায় দুই জনকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, দুপুরে সদর উপজেলার ধুলিয়াখাল পয়েন্টে ব্যাটারি চালিত টমটম এবং বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে। ধুলিয়াখাল পয়েন্ট এলাকায় দ্রুতগতিতে চলাচলের সময় টমটম এবং মর্ডান পরিবহনের বাসটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে টমটমটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং আরও পাঁচজন আহত হয়।
এছাড়া, দিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস ও একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালক মো. আলমগীর মিয়া (৪০) প্রাণ হারান। এ ঘটনায় অন্তত ১০ যাত্রী আহত হন।
পুলিশ জানায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী লিমন পরিবহনের একটি বাস আউশকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক আলমগীর মিয়ার মৃত্যু হয়। আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ৩০ বছরের বেশি বয়সী সেনাসদস্যদের জন্য টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন এ নীতির উদ্দেশ্য হলো সেনাদের যুদ্ধ সক্ষমতা এবং শারীরিক প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা, বলছেন তিনি। তবে, নারী সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে এই নীতি কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।
নতুন নীতির আওতায়, টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা সেনাবাহিনীর নিয়মিত বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হবে। ৩০ বছরের কম বয়সী সেনাসদস্যরা চাইলে স্বেচ্ছায় এই পরীক্ষা করাতে পারবেন।
এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় হেগসেথ উল্লেখ করেছেন যে, সেনাসদস্যদের প্রতিদিন সর্বোচ্চ মানসিক এবং শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। নতুন পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, যদি কারও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার নিচে থাকে, তাহলে তিনি চাইলে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নিতে পারবেন। তবে, কেউ যদি এই চিকিৎসা নিতে অস্বীকার করেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
এই সিদ্ধান্ত নারী সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ নারীদের শরীরে স্বাভাবিকভাবে পুরুষদের তুলনায় অনেক কম টেস্টোস্টেরন থাকে। তবে তাদের জন্য আলাদা কোনো নীতি থাকবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা পেন্টাগন এখনো কিছু জানায়নি।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান প্রমিলা জয়াপাল এই কর্মসূচিকে জেন্ডার অ্যাফার্মিং কেয়ারের একটি রূপ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই পদক্ষেপ রিপাবলিকানদের পূর্ববর্তী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পিট হেগসেথ, তবে, এই কর্মসূচিকে সেনাদের সহনশীলতা, কর্মদক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য সেনাবাহিনীকে আরও যুদ্ধপ্রস্তুত করে তোলা এবং বাহিনী থেকে তথাকথিত ‘ওয়োক’ সংস্কৃতি দূর করা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হেগসেথ একাধিক বিতর্কিত সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি স্থগিত, কয়েকজন জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং বাহিনীর নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী সেনাসদস্যের সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ৭৪১ জন, যা মোট সক্রিয় বাহিনীর ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ