রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৯ পি.এম
সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের সময় আশুলিয়ার জামগড়ায় অবস্থিত ওই পোশাক কারখানা থেকে অগ্নিকাণ্ডের খবর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কাছে পৌঁছায়।
আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে। কিন্তু বাইপাইল সড়কে প্রচুর যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি জানার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মন্তব্য করেছেন যে, বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রের মিথ্যা বক্তব্যে বিশ্বাস করে না।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে সরল ও ভণ্ডামিপূর্ণ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাঘাই। তার মতে, মার্কিন প্রশাসন এমনভাবে আচরণ করছে যেন বিশ্বের দেশগুলোর অতীতে কোনো স্মৃতি নেই অথবা কোনো বিষয় বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা নেই।
বাঘাই আরও উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটন বিশ্বের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যেন সবাই চিন্তাভাবনা বন্ধ করে তাদের কথার ওপর নির্ভর করছে। তাদের বক্তব্যের প্রতি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই বিশ্বাস করতে হবে।
ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, একদিকে রয়েছে ইরানের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সর্বোচ্চ কষ্ট ও দুর্ভোগ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের পাইকারি পণ্যের দোকান থেকে কেনাকাটা করতে না পারেন, সেজন্য নেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপকে বড় করে তুলে ধরা হচ্ছে।
বাঘাই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো একটি দেশের মানুষের জীবিকা ধ্বংস করার মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাকে উদযাপন করছে। অন্যদিকে, দোকানের সদস্যপদ কার্ড নিয়ে গুরুগম্ভীর বক্তব্য দেওয়া তাদের নীতির অসংগতি প্রকাশ করে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নীতির পেছনে যে চিন্তাভাবনা কাজ করছে, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তার সীমাবদ্ধতা ফুটে উঠেছে।
সূত্র: এমএনএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ইটিবিএল হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি)-বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে পুন:নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আগামী দুই বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন।
আইসিসি’র প্রধান কার্যালয় প্যারিসে অবস্থিত। বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে আইসিসি’র কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আইসিসি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ প্রতিষ্ঠান এবং ১০০ কোটিরও বেশি কর্মজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্বে প্রতি তিনজন কর্মজীবীর মধ্যে একজনের জীবিকা আইসিসির সদস্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
আইসিসি বিশ্বের একমাত্র বেসরকারি ও অ-সার্বভৌম সংস্থা, যা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে স্থায়ী পর্যবেক্ষকের মর্যাদা অর্জন করেছে।
মাহবুবুর রহমান বর্তমানে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ছিলেন। তিনি সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে দুইজন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্টরা হলেন- ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ।
আইসিসি বাংলাদেশের ১৯ সদস্যের নির্বাহী বোর্ডে আরও রয়েছেন- এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক; ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ; মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি. রহমান; চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক; বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি সাঈদ আহমেদ; বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান; বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম; বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।
এছাড়া বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ, এভিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), আইওইউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চেয়ারম্যান আফতাব উল ইসলাম, মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাসির হোসেন, সোহাগপুর টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সিইও এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, স্কয়ার টেক্সটাইলস পিএলসির চেয়ারম্যান তপন চৌধুরী এবং ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনার আলোকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের সামনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ প্রত্যেককে সচেতন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্যাম্পাসের কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপাচার্য বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের এলাকা যেন এডিস মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্য সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান উপাচার্য। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোঃ হারুন-আল-রশীদ, শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট ড. এ. টি. এম জিন্নাতুল বাসারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের লোহাগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় পুলিশ ৫ হাজার ৫৩ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দিয়েছে। চার্জশিটটি শনিবার ওড়গাঁও মাভাল আদালতে জমা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরি সুপরিকল্পিতভাবে কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করে। এ হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে চেতন চৌধুরীর বন্ধু রিতেশ হাঙ্গেও অবগত ছিল। পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেছে।
পুনে গ্রামীণ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতে জমা দেওয়া এই চার্জশিটে ৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীসহ ১০০ জনেরও বেশি মানুষের জবানবন্দি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে মোবাইল ফোনের ডেটা, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ছবি, কল রেকর্ড এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। চার্জশিটে ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ২৬ বছর বয়সী কেতনের মৃত্যুর পেছনের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সাথে সিয়া গোয়েলের বাগ্দান হয়। তাদের বিয়ের আয়োজন আগামী নভেম্বরে জয়পুরে হওয়ার কথা ছিল। যদিও পারিবারিক কারণে বাগ্দানে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল, বিয়েতে সিয়ার মত ছিল না। এই কারণেই প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা করে সিয়া।
চার্জশিট অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে আগরওয়ালকে মারাত্মকভাবে জখম করার বিষয়ে আলোচনা করেছিল এবং এই হামলা চালানোর জন্য মহারাষ্ট্রের বাইরে থেকে কাউকে ভাড়া করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছিল। তবে পুলিশের দাবি, পরবর্তীতে এই পরিকল্পনাটি বাদ দেওয়া হয়। কারণ তাঁদের ভয় ছিল যে, ভাড়াটে ব্যক্তিটি এই চক্রান্ত ফাঁস করে দিতে পারে অথবা তাঁদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পরিকল্পনা চলাকালীন যে ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তিনি বর্তমানে এই মামলার একজন সাক্ষী হয়েছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এরপর তাঁরা নিজেদের দ্বারা আগরওয়ালকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এই উদ্দেশ্যে খুনের ওপর তৈরি বিভিন্ন সিনেমা দেখে ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে। নিজেদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, পুলিশ থেকে কীভাবে রেহাই পাওয়া যায় সেই বিষয়ে বিভিন্ন পডকাস্টও শুনতো তাঁরা। চার্জশিটে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা মেঘালয়ের রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলাটি পর্যালোচনার জন্যও অনলাইনে বেশ কয়েকবার অনুসন্ধান চালিয়েছিল। গত বছরের মে মাসে মেঘালয়ে হানিমুনের সময় ইন্দোরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশী খুন হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী সোনমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
চার্জশিটে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা লোহাগড় দুর্গটি চূড়ান্ত করার আগে লোনাভলার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রেকি করেছিল। চার্জশিট অনুযায়ী, সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরি একটি নির্জন জায়গার খোঁজে টাইগার পয়েন্ট এবং অন্যান্য স্থানগুলো পরিদর্শন করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের মার্চ মাসে লোহাগড় দুর্গে দুর্ঘটনায় এক নারী মারা গিয়েছিলেন। কেতনের হত্যাকেও দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতেই লোহাগড়কে বেছে নেয়া হয়। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ১৮ জুন কেতনকে হত্যা করতে পারলেও এর আগে ১৪ জুনও সিয়া কেতনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সেদিন সিয়া কেতনকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে কেতন কোনোমতে একটি গাছ আঁকড়ে ধরে বেঁচে যান। সিয়া তখন ‘সাপ, সাপ’ বলে চিৎকার করে কেতনকে জানায়, সাপ থেকে বাঁচাতেই সে তাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।
চার্জশিট অনুসারে, সিয়া ৪ জুনও দুর্গে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করেছিল। কারণ অভিযুক্তরা বালিতে একটি পরিকল্পিত ভ্রমণের আগেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে চেয়েছিল। ৬ জুন তাদের প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য বালি যাওয়ার কথা ছিল। বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সিয়া একটি ক্যাফের ওয়াশরুমে কেতনের পাসপোর্টটি ছিঁড়ে ফেলে দেন, যার ফলে তাঁদের বালির সেই ভ্রমণটি বাতিল হয়ে যায়।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, কেতনকে লোহাগড় দুর্গ নিতে সিয়া পরিচিত এক নারীর ছবি ব্যবহার করে 'মাহি' নামে একটি ভুয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বানিয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কেতন আগরওয়ালকে বার্তা পাঠিয়ে সিয়া গোয়েলের জন্মদিনে সারপ্রাইজ বার্থডে প্ল্যানের অংশ হিসেবে ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে আসার জন্য উৎসাহিত করা হয়। চার্জশিট অনুযায়ী, কেতনকে দুর্গে ডেকে আনার জন্য রিতেশ হাঙ্গের তৈরি করা একটি চক্রান্তের অংশ ছিল এই ভুয়া অ্যাকাউন্টটি। ঘটনার পরপরই অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হয়।
১৮ জুন চেতন চৌধুরি বের হওয়ার পথ দিয়ে লোহাগড় দুর্গে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে সিয়ারের কাছ থেকে সিগন্যাল পাওয়ার পর তাঁর সাথে যোগ দেয়। যখন কেতনের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানো ছিল, তখন সিয়া পেছন থেকে তাঁকে ধাক্কা দেয়। এরপর চেতন চৌধুরি কেতনকে লাথি মারে, যার ফলে তিনি দুর্গ থেকে নিচে পড়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া ও চেতন প্রাথমিকভাবে কেতনের হাত-পা ভেঙে মারাত্মকভাবে জখম করা এবং পরবর্তীতে তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা সম্পর্কে চেতনের বন্ধু রিতেশ জানতেন। ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর পর চেতন রিতেশের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে বিষয়টি জানান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়া প্রাথমিকভাবে এটিকে সেলফি তুলতে গিয়ে অসাবধানতায় পড়ে যাওয়া হিসেবে অভিহিত করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিল। তবে, কেতনের শেষকৃত্যের পরও তাঁর বোন এই দুর্ঘটনার গল্পটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকেন এবং তা খতিয়ে দেখতে চান। ঘটনার চার দিন পর সিয়া গোয়েল আগরওয়াল পরিবারের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে যায়। তখন কেতনের বোন লোহাগড়ে ঠিক কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে সিয়াকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সিয়া গোয়েলের উত্তরের অসংগতি এবং কিছু বিষয় এড়ানোর প্রবণতা কেতনের বোনের সন্দেহকে আরও গভীর করে তোলে।
এরপর তিনি তাঁর এই সন্দেহের কথা পরিবারের সাথে শেয়ার করেন। এর পর তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং নতুন করে তদন্তের দাবি জানান। প্রাথমিক তদন্ত শেষে গত ২৩ জুন পুলিশ সিয়া ও চেতনকে গ্রেপ্তার করে। সিয়া এবং চেতন বিগত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। গত জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে ২ হাজার বারেরও বেশি কথা হয়েছে, যার মোট সময়কাল ছিল ২৩৮ ঘণ্টা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ