ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুফতি তাকি উসমানি লন্ডনে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত


মুফতি তাকি উসমানি লন্ডনে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত হয়েছেন ইসলামি অর্থনীতি ও অর্থায়নে অসামান্য পাণ্ডিত্য এবং দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আল বারাকা সামিটে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৩ ও ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইসলামি অর্থনীতি, ব্যাংকিং, নীতিনির্ধারণ ও আর্থিক খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘নৈতিকতার বাস্তব প্রয়োগ: ভিত্তি পুনর্গঠন ও ইসলামি অর্থনীতির বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার’, যা ইসলামি অর্থনীতির নৈতিক ভিত্তি পুনর্গঠন এবং বিশ্বব্যাপী এর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে আয়োজিত হয়। সম্মেলনে ইসলামি অর্থব্যবস্থার মৌলিক আদর্শ, ন্যায়বিচার, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং সমাজের কল্যাণে সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি সম্মেলনে মূল প্রবন্ধে ইসলামি অর্থব্যবস্থার মৌলিক নীতিমালা ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেবল মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সমাজের বৃহত্তর কল্যাণ নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন। আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর

মুফতি উসমানি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে ইসলামি অর্থনীতির মূল লক্ষ্য শুধু সুদমুক্ত লেনদেন প্রতিষ্ঠা নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলা। সম্মেলনের সামগ্রিক আলোচনাতেও ইসলামি অর্থায়নের নৈতিক আদর্শকে বাস্তব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কার্যকর করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি: জীবন ও কর্ম

তিনি ইসলামি আইন, হাদিস ও অর্থনীতির আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ। পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামি স্কলার হিসেবে পরিচিত। ফিকহ, হাদিস, তাফসির, তাসাউফ ও ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও শিক্ষাদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত।

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ১৯৪৩ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মুফতি মুহাম্মদ শফি ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি আলেম। পারিবারিকভাবে ইলমি পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাকি উসমানি শৈশব থেকেই ইসলামি শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে আসা বেশিরভাগ ওষুধই পাকিস্তান থেকে পাচার হওয়া: তালেবান

তিনি পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত বিখ্যাত জামিয়া দারুল উলুম করাচি থেকে ইসলামি শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ফতোয়া বিষয়ে বিশেষায়িত শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও লাভ করেন।

বিচার বিভাগ ও শরিয়াহ গবেষণায় অবদান

মুফতি তাকি উসমানি কেবল একজন ধর্মীয় শিক্ষক ও গবেষক নন; পাকিস্তানের বিচার বিভাগেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৮০ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়াহ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮২ সাল থেকে ২০০২ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্টের শরিয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক ছিলেন। এ সময়ে ইসলামি আইন ও আধুনিক বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়।

তিনি জেদ্দাভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমির স্থায়ী সদস্য এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ইসলামি অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ পরামর্শক ও তত্ত্বাবধায়ক বোর্ডে কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলের বলসোনারো পরিবার ক্ষমতা ও নির্বাসনের দ্বন্দ্বে

ইসলামি অর্থনীতিতে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি

মুফতি তাকি উসমানির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানগুলোর একটি হলো আধুনিক ব্যাংকিং ও অর্থায়নব্যবস্থায় ইসলামি শরিয়াহর নীতিমালা প্রয়োগে গবেষণা ও দিকনির্দেশনা প্রদান। তিনি ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসের (এএওআইএফআই) আন্তর্জাতিক শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এএওআইএফআই বাহরাইনভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য শরিয়াহ মানদণ্ড প্রণয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে।

পাকিস্তানের জামিয়া দারুল উলুম করাচিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা ও উচ্চতর ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি ইসলামি অর্থনীতির গবেষণা ও উন্নয়নে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর গবেষণা ও দিকনির্দেশনা ইসলামি ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, আর্থিক চুক্তি এবং সমকালীন ফিকহি সমস্যার আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সমৃদ্ধ গ্রন্থভান্ডার ও গবেষণাকর্ম

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

মুফতি তাকি উসমানি আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় ৬০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। হাদিসের ব্যাখ্যা, ইসলামি আইন, ফতোয়া প্রদানের নীতিমালা, আধুনিক আর্থিক লেনদেন এবং ইসলামি ব্যাংকিং তাঁর লেখালেখির উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। তাঁর রচনাবলি ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি সমকালীন অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার শরিয়াহভিত্তিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

লন্ডনের পঞ্চম আল বারাকা সামিটে তাঁর সম্মাননা ইসলামি অর্থনীতি ও অর্থায়নে দীর্ঘদিনের গবেষণা, প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ও সম্পদের সুষম বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ আধুনিক অর্থব্যবস্থায় নৈতিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জনকল্যাণের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।

তথ্যসূত্র: আল বারাকা সামিটের সরকারি ওয়েবসাইট, আনাদোলু এজেন্সি, মুফতি তাকি উসমানির সরকারি জীবনী এবং আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি।

আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি কোম্পানিতে লিজ উদ্বেগজনক: সাইফুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি কোম্পানিতে লিজ উদ্বেগজনক: সাইফুল হক

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মন্তব্য করেছেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ মন্তব্য করেন, যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার বিদেশী কোম্পানিকে লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ জানানো হয়।

সাইফুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার, পতেঙ্গা, লালদিয়া, পানগাঁও বন্দর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে বা লিজ দেয়ার বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর একটি লাভজনক জায়গা, যা প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মুনাফা দিচ্ছে। এটিকে লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ৫৪-৫৫ বছরের ইতিহাসে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে না তুলে একের পর এক রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো লিজ দেয়া জাতীয় সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।’

বন্দর ও প্রধান প্রধান পরিকাঠামো লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত ও চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, ‘এসব বিষয়ে বিদেশি প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা নিজেদের হাতেই রাখতে হবে। জনকল্যাণ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।’

সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক হামলার কারণে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী কর্মী অনিশ্চয়তায় পড়েছেন উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারের উচিত সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মীদের দ্রুত গমনের ব্যবস্থা করা। সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে কর্মীদের স্বার্থরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

এ সময় ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ভোটারকে তালিকার বাইরে রাখার অভিযোগে ‘ইন্ডিয়া জোট’ ও তরুণদের চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস সেক্টর প্রজেক্ট’-এর ষষ্ঠ প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে সুপেয় পানির সংকট। পাহাড়ি এলাকার জনগণের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অপার সৌন্দর্য ও পাহাড়ি জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ ৩০ জুন বা ৩১ ডিসেম্বরের সময়সীমা সামনে রেখে শেষ করার পরিবর্তে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভৌগোলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও অনগ্রসর জনগণের সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এ সময় প্রশাসনে গতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সৎ, দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা এই উন্নয়নযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব অতুল সরকার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্মসচিব খাদিজা পারভীন, অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আবুল কাসেম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোসাম্মৎ জোহরা খাতুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দীন এবং প্রকল্প পরিচালক পবন কুমার চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে জামায়াতের মতবিনিময় সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


কিশোরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে জামায়াতের মতবিনিময় সভা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে। বুধবার রাতে জেলা শহরের নগুয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী। উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু বিভাগের সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সভায় অংশগ্রহণ করেন সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি রতন কুমার দাস, হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, গৌর নিতাই আখড়ার সাধারণ সম্পাদক সুনীল মুদক, মৃদুল কান্তি চৌধুরী, নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বিশু কুমার গুপ্ত, রিপন চন্দ্র সূত্রধর, পলাশ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

নেতারা ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালভার্ট আছে, উঠানামার পথ না থাকায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


কালভার্ট আছে, উঠানামার পথ না থাকায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নির্মিত কালভার্টের কাজ প্রায় ৫৩ লাখ ৭১ হাজার টাকায় সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ তৈরি হয়নি। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় বাসিন্দারা কালভার্টটি ব্যবহার করতে পারছেন না। সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষ সরকারের উন্নয়নকাজের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য এটি চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের কারণে কাজ আটকে আছে। বৃষ্টির দিনে বিকল্প সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পায়। গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনির হাটমুখী টুনিরহাট আর অ্যান্ড এইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কটি পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কালভার্টের দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁরা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই আশা পূরণ হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যাওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন কাজে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

পূর্ব ছাতনাইয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিব ইসলাম বলেন, "কালভার্ট নির্মাণ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় এটি দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। বৃষ্টির দিনে বেশি কষ্ট হয়। বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে যায়, আর কালভার্টের দুই পাশে গর্ত থাকায় হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হয়।" তিনি আরও বলেন, "দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হলে যানবাহন নিয়েও চলাচল করা সম্ভব হবে।"

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক এবং কৃষক সফর আলী জানান, বিপুল অর্থ খরচে নির্মিত এই কালভার্টটি এখন জনগণের কোনো কাজে আসছে না। তারা দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, "কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।"

ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, "কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে, তবে প্রকল্প এখনো অনুমোদন হয়নি। এ কারণে ঠিকাদার এখনো বিল করতে পারেননি। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার যে মাটি ফেলেছেন, স্থানীয় লোকজন তা কাটতে দিচ্ছেন না। এ সড়কের মাটি অ্যাপ্রোচ সড়কে ফেলা হবে। আশা করি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, "অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের মাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।"

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় টুনিরহাট আর অ্যান্ড এইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে বক্স কালভার্টটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৭১৩ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'এন অ্যান্ড সন্স' ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকায় কাজ সম্পন্ন করে। স্থানীয়দের দাবি, "আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত মাটি কাটার বিরোধ নিষ্পত্তি করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হোক।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%