ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় সব অস্ত্র ব্যবহারে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন


কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় সব অস্ত্র ব্যবহারে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বাল্টিক সাগরের তীরে রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে সরাসরি হামলা হলে মস্কো হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করবে।

বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে পুতিন বলেন, রাশিয়া কাউকে হুমকি দিচ্ছে না। পশ্চিমা নেতারা ২০২৯ বা ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়া যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, মস্কো তার জবাব দিচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে রাশিয়া অভিযোগ করে আসছে, ন্যাটো কালিনিনগ্রাদ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অঞ্চলটি লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের কাছে অবস্থিত।

রাশিয়া এর আগে সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহার করা হতে পারে। ন্যাটো অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে। জোটটি বলেছে, তারা একটি প্রতিরক্ষামূলক সংগঠন। একই সঙ্গে মস্কোকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ন্যাটো।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের মতো ভারতেও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা : প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পোল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড হামলার’ অভিযোগ বেড়েছে। গত সপ্তাহে পোল্যান্ড অভিযোগ করে, রাশিয়ার একটি হেলিকপ্টার কালিনিনগ্রাদের কাছে তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। লিথুয়ানিয়াও জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন দেশটির আকাশসীমায় ঢুকে পড়ায় মানুষ সব সময় হুমকির মধ্যে থাকার অনুভূতি পাচ্ছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বৃহস্পতিবার বলেন, তার দেশ আরও হাইব্রিড হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে ‘গুরুতর হামলাও’ থাকতে পারে। আগস্টে লিপজিগ বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়া যাওয়ার পর মের্জ এ মন্তব্য করেন। বিমানবন্দরটি ইউক্রেনের পণ্যবাহী উড়োজাহাজ চলাচলের কাছাকাছি।

বিস্তৃত বক্তব্যে পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত আরো দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তার দাবি, ‘পশ্চিমা আধিপত্য’ দুর্বল হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া। তবে পুতিন আবারও এই যুদ্ধের জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করেছেন। তার দাবি, রাশিয়াকে আত্মরক্ষা করতে এবং অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় রাশিয়ার হামলাকে ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরে রুশ জাহাজে হামলার জবাব বলেও উল্লেখ করেন পুতিন। তিনি বলেন, রাশিয়াকে এখন যুদ্ধ থামানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তার দাবি, সংঘাত শুরুর জন্য পশ্চিমারাই দায়ী।

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের জমি কেড়ে নিয়ে নৈতিকতা হারিয়েছে ইসরাইল: বারাক ওবামা

পুতিন স্বীকার করেন, ইউক্রেনের রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় ১ শতাংশ কমেছে বলেও জানান তিনি। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে হামলার কারণ হলো এসব স্থাপনা থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই রাশিয়া যুদ্ধের খরচ চালায়।

২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে। শীতকালে এসব হামলা আরও বাড়ে। ইউক্রেনের অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতেও নিয়মিত হামলা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও ড্রোন হামলা হয়েছে।

কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার কোনো ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা হলে দেশটি হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে। এর মধ্যে কালিনিনগ্রাদও রয়েছে। তার অভিযোগ, বাল্টিক সাগরে ন্যাটোর নৌ মহড়া কালিনিনগ্রাদের জন্য হুমকি তৈরি করছে। পশ্চিমা দেশগুলো কালিনিনগ্রাদ অবরোধ করলে রাশিয়া প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শক্তি ব্যবহার করবে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রও থাকতে পারে।

পুতিন বলেন, ২০২৯, ২০৩০ বা ২০৫০ সালে কোনো দেশকে আক্রমণের পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে কোনো আগ্রাসনের মুখে পড়লে রাশিয়াকে জবাব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোরও উদ্বেগ রয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, রাশিয়া লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে কালিনিনগ্রাদ ও মিত্র দেশ বেলারুশের মধ্যে সংযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এই এলাকার নাম ‘সুওয়ালকি গ্যাপ’।

আরও পড়ুন: ফিলিপাইন চীনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে ‘পরোক্ষ হুমকি’ বলল

লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে বিবিসিকে বলেন, রাশিয়া হামলা চালালে কীভাবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হবে, সে পরিকল্পনা তৈরি করেছে তার দেশ। দেশটিতে ন্যাটোর হাজার হাজার সেনাও মোতায়েন রয়েছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বুধবার বলেন, জোটের কোনো মহড়া বা কার্যক্রমই মস্কোর জন্য হুমকি নয়। ক্রেমলিনের এমন বক্তব্যকে তিনি ‘অপ্রয়োজনীয় এবং সহায়ক নয়’ বলে মন্তব্য করেন।

পুতিন তার বক্তব্যে বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর হাতে থাকা অস্ত্র নিয়েও কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব অস্ত্র ব্যাপক ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। এসব অস্ত্র কখনো ব্যবহার করা হবে না—এমন নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় পুতিন মঞ্চে রাখা বন্দুকের একটি উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, নাটকের শুরুতে মঞ্চে কোনো বন্দুক দেখা গেলে সাধারণত নাটকের শেষ দিকে সেটি ব্যবহার করা হয়। পুতিন যুদ্ধের নিয়ম নতুন করে ভাবার প্রয়োজনের কথাও বলেন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার কারণে যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। তার ভাষায়, যুদ্ধে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় যুদ্ধ অনেকটা খেলায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে মানুষের আচরণ আরো কঠোর হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরে ৪৭০০ বছরের পুরোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪১ পয়েন্টে সরঞ্জাম ও ১০০ স্টেশন প্রস্তুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


দেশে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪১ পয়েন্টে সরঞ্জাম ও ১০০ স্টেশন প্রস্তুত

॥ মোতাহার হোসেন ॥

ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : বড় ধরনের ভূমিকম্পের ফলে যদি কোনো ফায়ার স্টেশন বা হেডকোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে উদ্ধার তৎপরতা যাতে অব্যাহত থাকে, সেই উদ্দেশ্যে জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং কমান্ড কাঠামোকে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

এই উদ্যোগের আওতায় ঢাকা এবং এর আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম বিতরণ করা হচ্ছে, পূর্বাচলে একটি বিশেষ রেসকিউ টিম মোতায়েন করা হচ্ছে, বিভাগীয় শহরগুলোতে আলাদা রেসকিউ টিম গঠন করা হচ্ছে এবং ঢাকার আশপাশের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে জানান, বড় ধরনের ভূমিকম্পের সময় একাধিক স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ফায়ার সার্ভিসের জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি ১০০ বছরে একটি বড় ভূমিকম্প ঘটে, যা মেজর ভূমিকম্প বা মেগা ডিজাস্টার হিসেবে পরিচিত। দেশে বড় স্কেলের ভূমিকম্প হওয়ার শতবর্ষ পার হয়ে যাওয়ায় যে কোনো সময় বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে—এমন একটি উদ্বেগ বিদ্যমান। তবে ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হলেও ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এখনও কার্যকর পূর্বাভাস প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি।

এ কারণে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে, তা আগে থেকেই শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

বিকেন্দ্রীকরণে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রম কমান্ডের ওপর নির্ভর করে।

যদি ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখতে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মিরপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক সদর দপ্তর ভবন

পুরান ঢাকার সদর দপ্তর ভবন নিয়ে ঝুঁকি থাকায় ঢাকার মিরপুরে একটি ভূমিকম্প প্রতিরোধক বহুতল সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি-জাইকার সহযোগিতায় মিরপুর ১০-এ নির্মাণাধীন এই ভবনে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই প্রযুক্তির ফলে ভবনটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ভেঙে পড়বে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০২৮ সালে এর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তখন ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তরিত হবে।

৪১ পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম বিকেন্দ্রীকরণ

ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য স্টেশনগুলোতে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও সরঞ্জাম থাকলেও, হেডকোয়ার্টারে বেশিরভাগ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম রাখা হতো। ভূমিকম্পে হেডকোয়ার্টার ভবন ধসে পড়লে এসব সরঞ্জাম আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই কারণে ঢাকা ও এর আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে এসব সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। ফলে কোনো ফায়ার স্টেশন ভূমিকম্পে আটকে গেলে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

বিশেষ রেসকিউ টিম গঠন

ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ফায়ার স্টেশনের জনবল পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। এই কারণে এসআরটি বা স্পেশাল রেসকিউ টিম গঠন করা হয়েছে। ঢাকার পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম রাখা হয়েছে, যা দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন স্টেশন থেকে জনবল এনে প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ২০ সদস্যের একটি করে এসআরটি টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এ ধরনের দুর্যোগে কলাপসড স্ট্রাকচার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা করতে পারে।

ঢাকার সহায়তায় ১০০ ফায়ার স্টেশন প্রস্তুত

ভূমিকম্পের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরে ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে, যাতে মহানগরীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হলে এসব স্টেশন থেকে জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে সহায়তা করা যায়। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সরঞ্জাম ও রেসকিউ টিম স্থানান্তরের বিষয়েও বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগ

ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ অধিদপ্তরের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানের সময় ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। ভূমিকম্প-সম্পর্কিত দুর্যোগ ও মেগা ডিজাস্টারে কাজ করার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে ইকুইপমেন্ট ও সরঞ্জাম সরবরাহ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ

বড় অগ্নিকাণ্ড বা মেগা ভূমিকম্পের সময় ওয়্যারলেস কভারেজ ও মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহায়তায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করা হয়েছে। এতে বেতার, মোবাইল ও ল্যান্ড টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার মহড়া দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বাসস’কে বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে এবং ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এ ঝুঁকি বেশি। তাই সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ছোট-বড় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সেগুলোর মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলা উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন। বাংলাদেশেও এ ধরনের দুর্যোগে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিদ্যমান সক্ষমতা নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বাসস’কে বলেন, বড় ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিপর্যয় মোকাবিলা করা। বিশেষ করে ভবনধস, মানুষের আটকে পড়া, গ্যাসলাইন থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকাজে প্রবেশ করাও উদ্ধারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের অগ্রাধিকার হবে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন, আটকে পড়া মানুষকে শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে ১৫৪ জন গ্রেফতার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে ১৫৪ জন গ্রেফতার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার

রাজশাহী, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের একটি অভিযানে ১৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এই গ্রেফতার ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।

আজ শুক্রবার রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সময়ের মধ্যে ৩টি খুন, ১টি দস্যুতা, ১টি চুরি এবং ১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সহ অন্যান্য খাতে ১১৪টি মামলা এবং ৮টি অপমৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযান পরিচালনার সময় পরোয়ানা মূলে ৩৬ জন, সাজাপ্রাপ্ত ৪ জন, তদন্তাধীন মামলায় ১০৯ জন এবং প্রতিরোধমূলক অন্যান্য পদক্ষেপে ৫ জনসহ মোট ১৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবী রয়েছে।

গ্রেফতার ও বিভিন্ন অবৈধ মালামাল উদ্ধারের জন্য পরিচালিত মোট ১৪৫টি অভিযানের মাধ্যমে ৪০ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ১৯২ পিস ইয়াবা, ৫১৮ পিস ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, ১ কেজি ৪১০ গ্রাম গাঁজা এবং ৩৬০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪৭ জন মানুষকে প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে ঘুম না এলে মুক্তির জন্য ৫ খাবার খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


রাতে ঘুম না এলে মুক্তির জন্য ৫ খাবার খান

রাতে ঘুম না হওয়া এবং স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা কিংবা সারাক্ষণ ক্লান্তির অনুভূতি এখন একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই মনে করেন, শরীর ক্লান্ত থাকলে ঘুম আসতে চায় না। এর ফলে দিনের বেলায় কাজ করার সময় দ্বিগুণ ক্লান্তি অনুভূত হয়। এর সঙ্গে ভুলে যাওয়ার সমস্যাও রয়েছে। পূর্বে যে ছোটখাটো ঘটনা মনে থাকত, এখন সেগুলোও মনে থাকে না। সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোও মস্তিষ্ক থেকে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। পরিচিত মানুষের নাম ও মুখ ভুলে যাচ্ছেন অনেকে।

চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ এতটাই বেড়ে গেছে যে, এটি ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করছে। ফলে একদিকে ঘুমের সমস্যা দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে ‘ব্রেন ফগ’-এর লক্ষণও প্রকাশ পাচ্ছে।

‘ব্রেন ফগ’ শব্দটি প্রকৃতপক্ষে একটি বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়। সাধারণত এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের শারীরিক অবস্থার ব্যাখ্যা করতে এই শব্দটি ব্যবহার করেন। আচমকা চিন্তা-ভাবনার শ্লথতা, মনোযোগের অভাব, স্মৃতিলোপ এবং অনিদ্রার মতো বিভিন্ন সমস্যা এর উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়।

চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন, এই সমস্যার জন্য কেবল হরমোন দায়ী নয়, খাদ্যাভ্যাসও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ঘুমের সমস্যা ও ভুলে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গে জড়িত। যারা বেশি মিষ্টিজাতীয় খাবার খান এবং প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত ক্যাফিনও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।

মুক্তি পেতে ৫ খাবার খান

আখরোট ও কাঠবাদাম: এই খাবারগুলোতে প্রচুর ভিটামিন ‘ই’, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং মেলাটোনিন রয়েছে, যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: কুসুম গরম দুধে উপস্থিত ট্রিপটোফ্যান ও মেলাটোনিন স্নায়ুকে শান্ত করে এবং দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে।

কলা: কলায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ট্রিপটোফ্যান পেশিকে শিথিল করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে।

ফ্যাটি ফিশ: ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সেরোটোনিন হরমোন বাড়িয়ে ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে।

টক চেরি বা চেরি জুস: এতে প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন উপস্থিত থাকে, যা অনিদ্রা দূর করতে এবং ঘুমের সময় ও গভীরতা বৃদ্ধি করতে কার্যকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবার জন্য তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


সবার জন্য তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বলেছিলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, irrespective of their political affiliation. গত বৃহস্পতিবার তিনি নিজের দলের সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজদের প্রতি একটুও ছাড় দেবেন না। তার শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি কেবল কথার কথা নয়, বরং বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তা তিনি বিশ্বাস করেন এবং কার্যকর করেন।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অতীতে বহু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ থাকলেও কোন রাজনৈতিক দল তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফেনীর জয়নাল হাজারী কিংবা ইয়াবা সম্রাট বদির মতো পরিচিত সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। সবার জানা ছিল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু তৎকালীন সরকারি দলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু সংসদ সদস্যরাই নয়, সরকারি দলের নেতাকর্মীরাও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছিল না, কারণ তারা শাসক দলের ছত্রছায়ায় ছিল। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের যেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু তারেক রহমান গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতির এই অনৈতিক ধারা পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসীদের কোন দলীয় পরিচয় নেই, তাদের একটাই পরিচয় তারা অপরাধী। তারেক রহমান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তিনি নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে বলেন। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার সাথে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম যুক্ত হয়েছে। এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলের পক্ষ থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে অতীতে বহু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এরকম কিংবা এরচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এসেছে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। এর পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্বীকৃতির সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। নিজের দলের লোকদের খারাপ বললে জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়- এই ভুল ধারণা রাজনীতিতে প্রচলিত। তাই ক্ষমতাসীনরা নিজেদের দলের অপরাধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, যা সবসময় তাদের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি করা যায় এবং এর বিচার হয় না। এর ফলে শুধু ক্ষমতাসীন দলের ক্ষতি হয়নি, বরং সামগ্রিকভাবে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। কিন্তু অতীতে কোন দলের নেতাই সাহসের সাথে নিজের দলে শুদ্ধি অভিযান করতে পারেননি, ফলে রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেনি।

তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিএনপির কঠিন সময়ে, যখন দলের নেতা-কর্মীরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে, নানা রকম জুলুম নির্যাতনের শিকার, তখনও দলের শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোন আপস করেননি। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারেক রহমান একটুও দ্বিধা করেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তারা আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এই সময়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব হেভিওয়েট নেতারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু বিপথগামী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পথে পা বাড়ায়। কিন্তু তারেক রহমান এদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখাননি। তাদের একবিন্দু পরিমাণও ছাড় দেওয়া হয়নি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত দুই বছরে বিএনপির সহস্রাধিক নেতা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এখন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন যে, তিনি বিএনপিকে পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে কোন ধরনের ছাড় দেবেন না। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না। এটি দলীয় নেতাকর্মী কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

এই পদত্যাগের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে- সরকার এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে, এবং আর কোনো বাড়াবাড়ি করা যাবে না। বাড়াবাড়ি করলেই এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে দেশে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম অনেকটাই কমে আসবে। এর ফলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভেতরের আবর্জনা পরিষ্কার করার সাহস পাবে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিকে দুর্নীতি এবং সন্ত্রাস মুক্ত করতে সাহায্য করবে, এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%