মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর কিশোরগঞ্জ
০৮:২৩ এম
কিশোরগঞ্জের কূলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া তুলা মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের তমুর উদ্দীন গুদারা ঘাট পর্যন্ত চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই রাস্তার প্রস্থ ১৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ১ হাজার ফুট, যা সরকারি রেকর্ডে রয়েছে। কিন্তু, এর সংস্কারের অভাবে বর্তমানে জনসাধারণের চলাচলের জন্য একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া, রাস্তার ওপর নির্মিত পুরনো ব্রিজটি অত্যন্ত সরু এবং জড়াজীর্ণ হওয়ায় এর ওপর দিয়ে কোনো ধরনের যান চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, একসময় এই রাস্তার পশ্চিম প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী ব্রহ্মপুত্র নদের তমুর উদ্দীনের গুদারা ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করত। তবে, সময়ের পরিক্রমায় নদটি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে গুদারা (নৌকা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
এ কারণে, নদের ওপারে অবস্থিত পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার বিন্নাবাড়ি ইউনিয়নের সঙ্গে এই এলাকার যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে, দুই পারের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এডভোকেট মশিউর রহমান এই অবস্থার বিষয়ে বলেন, "রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে পাকাকরণ, বিদ্যমান সরু ব্রিজটি ভেঙে প্রশস্ত করে পুনরায় নির্মাণ এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে এই এলাকা বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক উন্নত হবে। রাস্তার দুই পাশে পড়ে থাকা অনাবাদী জমিতে মুরগির খামার ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যা স্থানীয় ভাটিপাড়া এলাকার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।"
যোগাযোগব্যবস্থার এই দূরবস্থা নিরসনে স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আশরাফ মিয়া, সাবেক সভাপতি ও গোবরিয়া আবদুল্লাহ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. সবুজ মিয়া, সদস্য নূরুল আমিন, ১৮নং দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রুহুল আমিন এবং ভাটিপাড়া বিটি বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. মোশারফ হোসেনসহ সকল স্তরের এলাকাবাসী তাদের প্রিয় নেতা কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কূলিয়ারচর) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তারা দ্রুততম সময়ে মধ্যে ১৬ ফুট প্রস্থ ও ১ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের এই রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণ, সরু ব্রিজটি ভেঙে প্রশস্ত করে পুনর্নির্মাণ, এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থ বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী দ্রুত এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরে ‘তুই ফ্যাসিস্ট’ বলার কারণে বিএনপিকর্মীকে বেদম মারধরের একটি অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে, জানিয়েছেন আহত মো. শরিফ।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় লিপিবদ্ধ অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগে, সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জের চৌরাস্তা এলাকায় মারধরের ঘটনাটি ঘটে। চিকিৎসার জন্য আহত মো. শরিফকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত আইনজীবী আনিসুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি শারীরিকভাবে শরিফের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি মাদকাসক্ত বলেও অভিযোগ করেন এবং বলেন, একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
আহত মো. শরীফ জানিয়েছেন, আনিসুলের সঙ্গে তার পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিষয়ে জেলা আদালতে মামলাও বিচারাধীন।
আরও জানা যায়, সময় সময়ে আনিসুল তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। হামলার ঘটনার সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে ‘তুই ফ্যাসিস্ট’ বলার পর এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় মাছের খাবার কিনতে মোটরসাইকেলে ভবানীগঞ্জের চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে, কয়েক সহযোগীকে নিয়ে আনিসুল তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে তাকে গালিগালাজ করে হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী শরীফ সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের বিনোদধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিএনপির একজন সক্রিয়কর্মী। অভিযুক্ত আইনজীবী আনিসুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং একই এলাকার বাসিন্দা।
লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, মারধরের ঘটনায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, রাতের মধ্যে মস্কো বড় ধরণের আরেকটি হামলা চালাতে পারে।
বৃহস্পতিবার ভোরে কিয়েভ সিটি সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানায়, ‘দুঃখজনকভাবে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।’
এর আগে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, ‘শত্রুপক্ষ ব্যালিস্টিক অস্ত্র দিয়ে রাজধানীতে হামালা চালাচ্ছে। আরও হামলার আশঙ্কা এখনও রয়েছে। সবাই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করুন।’
তিনি জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি জেলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
এএফপির এক সাংবাদিক জানান, ইউক্রেনের রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে এবং এরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
বুধবার রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া কয়েক দিন ধরেই বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে। আজ রাতেই সেই হামলা চালানোর আশঙ্কা খুবই বেশি।’
তিনি জানান, ‘ইউক্রেনের সব অঞ্চলের মানুষকে অনুরোধ করছি, আজ বিমান হামলার সতর্ক সংকেতের প্রতি সতর্ক থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন।’
জেলেনস্কি আবারও ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা কিয়েভকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে।
মঙ্গলবার তিনি হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। সেই সময় রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও জোরদার করেছিল।
এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম একমাত্র ব্যবস্থা হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ইউক্রেনে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে এখন মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে পৌঁছেছে। পূর্বে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৮ জন, কিন্তু শুক্রবার (৩১ জুলাই) কুমামোটো প্রিফেকচার সরকারের একটি বিবৃতিতে নতুন করে আরো নয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে সংঘটিত হওয়া এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে পুরো অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে, প্রধান রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে এবং জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটেছে।
শ্রদ্ধেয় কর্মকর্তাগণ জানিয়েছেন, নিহতদের প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু ঘটেছে দুটি বিশেষ স্থানে বড় ধরণের দুর্ঘটনার কারণে। একটি শক্তিশালী কাগজ কল, ‘নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর গুরুতর কাঠামোগত ক্ষতির কারণে ধসে পড়ার ফলে অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে।
এছাড়া, জনপ্রিয় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘এওন’-এর একটি শপিং মলে ভূমিকম্পের পর গ্যাস লাইন ফেটে বিস্ফোরণে ব্যাপক প্রাণহানি হয়।
বর্তমানে এই সব এলাকার উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গৃহহীনদের যথাযথ সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ধ্বংসস্তূপ সাফ করার প্রক্রিয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ৫০ জনের বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
হামলার সময় রাশিয়ার একটি ক্ষепণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যাটো সঙ্গে সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। পরে ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডের একটি গ্রামীণ এলাকায় পড়ে। এতে কেউ হতাহত হননি এবং কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি। রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
তবে সর্বশেষ এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানী কিয়েভও ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। বিমান হামলার সতর্কতা জারি হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাতাল রেলের স্টেশনগুলোতে ছুটে যান।
কিয়েভের পাতাল রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর ৫৬ হাজারের বেশি মানুষ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়া।
পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় মস্কো এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩৪।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, এই হামলায় রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাদুশনে এলাকায় দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। জেলেনস্কি আরো বলেন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে।
তার অভিযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, ইউরোপের সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন এবং ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের ওপর হামলার মাধ্যমে এই জোট আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ন্যাটো জানিয়েছে, হামলার সময় রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। যদিও এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবু ঘটনাটি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো আশঙ্কা করছে, চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ভবিষ্যতে তাদের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এ ঘটনাকে রাশিয়ার আরেকটি বেপরোয়া পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের এটি একটি বিপজ্জনক পরিণতি। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে তিনি বলেন, পোল্যান্ডকে সরাসরি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছে—এমনটি বিশ্বাস করার কোনো কারণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার এই হামলা এমন সব এলাকায় চালানো হয়েছে, যেখানে অস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎপাদনের স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর ফলে দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলেনস্কি বলেন, সর্বশেষ হামলায় ইউক্রেনের অন্তত ১০টি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অসংখ্য বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের বিমানঘাঁটি, অস্ত্র কারখানা, সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রসদ সরবরাহের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ড্রোন তৈরির কারখানা ও অস্ত্র সংরক্ষণাগারও ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ