ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রক্তের মধ্যে পড়ে ছিল চিকিৎসকের লাশ, পাশের ঘরে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত স্ত্রী


রক্তের মধ্যে পড়ে ছিল চিকিৎসকের লাশ, পাশের ঘরে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত স্ত্রী

ভারতের কর্নাটকের ধারওয়াড়ে, পুলিশের সঙ্গে ঘটনার তদন্তের পর, একটি ফ্ল্যাট থেকে এক চিকিৎসকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তার আট বছর বয়সি ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায়, নিহত চিকিৎসকের স্ত্রী কর্তৃক, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

বুধবার (১৬ জুলাই) ধারওয়াড়ের বারাকোট্রি এলাকার র্যাঙ্কো স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নিহত চিকিৎসকের নাম কিরণ হোন্নান্নাভার (৪৫), যিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার লাশে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ধারওয়াড়ের পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ চিকিৎসকের আট বছর বয়সি ছেলেকে গুরুতর আহত অবস্থায়, কিন্তু জীবিত, উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন।

আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

তিনি আরো জানান, নিহত চিকিৎসকের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে ঘটনার সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে তার বক্তব্য অসংলগ্ন ছিল, এ কারণে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই চিকিৎসক কিরণের মোবাইল ফোনে আসা কলগুলোর উত্তর তার স্ত্রী দিচ্ছিলেন। প্রতিবারই তিনি কিরণের অবস্থান সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ তৈরি করেছে। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি সম্ভবত মঙ্গলবারই সংঘটিত হয়েছিল।

নিহতের পরিবারের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, পারিবারিক কলহের জেরেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা দেখতে পান, এক কক্ষে চিকিৎসক কিরণের লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, অন্যদিকে গুরুতর আহত ছেলে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এ সময় অভিযুক্ত স্ত্রীকে পাশের একটি কক্ষে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

সূত্র: দ্য হিন্দু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামরিক কৌশল বদলে যে অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে ইউরোপীয় দেশগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ এম


সামরিক কৌশল বদলে যে অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে ইউরোপীয় দেশগুলো

ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইউরোপ নিজেদের সামরিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে। মহাদেশটির নিরাপত্তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার যুক্ত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপুল বিনিয়োগ বর্তমানে এ প্রযুক্তিতে মিশছে বলে সিএনবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামরিক কৌশলের দ্রুত পরিবর্তনের গতিকে আরও স্পষ্ট করেছে গত দুই সপ্তাহের কিছু বড় ঘোষণা। উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটো ড্রোনের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাজ্য ড্রোন ও ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থার জন্য শত কোটি পাউন্ড বরাদ্দ করে।

জার্মানি ইউক্রেনের জন্য ৫০ হাজার ড্রোন সংগ্রহের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপ ‘হেলসিং’ এক হাজার ৮০০ কোটি ডলার পেয়েছে। এসব ঘটনা সামরিক পরিকল্পনার বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় বিভিন্ন ব্যবস্থা একসময় শুধু বিশেষ কিছু প্রয়োজনে ব্যবহৃত হত, কিন্তু এখন তা আধুনিক যুদ্ধকৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। নতুন এই ধারা কেবল ড্রোন নির্মাতাদের জন্যই নয়, বরং এআই, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করে এমন কোম্পানি গুলোর জন্যও নতুন সম্ভাবনার উন্মোচন করছে।

‘মর্নিংস্টার’-এর বিশ্লেষক লোরেদানা মুহাররেমি বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ট্যাংক বর্তমানে কেবল গোলাবারুদ ছুড়বে না, বরং ড্রোন উৎক্ষেপণ করবে এবং স্যাটেলাইট ও চালকহীন আকাশযান থেকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর লাইভ ডেটা সংগ্রহ করবে, যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্য আদান-প্রদান করবে এবং সমন্বিত নেটওয়ার্ক ফোর্সের অংশ হিসেবে কার্যকর হবে।

ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৈরি কম খরচের ‘শাহেদ’ ড্রোনের ব্যবহার প্রতিফলিত করেছে, যে এআই ড্রোন তুলনামূলকভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এগুলো নিখুঁতভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে, প্রচলিত অস্ত্রের আক্রমণ সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে এবং দিন দিন মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম।

আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার কেমন রূপ নিচ্ছে? ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা পুরো ইউরোপের সামরিক কেনাকাটা ও প্রতিরক্ষা কৌশল আমূল বদলে দিচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণের বিষয়টি মাথায় নিয়ে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পশ্চিমা দেশগুলি শত কোটি ডলারের নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ঘোষণা করেছেন, জোটের সামরিক বাহিনী ‘ড্রোন-রেডি’ বা ড্রোনের জন্য প্রস্তুত। তিনি জানিয়েছেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি আগামী পাঁচ বছরে ড্রোন-বিধ্বংসী সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ দেখিয়ে মার্ক রুত্ত বলেন, আধুনিক সমর কৌশলের চরিত্র মৌলিকভাবে বদলে যাচ্ছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রধান উপাদান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যও একই পথে এগোচ্ছে। জুনের শেষে প্রকাশিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে ও ড্রোনের রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রায় ৬৭০ কোটি ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

এদিকে, জার্মানি ইউক্রেনের জন্য সহায়তা বাড়িয়েছে। প্রতিরক্ষা সফটওয়্যার নির্মাতার কোম্পানি ‘অটেরিয়ন’ ও ইউক্রেনীয় ড্রোন নির্মাতা ‘স্কাইফল’ ৫০ হাজার ড্রোনের বড় একটি ক্রয়াদেশ পেয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৯ কোটি ইউরো। ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্য দেশ হিসেবে জার্মানি এ বিপুল পরিমাণ ড্রোনের অর্ডার দিয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই ড্রোনগুলোতে অটেরিয়নের বিশেষ স্বয়ংক্রিয় অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হবে।

অটেরিয়নের প্রধান নির্বাহী লরেঞ্জ মেয়ার বলেছেন, মানব ইতিহাসে ড্রোন প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার পর এটাই প্রথম যুদ্ধ, যেখানে সামরিক ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির প্রভাব এত বড়। মেয়ার বলেন, বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রের সমীকরণ সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অটেরিয়নের অপারেটিং সিস্টেমের কারণে শত্রুপক্ষের ‘ইলেকট্রনিক জ্যামিং’ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টার মুখেও এই ড্রোনগুলি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘শত্রুপক্ষের জ্যামার সক্রিয় থাকলেও, যেখানে ভিডিও সিগনাল হারিয়ে যেত এবং ড্রোনের লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত, আমাদের প্রযুক্তির কারণে এখন জ্যামার থাকার পরেও ড্রোন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে।’ পাহাড় বা উপত্যকায় যেখানে রেডিও তরঙ্গ পৌঁছায় না, সেখানে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোম্পানিটি এমন আধুনিক সফটওয়্যার তৈরি করছে, যা দিয়ে একজন অপারেটর আলাদা আলাদা ড্রোন নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে পুরো এক ঝাঁক ড্রোনের সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

জার্মানির দেওয়া বড় অর্ডারটি ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য হলেও, মেয়ার বলেছেন, এ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রতি জার্মানি, নরওয়ে, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীও আগ্রহ দেখাচ্ছে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত ও ধ্বংস করতে কম খরচের সাধারণ ড্রোনগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চ প্রযুক্তির দামি অস্ত্রের সঙ্গে মিলিয়ে, যা আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে ড্রোনকে আরও মারাত্মক এবং কার্যকর করে তুলছে।

ড্রোন মুক্ত যুদ্ধের কৌশলে প্রযুক্তির রাজত্ব। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ক্রমাগত ব্যবহার কেবল ড্রোন নির্মাতাদের ভাগ্য বদলাচ্ছে না, বরং এর পেছনে মূল প্রযুক্তির চাহিদা বহুগুণ বাড়িয়েছে। ‘মর্নিংস্টার’-এর বিশ্লেষক লোরেদানা মুহাররেমি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়াল-টাইমে শত শত ড্রোনের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর জন্য এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, এআই, স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য, সেন্সর ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান পাকিস্তানের

ফলস্বরূপ, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল, সফটওয়্যার ও মহাকাশ প্রযুক্তির কাজে যুক্ত কোম্পানিগুলির জন্য ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা বাজেটের সিংহভাগ আসবে। ‘ম্যাককিনসে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর থেকে ইউরোপের মূল প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে। ন্যাটো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপের সামরিক বাজেট প্রায় ৮০ হাজার কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে পারে, যা মহাদেশটির মোট জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

ইউরোপ ও আমেরিকার দু'প্রান্তে ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ উল্কার গতিতে বেড়েছে। ম্যাককিনসে বলেছে, আগের বছরের তুলনায় এই খাতে বিনিয়োগের চুক্তির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপে যেখানে ২০২১ সালের ২০ কোটি ইউরো থেকে ২০২৫ সালে ২৬০ কোটি ইউরোতে গিয়ে ঠেকেছে।

এ প্রসঙ্গে, জার্মানির মিউনিখভিত্তিক ‘হেলসিং’ উল্লেখযোগ্য সুবিধাভোগী। সম্প্রতি কোম্পানিটি নতুন তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের বাজার মূল্য এক হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপের সবচেয়ে ধনী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল হেলসিং। ড্রোন ও পানির নিচের নজরদারি যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করে কোম্পানিটি। একইসঙ্গে সামরিক খাতে পরিচালনার জন্য এআই ও স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরি করে।

এই অভাবনীয় উত্থান নির্দেশ করে যে, ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন প্রচলিত ভারী সামরিক সরঞ্জাম বা হার্ডওয়্যারের তুলনায় সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ওপরই তাদের কৌশল নির্ভর করছে।

সূত্র: সিএনবিসি, ডয়চে ভেলে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন হামলা হলে ভয়াবহ পালটা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১১ এম


মার্কিন হামলা হলে ভয়াবহ পালটা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়ন করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোও ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’

জোলফাগারি অভিযোগ করে বলেন, ‘অপরাধী আমেরিকা’ এখনো এই অঞ্চলে আইন লঙ্ঘন ও অস্থিতিশীলতা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কোন পরিস্থিতিতেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো বিদেশি ও বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ‘এটি ইরানের অটুট লাল রেখা (রেড লাইন)।’

ইরানের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে ইরানের ধৈর্যের কারণে এখনো যেসব অবকাঠামো টিকে আছে—অর্থাৎ পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো—সেগুলো ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাবে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'শত্রুর জানা উচিত, আমাদের জন্য কঠিন সময় মানেই পিছু হটার সময় নয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া কোনো সাধারণ পালটা হামলা হবে না; বরং তা হবে আরও শক্তিশালী, ব্যাপক ও ভয়াবহ আঘাত।'

তথ্যসূত্র: মেহের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ এম


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান পাকিস্তানের

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান সহিংসতা বন্ধ করে আবার আলোচনায় ফিরে আসার জন্য পাকিস্তান দুই দেশকে উৎসাহিত করতে চলেছে।

এ এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসাইন আন্দ্রাবি।

তিনি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়ে বলবে যে, সহিংসতা বন্ধ করে সেই সমঝোতা অনুযায়ী কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হবে।

আন্দ্রাবি আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানো নিয়ে পাকিস্তান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। পাকিস্তান পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা বিশ্বাস করে, বিরোধ নিষ্পত্তির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আলোচনা এবং কূটনৈতিক সংলাপ।

তাহির হুসাইন আন্দ্রাবি আরও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, চলমান সংঘাত কারও স্বার্থে নয়। পাকিস্তান আশাবাদী যে, সব পক্ষ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মতপার্থক্যের সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জুলাই শহিদ দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নীলফামারী স্টাফ রিপোর্টার রায়হান আলী

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ এম


নীলফামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জুলাই শহিদ দিবস

গভীর শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে নীলফামারীতে পালিত হয়েছে জুলাই শহিদ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় শহরের বিডি হল সংলগ্ন জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন। এ সময় জুলাইয়ের শহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

এরপর নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই যোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পর্যায়ক্রমে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। তিনি বলেন, জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁদের আদর্শ, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগ থেকে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। শহিদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে তাঁদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও বেগবান করেছে। তাঁদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে জেলার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জুলাই যোদ্ধা এবং সুশীল সমাজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%