ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাশিয়া সফরে ট্রাম্পের সিআইএ প্রধান, গুঞ্জন ও কৌতূহল বিশ্ব রাজনীতিতে


রাশিয়া সফরে ট্রাম্পের সিআইএ প্রধান, গুঞ্জন ও কৌতূহল বিশ্ব রাজনীতিতে

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ সম্প্রতি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অঘোষিত সফর করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তার মস্কোতে পৌঁছানোর খবরটি বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএসের একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনা থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটে, যার ফলে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকগুলি অত্যন্ত বিরল হয়ে পড়েছে।

সিআইএ প্রধানের সফরের সময় তিনি কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বা সফরের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা মস্কোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সফরের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে এই উদ্যোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

মার্কিন প্রতিনিধিদল মস্কো থেকে নিরাপদে ফিরে না আসা পর্যন্ত ইউক্রেনকে সকল ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী ‘সি-১৭’ পরিবহন বিমান লাটভিয়ার রিগা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে এবং মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় যে, একটি সুরক্ষিত কূটনৈতিক গাড়িবহর মস্কো শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে যাচ্ছে। দিনভর অবস্থান শেষে একই দিনে বিমানটি পুনরায় রিগায় ফিরে যায়।

মস্কোতে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ব্রিটিশ সামরিক অ্যাটাশে জন ফোরম্যান মনে করেন, হঠাৎ করে আয়োজিত এই সফরের পেছনে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ‘উত্তেজনা কমানোর’ প্রচেষ্টা থাকতে পারে। সম্প্রতি জার্মানিতে ড্রোন অনুপ্রবেশসহ একাধিক ঘটনার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এছাড়া, এই সফরের আরেকটি সম্ভাব্য বড় কারণ হতে পারে রাশিয়ায় আটক মার্কিন বন্দিদের মুক্তি। সিআইএ প্রধান র‍্যাটক্লিফ এর আগে বন্দি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ইউক্রেন সমর্থনের অভিযোগে কারারুদ্ধ রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সিআইএ প্রধানের এই আকস্মিক সফর ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৌঘাঁটির কাছে রুশ নাগরিকের বাড়ি দখল করতে চায় সুইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ এম


নৌঘাঁটির কাছে রুশ নাগরিকের বাড়ি দখল করতে চায় সুইডেন

নৌঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, সুইডেনের সশস্ত্র বাহিনী সরকারের কাছে একটি রুশ নাগরিকের মালিকানাধীন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সুপারিশ করেছে। রাজধানী স্টকহোমের দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ‘মুসকো’ নৌঘাঁটির নিকটবর্তী একটি সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন প্লট অধিগ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

 

রাশিয়ান ড্রোন হামলা এবং সন্দেহজনক মালিকানার কারণে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সুইডিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিবিসি জানাচ্ছে, রাশিয়ার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা এক ধনকুবের ব্যবসায়ী মুসকো দ্বীপে বিলাসবহুল একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন। যদিও আইনি নথিপত্রে বাড়িটির নিবন্ধিত মালিক তার স্ত্রী, যিনি রাশিয়া ও সুইডেন উভয় দেশের নাগরিক।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক আক্রমণের পর, দীর্ঘ দুই শতাব্দীর সামরিক নিরপেক্ষতা ভেঙে সুইডেন ন্যাটোতে যোগদান করেছে।

 

সেনাবাহিনীর মতে, রাশিয়ার আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির উত্থান সুইডেনের জন্য নতুন নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করেছে।

সুইডিশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ড্রোন হামলা প্রতিহত করা এবং মুসকো নৌঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য এই নির্দিষ্ট জমিটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘এসভিটি’ জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে এই বাড়িটি সুইডিশ সামরিক বাহিনীর জন্য একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পল জনসন নিশ্চিত করেছেন যে, দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো গোপন তথ্য যাতে বাইরে না যায় এবং প্রতিপক্ষ যাতে কোনো কৌশলগত সুবিধা না পায়, তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

 

সুইডিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ কার্ল-জোহান এডস্ট্রম সতর্ক করে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সুইডেন বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ ও সংকটময় নিরাপত্তা পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে।

তবে, ওই রুশ ব্যবসায়ী বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে বাড়িটির মালিকানা তার স্ত্রীর নামে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধ থেকে অর্থ উপার্জন করছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৩ এম


ইরান যুদ্ধ থেকে অর্থ উপার্জন করছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। এই অভিযোগটি করেছেন মার্কিন সেনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন।

ভ্যান হোলেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য, একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে এই দাবি করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছরে তেল ও গ্যাস খাতে থাকা সম্পদ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লাভ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ (১৫.৫ মিলিয়ন) ডলার হতে পারে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ভ্যান হোলেন এমএসএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাম্প যে অবৈধ যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা থেকে তিনি নিজে মুনাফা লুটছেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসকে ব্যক্তিগত মুনাফা লাভের আখড়ায় রূপান্তরিত করেছেন এবং পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে “এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পকেটে পুরেছেন।”

ভ্যান হোলেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি অর্থহীন যুদ্ধ কাজে লাগিয়ে তিনি চরমভাবে মুনাফা কামাচ্ছেন।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে চার খুন, মা-মেয়ের মরদেহের ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৮ এম


রংপুরে চার খুন, মা-মেয়ের মরদেহের ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত নেই

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় মা ও মেয়ের মরদেহের ফরেনসিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চারজনের মরদেহে গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চার মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যই উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, "আমরা কোনো সেক্সুয়াল অ্যাসল্টের সাইন পাইনি।" ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠানো স্যাম্পলগুলোতেও এ ধরনের কোনো এভিডেন্স পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আরও জানান, চারটি মরদেহেই বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল। সবার গলায় দাগ পাওয়া গেছে। কিছু মরদেহের বুকে ও মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে এসব আঘাত মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

তিনি বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধারের পর অনেক দেরিতে মর্গে পৌঁছায়। ততক্ষণে সেগুলো পচন প্রক্রিয়ায় চলে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারজনেরই মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে।

মরদেহের মুখ কালো হয়ে যাওয়ার বিষয়ে ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, "এটি কোনো কেমিক্যাল বা অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়ার ঘটনা নয়।" পচন প্রক্রিয়ার কারণে শরীরের যে অংশ খোলা বা এক্সপোজড থাকে, তা ধীরে ধীরে কালো হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় ঘণ্টা বা মিনিট ধরে বলা সম্ভব নয়। কেবল একটি আনুমানিক সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়। চারজনের মধ্যে কে আগে বা পরে মারা গেছেন, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

এর আগে, রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গের এক ডোম একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, নিহত আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার মা প্রীতিলতা চক্রবর্তীর শরীরেও ধর্ষণের আলামত ও বীর্যের উপস্থিতির দাবি করেন তিনি। পরে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, "ভ্যাজাইনাল সোয়াব নেওয়ার সময় ওই ব্যক্তির মনে হয়ে থাকতে পারে যে পরীক্ষায় কোনো ফল পাওয়া যাবে।" তবে পরীক্ষার ফলাফলে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদও জানিয়েছিলেন, নিহত মা ও মেয়ের শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে তার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজন পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আলোচিত এ মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির ওসি জিনাত আলী বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে ৪ খুন: আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সীমান্ত, দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৩ এম


রংপুরে ৪ খুন: আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সীমান্ত, দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির বন্ধু সীমান্ত চন্দ্র দাস আদালতে সাক্ষী হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ জানায়, তার জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের রাতে গ্রেপ্তার দুই আসামির ইয়াবা সেবনের বিষয়টি উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে সীমান্তের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

সীমান্ত চন্দ্র দাস নগরের মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের পুত্র। তিনি গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু এবং নগরের একটি মার্কেটে কাপড়ের দোকানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাক্ষী হিসেবে সীমান্ত তার বাবার সঙ্গে আদালতে এসে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামির জবানবন্দির মধ্যে মিল পাওয়া গেছে। আসামিরা হত্যাকাণ্ডের রাতে সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে যে তথ্য দিয়েছিল, সীমান্তও তার জবানবন্দিতে একই ধরনের তথ্য প্রদান করেছেন।

এর আগে গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিল।

এদিকে, গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্ট করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, ডোপ টেস্টের জন্য ডকেট পাওয়ার পর ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষের মনে থাকা সব প্রশ্নের উত্তর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খোঁজা হবে এবং এ মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

গত রোববার মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। পরে মামলাটির তদন্তভার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী।

প্রসঙ্গত, রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। পরে তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখতেন।

গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%