ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে অমিত শাহের বিস্ফোরক মন্তব্য


রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে অমিত শাহের বিস্ফোরক মন্তব্য

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কখনোই দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের বিরোধিতা করার জন্য তীব্র সমালোচনা করেছেন। অমিত শাহ অভিযোগ করেছেন যে, কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক রক্ষা করতেই এসআইআরের বিরোধিতা করছে।

সোমবার হায়দরাবাদে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ এসব কথা বলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কারণে কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত হচ্ছে বলে দাবি করলে, যেসব রাজ্যে তারা ক্ষমতার বাইরে রয়েছে, সেখানে কেন তারা সরকার গঠন করতে পারছে না?

অমিত শাহ বলেন, কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীরা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনুপ্রবেশকারীরাই কংগ্রেসের ভোটের প্রধান ভরসা। ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যেই তারা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতা করছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতেই কংগ্রেস এমন অবস্থান নিয়েছে।

আরও পড়ুন: হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে তিন তেলবাহী ট্যাংকার বিধ্বস্ত: আইআরজিসির দাবি

রাহুল গান্ধীর ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার দাবিও অমিত শাহ নাকচ করেন। তার দাবি, বাদ পড়া নামগুলোর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ২৫ লাখ মানুষ অন্যত্র চলে গেছেন এবং প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ থেকে ৩ কোটি মানুষ মারা গেছেন।

এ প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যারা অন্য এলাকায় চলে গেছেন, তাদের কি একাধিক জায়গায় ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত? যারা মারা গেছেন, তাদের নাম কি ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়া প্রয়োজন? মৃত ব্যক্তিদের হয়ে শেষ পর্যন্ত কারা ভোট দেবেন?

এদিকে, তেলেঙ্গানার কংগ্রেস সরকারকেও আক্রমণ করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের সম্পদকে দিল্লির ক্ষমতাকেন্দ্রের জন্য ‘এটিএম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এছাড়া, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোটের (ইউপিএ) সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অমিত শাহ বলেন, ওই সরকারের আমলে ১২ লাখ কোটি রুপির দুর্নীতি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, ৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: ড. মারুফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


সরকার ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: ড. মারুফ

বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ মন্তব্য করেছেন যে, সরকার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খন্দকার মারুফ বলেন, "গণতন্ত্রের প্রথম পাঠশালা হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।" তিনি সতর্ক করেন যে, যদি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি দুর্বল হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারসহ কোনো নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪ সালে একদলীয় নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন করেছে। এইভাবে তারা ১৭ বছর ধরে ক্ষমতা ধরে রেখেছিল। তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশের অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে পালিয়ে গেছেন।"

স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. খন্দকার মারুফ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের পৃথক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার স্থানীয় সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম।

তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট নির্মাণ, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক কাজগুলো সম্পন্ন করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।

ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায় থেকেই রাজনৈতিক সচেতনতা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতা গড়ে ওঠে।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সৎ, মেধাবী এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী এই প্রার্থী বাছাই কার্যক্রমের প্রথম দিন রোববার দাউদকান্দি উপজেলা সদরের মারুফ ভিলায় এবং দ্বিতীয় দিন সোমবার গৌরীপুরে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে বিশেষ সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল হাশেম। এ সময় বিএনপি নেতা ভিপি জাহাঙ্গীর আলম ও যুবদল নেতা রোমান খন্দকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জ পার হতে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা : মো. তারেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


গোপালগঞ্জ পার হতে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা : মো. তারেক

গোপালগঞ্জ পার হওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান মন্তব্য করেন, ভারত পার হলে তারা কি জয় শ্রীরাম বলবে।

তিনি সম্প্রতি জাপান থেকে দেশে ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন। মো. তারেক রহমান আরও জানান, "আমার স্যার বলছিলেন, আমাদের দেশে কেউ ইসলামিক শাসন চাইলে সেটাও হবে, ডানপন্থী চাইলে সেটাও হবে, বামপন্থী চাইলে সেটাও হবে। কিন্তু আমার মনে হয় এ দেশের মানুষ মুনাফিকপন্থী শাসন চায় না।"

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "আমাদের এই আন্দোলন সংগ্রামে অনেকে অনেক কিছু হারিয়েছেন। কেউ ব্যবসা হারিয়েছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ সম্পদ হারিয়েছেন, কেউ অত্যাচার নিপীড়নের কারণে বাবা-মার সেবা-যত্ন করতে পারেনি। বাবা মারা গেছে, জেলখানায় ছিলেন বলে দেখতেও পারেনি।" তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করার অনুরোধ জানান, যেভাবে তিনি তাকে অ্যাড্রেস করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. ইয়াহইয়ার রহমানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. ইয়াহইয়ার রহমানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (ওওঊজ) এর সাবেক পরিচালক এবং টিকাটুলি জামে মসজিদের খতিব, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. ইয়াহইয়ার রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার তাঁর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালন করবেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে অসাধারণ অবদানের জন্য ২০০৫ সালে তিনি “শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক” হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন এবং সরকার কর্তৃক বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হন।

প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম. ইয়াহইয়ার রহমান ১৯৪৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের গোলখালী গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি শৈশব থেকে বেড়ে ওঠেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী গ্রামে। তাঁর পিতার নাম হাফেজ সুলতান উদ্দিন সরদার এবং মায়ের নাম আমিনা সুলতানা। তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত, শান্ত স্বভাবের, পরোপকারী এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ১৯৮২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধীনে প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ এছহাকের তত্ত্বাবধানে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করেন।

এরপর তিনি সউদী আরব সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘এরাবিক এক্সপার্ট’ হিসেবে রিয়াদে যান। ১৯৮৪ সালে রিয়াদের কিং সউদ ইউনিভার্সিটি থেকে ডিপ্লোমা ইন এরাবিকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ মুস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। ইউনিভার্সিটি অব গ্রেটার ম্যানচেস্টার ইংল্যান্ডের লেকচারার খালিদ ইয়াহইয়া, যিনি মরহুমের বড় ছেলে, পিতা ড. ইয়াহইয়ার রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তানে চীনা বিনিয়োগে তালেবান সরকার লাভবান, স্থানীয়দের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


আফগানিস্তানে চীনা বিনিয়োগে তালেবান সরকার লাভবান, স্থানীয়দের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত

আফগানিস্তানে খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে তালেবান সরকার অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তবে, এসব প্রকল্পের ফলে স্থানীয় জনগণের জমি, পানির অধিকার এবং জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের আয় থেকে তারা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর পশ্চিমা দেশগুলো দেশটিতে তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমিয়ে দেয়। তবে চীন কাবুলে দূতাবাস খোলা রেখেছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ার পর আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের সুযোগও চীন দেখছে।

চীনের সঙ্গে তালেবান সরকারের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর শর্তের মুখে পড়লেও চীন তুলনামূলকভাবে কম শর্তে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে। বর্তমানে চীন আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।

খনিজ সম্পদে চীনের আগ্রহ

আফগানিস্তানের তেল এবং তামার খনিতে চীনা কোম্পানিগুলোর আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তালেবান সরকার চীনের জিনজিয়াং সেন্ট্রাল এশিয়া পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড গ্যাস কম্পানির সঙ্গে আমু দরিয়া অববাহিকায় তেল উত্তোলনের জন্য ২৫ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করে। কোম্পানিটি সেখানে ৫৪ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এছাড়া, লোগার প্রদেশের মেস আয়নাক তামার খনিতেও চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৮ সালে আগের আফগান সরকারের কাছ থেকে ৩০ বছরের জন্য খনিটির ইজারা পেয়েছিল একটি চীনা কনসোর্টিয়াম। নিরাপত্তা, শ্রম এবং পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যায় দীর্ঘদিন প্রকল্পটির কাজ আটকে ছিল। ২০২৪ সালে তালেবান সরকার প্রকল্পটি আবার চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।

তবে, খনিজ সম্পদ উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কোম্পানিগুলোর বিরোধ বাড়ছে। ২০২৩ সালের আগস্টে উত্তর আফগানিস্তানের তাখার প্রদেশের চাহ আব জেলায় সামতি সোনার খনির ইজারা দেওয়া হয় একটি চীন-আফগানিস্তান কোম্পানিকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখানে খনন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলবে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খনির কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পানির উৎসে প্রবেশাধিকার কমছে এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বদাখশান প্রদেশেও চীনা অংশীদারিতে সোনা উত্তোলন নিয়ে জমি এবং পানির অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবাদ দমনের অভিযোগ

খনি প্রকল্প নিয়ে অসন্তোষ একপর্যায়ে সংঘর্ষেও গড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তালেবান কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহ আব জেলায় সংঘর্ষে তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং একটি খনি কোম্পানির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, খনির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কোম্পানিটির নাম বা মালিকদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও চীনা কোম্পানির সঙ্গে খনি চুক্তির কারণে সম্পত্তির ক্ষতি এবং প্রকল্পের আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেছিলেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তারা প্রতিকার পাননি।

খনি এলাকার বাসিন্দারা রাস্তা, পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নও দাবি করেছেন। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের প্রতিবাদ তালেবান কর্তৃপক্ষ দমন করেছে।

তালেবানের সঙ্গে চীনের রাজনৈতিক সম্পর্ক

চীন এখনও তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে। ২০২৩ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর চীন প্রথম নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তালেবান সরকারের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।

২০২৬ সালের এপ্রিলে চীনের উরুমকিতে তালেবান এবং পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করে বেইজিং। এতে আঞ্চলিক কূটনীতিতে চীনের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়।

তবে, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তালেবানের ওপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা সীমিত। নারী অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তালেবান ব্যর্থ হলেও বেইজিং সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এতে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে আন্তর্জাতিক চাপ দুর্বল হতে পারে বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

চীনের কৌশলগত স্বার্থ

আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর পেছনে চীনের নিরাপত্তাগত স্বার্থও রয়েছে। বিশেষ করে জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ঠেকাতে তালেবানের সহযোগিতা চায় বেইজিং। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টের (ইটিআইএম) সদস্যরা আফগানিস্তানে চলাচল করছেন এবং তাদের একটি অংশ বদাখশান প্রদেশে অবস্থান করছেন।

এছাড়া, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ফিরে আসার সম্ভাবনাও চীনের উদ্বেগের কারণ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চীন, রাশিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান আফগানিস্তান এবং এর আশপাশে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর আফগানিস্তান পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়েও ২০২৫ সালের মে মাসে তিন দেশ সম্মত হয়। তবে সম্প্রসারণের কাজ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৬ সালের অক্টোবরে তালেবান সরকার চীনের সীমান্তের দিকে ওয়াখান করিডরে ১২১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নুড়িপাথরের সড়ক উদ্বোধন করে। সেখানে এখনও বাণিজ্যিকভাবে সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা চালু হয়নি।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ চীনে নেওয়া সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ এবং বাজারের জন্য চীনের ওপর আফগানিস্তানের নির্ভরতাও বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনের লেখক নাতিক মালিকজাদার মতে, চীনের বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সহায়তা তালেবান সরকারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে। অথচ যেসব এলাকার সম্পদ উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখানকার মানুষের প্রকল্পের শর্ত নির্ধারণে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে আফগানিস্তানের সম্পদ থেকে আয় বাড়লেও স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রায় তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না।

ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট অবলম্বনে লিখেছেন সাংবাদিক নাতিক মালিকজাদা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%