প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ মন্তব্য করেছেন যে, সরকার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, "গণতন্ত্রের প্রথম পাঠশালা হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।" তিনি সতর্ক করেন যে, যদি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি দুর্বল হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারসহ কোনো নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪ সালে একদলীয় নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন করেছে। এইভাবে তারা ১৭ বছর ধরে ক্ষমতা ধরে রেখেছিল। তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশের অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে পালিয়ে গেছেন।"
স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. খন্দকার মারুফ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের পৃথক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার স্থানীয় সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট নির্মাণ, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক কাজগুলো সম্পন্ন করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায় থেকেই রাজনৈতিক সচেতনতা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতা গড়ে ওঠে।
আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সৎ, মেধাবী এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী এই প্রার্থী বাছাই কার্যক্রমের প্রথম দিন রোববার দাউদকান্দি উপজেলা সদরের মারুফ ভিলায় এবং দ্বিতীয় দিন সোমবার গৌরীপুরে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে বিশেষ সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল হাশেম। এ সময় বিএনপি নেতা ভিপি জাহাঙ্গীর আলম ও যুবদল নেতা রোমান খন্দকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন