০৯:০৬ এম
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় কমনরুমের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্যাম্পাসে মোট তিনটি ছাত্রী কমনরুম রয়েছে, যা নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় একেবারেই অপ্রতুল। জায়গার অভাবের পাশাপাশি, কমনরুমগুলোর ভগ্নদশা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শহীদ সাজিদ ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ এবং সমাজকর্ম বিভাগে একটি করে মোট তিনটি ছাত্রী কমনরুম চালু রয়েছে। সমাজকর্ম বিভাগের কমনরুমটি এত ছোট যে, সেখানে একসঙ্গে ৫ থেকে ৬ জনের বেশি শিক্ষার্থী বসতে পারেন না। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর চাপ সামলানো এই ক্ষুদ্র কক্ষটির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে উক্ত বিভাগের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সংকীর্ণ জায়গায় গাদাগাদি করে বসতে হয়। ওয়াশরুমের অবস্থা অপরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নয়। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসারও কোনো ব্যবস্থা এখানে নেই।"
অন্যদিকে, নতুন ভবনের নিচতলায় মাত্র একটি কমনরুম রয়েছে, যেখানে প্রায় চার হাজার নারী শিক্ষার্থী উপস্থিত। ওপরের তলাগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন নিচতলায় এসে কমনরুম ব্যবহার করা বেশ কষ্টসাধ্য। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া জানান, "কমনরুমটি নিচতলায় অবস্থিত হওয়ায় অনেকেই সেখানে যাওয়ার সুযোগ পান না।" শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বিবেচনায় ঘরের আয়তন খুবই ছোট এবং নাগরিক সুবিধারও তীব্র অভাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ আহমেদ আটক
বিজ্ঞান অনুষদের কমনরুমেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের লাইটগুলো ভাঙা, টয়লেটের পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক এবং চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজা বলেন, "শিক্ষার্থীর তুলনায় বসার জায়গা অপ্রতুল হওয়ায় গাদাগাদি করে বসতে হয়। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট রয়েছে এবং ওয়াশরুম ব্যবহারের উপযোগী নয়।"
এছাড়া, কলা অনুষদ ও ভাষা শহীদ রফিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ছাত্রীদের জন্য কোনো কমনরুমের ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. কে এ এম রিফাত হাসান বলেন, "আমাদের দপ্তরের অধীনে পর্যাপ্ত ক্লিনার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় সরাসরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে।" তিনি আরও বলেন, "পর্যাপ্ত অফিসিয়াল কর্মী না থাকায় অনুরোধের ভিত্তিতে অন্য কাজ শেষে সাময়িকভাবে পরিষ্কার করানোর চেষ্টা করা হয়।"
এ ছাড়া, ওয়াশরুমের ফিটিংস মেরামত বা মেইনটেন্যান্সের কাজগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের ওপর নির্ভরশীল। এসব কাজের জন্য আমাদের দপ্তরের কোনো পৃথক জরুরি বাজেট নেই। তবে আমরা একটি জরুরি ‘রিভলভিং বা ক্যাশ বাজেট’ ব্যবস্থার প্রস্তাব জানিয়েছি, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছোটখাটো সংকটগুলোর সমাধান করা সম্ভব হয়।
কমনরুমের সংখ্যা বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসে সার্বিকভাবেই তীব্র জায়গার সংকট রয়েছে। অনেক জায়গায় নতুন ক্লাসরুমেরও স্থান সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে আপাতত নতুন কোনো ভবন বা স্থানে আলাদা কমনরুম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।"
আরও পড়ুন: ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে, লাহোরের পর স্থান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন