ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দাবি পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরান


দাবি পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরান

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী রোববার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের উত্থাপিত দাবিসমূহ পূরণ না করা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে না।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল হামলা চালানোর পর থেকে ইরান কার্যকরভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথটি অবরোধ করে রেখেছে এবং তারা যাতায়াতের জন্য টোল আদায় করতে চায়। তারা এমন জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালাতে চায় যেগুলোকে নিজেদের পছন্দের পথ এড়িয়ে যাওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করছে।

যুদ্ধের আগে অবাধ চলাচলযোগ্য জলপথের ওপর হামলার কারণে এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে পরবর্তীতে জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলীতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে শান্তি আলোচনার একটি পথরেখা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: মার্কিন দূত উইটকফের পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বুধবার

তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাকের যুলকাদর শনিবার প্রণালীটি পুনরায় খোলার জন্য বেশ কিছু শর্ত জনান। এই শর্তগুলোতে লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন এবং ইরাকে ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং আগ্রাসন বন্ধ করার কথাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে যে, তিনি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা বাতিল, জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণেরও দাবি করেছেন।

রোববার ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ঘোষণা করেছে যে, তাদের কৌশল হলো এই অবরোধ বজায় রাখা, ‘যতদিন না শত্রু আমাদের সমস্ত শর্ত মেনে নেয়... এই প্রণালীটি এখন আমাদের জন্য কেবল একটি জলপথ নয়, বরং প্রকৃতপক্ষে একটি যুদ্ধক্ষেত্র।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি, যিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ বলেও উল্লেখ করেছিলেন, রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কথা অস্বীকার করে বলেন, তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ‘বার্তা বিনিময়’ করছে।

আরও পড়ুন: ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, জানালেন ট্রাম্প

চলমান হামলার কারণে হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে যে, প্রণালীটি অতিক্রম করার সময় ইরান তাদের জাতীয় তেল কোম্পানির একটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।

পরে শনিবার, ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায় যে, ওমানের উপকূলে একটি জাহাজ নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও তারা একই জাহাজের কথা বলছে কিনা তা পরিষ্কার ছিল না।

শনিবার ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের নাম উল্লেখ না করে ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর বারবার হামলার’ নিন্দা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যবস্থা সংক্রান্ত চলমান আলোচনা এগিয়ে চলেছে’, এবং এই অগ্রগতিকে বিপন্ন করতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জুনে স্বাক্ষরিত ইরান-মার্কিন চুক্তিতে বলা হয়েছিল যে, তেহরান এবং মাস্কাট অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এবং ‘প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে’ প্রণালীটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত করবে। এই আইন সাধারণত এই ধরনের জলপথে টোল আদায় নিষিদ্ধ করে।

আরাকচি বলেছিলেন যে, প্রণালীটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে’।

হরমুজে ইরান যখন নৌচলাচল সীমিত করে দিচ্ছে, তখন ইয়েমেনে তার হুথি মিত্ররা লোহিত সাগরে সৌদি বন্দরগুলোর ওপর একটি সমান্তরাল সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। এটি তেল রপ্তানিকারক এই বৃহৎ দেশটির জন্য একমাত্র অন্য সামুদ্রিক পথ।

আরও পড়ুন: দেশের ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫.০৭ মেগাওয়াট

সৌদি আরব সেই স্থানের আগুন নিভিয়ে ফেলার ঘোষণার পর, হুথিরা রবিবার দেশটির লোহিত সাগর উপকূলে একটি সৌদি তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে যুদ্ধে সমর্থন দিয়ে আসছে। জাতিসংঘের সমর্থনপুষ্ট ২০২২ সালের একটি চুক্তির কারণে যুদ্ধটি স্থগিত ছিল, কিন্তু গত মাসে বিদ্রোহীরা অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে সেই চুক্তিটি ভেস্তে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

সরকার-নিয়ন্ত্রিত মোখার একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, রোববার তিনজন বেসামরিক নাগরিক ও আটজন সামরিক কর্মী নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনি শহরটির বন্দরে হুথিদের হামলায় সমস্ত বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, গোষ্ঠীটি সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ‘সৌদি শত্রু’ সৈন্য ও সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু করেছে।

আরও পড়ুন: ইতালি বিক্ষোভ ও দাঙ্গা দমনে নতুন আইন জারি করেছে

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সৌদি আরবের সযত্নে গড়া স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার সুনামের পাশাপাশি পেট্রোলিয়ামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সামনে এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

শুক্রবার, সৌদি আরব তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিতে ন্যাটো-ধাঁচের একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অনুযায়ী একটি দেশের ওপর যেকোনো আক্রমণকে সমস্ত দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার বলেছেন, তিনি আশা করছেন মিশরও এই চুক্তিতে যোগ দেবে এবং দেশটিকে ‘সকল বিষয়ে একটি স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে একে অপরের সাথে জোটের সদস্যদের মতোই আচরণ করছি।’

আরও পড়ুন: মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩৪

গত মাসে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত একটি মিশরীয় বন্দরে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। এটি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মিশরীয় ভূখণ্ডে এ ধরনের প্রথম হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ফিদান বলেছেন, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি; অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার বলেছে যে এর উদ্দেশ্য হলো ‘যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়া থেকে ভারতে ট্রেন চলাচলের প্রস্তাব, মস্কোর উচ্চাভিলাষী রেল পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


রাশিয়া থেকে ভারতে ট্রেন চলাচলের প্রস্তাব, মস্কোর উচ্চাভিলাষী রেল পরিকল্পনা

মস্কো একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যা রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত সরাসরি রেললাইন চালুর বিষয়টি নিয়ে। দেশটির বার্তা সংস্থা তাসের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন এই সম্ভাবনার কথা জানান।

তিনি বলেছেন, বসফরাস ও হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত পরিবহন ঝুঁকি প্রশমিত করতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত একটি সরাসরি রেল সংযোগ নির্মাণের সম্ভাব্যতা রাশিয়াকে অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত। এই পরিকল্পনার সম্ভাব্য করিডোরগুলো সম্পর্কে আরো বিশদভাবে বলতে গিয়ে খুসনুলিন উল্লেখ করেন, বিকল্প ট্রানজিট পথগুলো তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যেতে পারে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী যেকোনো পথকেই কার্যকর বলে বিবেচনা করা হবে। যদি প্রস্তাবিত নেটওয়ার্কটি বাস্তবায়িত হয়, তবে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সরাসরি রেলপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।

ভারত মহাসাগরের সঙ্গে একটি রেল সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত, যেহেতু বসফরাস ও হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে বিকল্প পথের প্রয়োজন হতে পারে। তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়া যেকোনো বিকল্পই গ্রহণযোগ্য হবে, যোগ করেছেন রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে বিকল্প বাণিজ্য পথের প্রস্তাবটি সামনে এসেছে। চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি তেহরান সহ গুরুত্বপূর্ণ শহর লক্ষ্য করে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এর জবাবে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইন, জর্ডান, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব জুড়ে ইসরায়েলি অবস্থান ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দমন-পীড়নে জাতিসংঘের উদ্বেগ, তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৯ পি.এম


পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দমন-পীড়নে জাতিসংঘের উদ্বেগ, তদন্তের দাবি

পাকিস্তানের কাশ্মীরে সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়ে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের আঘাত বা ক্ষতি করা হলে তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ফারহান হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, সব অঞ্চলের কর্তৃপক্ষকেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকা তুর্কের উত্থাপিত আগের উদ্বেগগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মহাসচিব তার হাইকমিশনারের বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং আমরা অবশ্যই আশা করি যে, মিস্টার তুর্কের আহ্বানগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনা হবে।’

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপের ওপর জবাবদিহির সুনির্দিষ্ট দাবির প্রেক্ষিতে ফারহান হক জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর যেকোনো আঘাত বা ক্ষতির ঘটনা অবশ্যই তদন্ত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সব জায়গার সব কর্তৃপক্ষের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ যে তারা যেন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ দেয় এবং অবশ্যই এই ক্ষেত্রেও সেটি প্রযোজ্য। যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

গত ১৭ জুলাই বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে পাকিস্তানের কাশ্মীরে বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে, মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে এবং সহিংসতার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিবৃতিতে তুর্ক অঞ্চলজুড়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। হাইকমিশনার নথিভুক্ত সমস্ত মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভকারী কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য যেই হোক না কেন, এই মৃত্যুর জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বিক্ষোভ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন 'জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি' (জেকেজেএএসি)-কে নিষিদ্ধ করার পাকিস্তানি সিদ্ধান্তের বিষয়েও তুর্ক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, আটককৃত জেকেজেএএসি নেতাদের অবিলম্বে আইনজীবী এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারকে পুরোপুরি সম্মান জানাতে হবে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পাকিস্তানের কাশ্মিরে চলমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত বুধবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে পাকিস্তানের কাশ্মীরে মৌলিক অধিকারের নির্মম দমনপীড়ন প্রত্যক্ষ করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেখা গেছে যে, স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শান্তিপূর্ণ অধিকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী মারাত্মক সহিংসতা, পরিকল্পিত হত্যা এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশ্রয় নিয়েছে। নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো এই সহিংসতা পাকিস্তানি নীতি নির্ধারকদের চরম ভন্ডামিকে প্রকাশ করে দেয়।

জয়সওয়াল আরো বলেন, চিরাচরিত কূটনৈতিক নাটক করার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত হবে কাশ্মিরে রক্তপাত বন্ধ করা। তাঁদের নিজেদের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং তাঁদের বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা সমস্ত ভারতীয় ভূখণ্ড অবিলম্বে খালি করা। বিশ্ববাসী এই সাজানো নাটকে বিভ্রান্ত হচ্ছে না।

অরাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে গত ৫ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে কাশ্মীরে আন্দোলন চলছে। মূলত মুদ্রাস্ফীতি, লোডশেডিং, আটার ঘাটতি এবং কয়েক দশকের সামরিক দমনপীড়ন, নিপীড়ন, বৈষম্য ও অত্যাচার থেকে সৃষ্ট পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এবারের আন্দোলন। তবে এবারের ৩৮ দফার মূল দাবি হলো সংসদে কাশ্মীরের বাইরে থাকা কাশ্মিরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, এই সংরক্ষিত আসন দিয়েই ইসলামাবাদ বরাবর কাশ্মীরের ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। আন্দোলন শুরুর পর থেকেই ইসলামাবাদ আলোচনার বদলে নিষ্ঠুরতাকে হাতিয়ার করে। আন্দোলনকারীদের পিছু হটাতে সরকার নিষ্ঠুর দমননীতির পাশাপাশি অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী পণ্যের প্রবেশ সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ব্যাংকিং এবং এটিএম সেবাসমূহ অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, কারফিউ জারি করে সরকার কাশ্মীরকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

চলমান সহিংসতায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃক্ষমেলায় প্রায় ১৬ লাখ গাছের চারা বিক্রি হয়েছে: পরিবেশমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


বৃক্ষমেলায় প্রায় ১৬ লাখ গাছের চারা বিক্রি হয়েছে: পরিবেশমন্ত্রী

জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এ রেকর্ড অনুযায়ী প্রায় ১৬ লাখ গাছের চারা বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি মন্তব্য করেছেন, এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী মোট ৭৪টি নার্সারি ছিল। মেলায় দেশের মানুষের সাড়া অভূতপূর্ব ছিল, যা আমাদের অভিভূত করেছে। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বন অধিদফতর এ কাজটি সবুজায়নের উদ্দেশ্যে করছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদফতরে ‘জাতীয় বৃকমেলা ২০২৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আবদুল আওয়াল মিন্টু এসব বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ুর বিরূপ পরিস্থিতি এবং পরিবেশগত তাৎপর্যের কারণে বৃক্ষমেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃক্ষমেলা আজ শেষ হলেও, এর দায়িত্ব কিন্তু শেষ হয়নি, বরং আসল কাজের শুরু মাত্র। আমাদের এ মেলা থেকে কেনা চারা যথাসময়ে রোপণ করতে হবে এবং সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।

এ সময় মন্ত্রী দেশের পরিবেশকে জলবায়ু সহনশীল ও সবুজ নিরাপদ করার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান।

আবদুল আওয়াল মিন্টু আরও বলেন, দেশের পরিবেশগত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শহিদ জিয়া প্রথম সবুজায়ন প্রকল্প চালু করেছিলেন, তিনি শিখিয়েছিলেন কীভাবে পরিবেশ এবং  রক্ষিত রাখতে হয়।

তিনি আরও যোগ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় গত ১৩ জুন কক্সবাজারে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করার কাজ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বাসে এবার মিলবে স্বস্তির যাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


জবি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বাসে এবার মিলবে স্বস্তির যাত্রা

কুমিল্লা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটেছে, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত যে জরাজীর্ণ বাসটি ছিল, সেটি এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কার করা হয়েছে। এ কাজটি করেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।

বাসটির প্রায় ৭০টি আসন সংস্কার করা হয়েছে এবং পুরোনো প্লাস্টিকের সিটের পরিবর্তে নতুন আরামদায়ক ফোমের সিটগুলো লাগানো হয়েছে। বাসের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের যাত্রাকে অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এখন চালু করা হয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই জোন। যাত্রাপথে তাদের জন্য সকালের নাশতা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, "কুমিল্লা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জেনেছি। তাদের প্রায় ৭০ আসনের বাসটি সংস্কার করা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে সিটের সমস্যা ছিল। তাই নতুন করে সিট লাগানোর পাশাপাশি বাসে ওয়াইফাই জোনও তৈরি করে দিয়েছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%