শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৪৩ পি.এম
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দুর্নীতি দূর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।’
কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদে আসার আমন্ত্রণ জানান, যাতে তারা সংসদের কার্যক্রম কাছ থেকে দেখতে পারেন।
তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর তরুণদের দেশের উন্নয়নে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান, যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশাকে নীতিনির্ধারণে যুক্ত করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও নীতিনির্ধারণের অংশ হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্টার্টআপ প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মেধাবীদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট কোনো নাশকতা কিংবা ভীতির আশঙ্কা নেই।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, ‘রাজধানীতে ২৫৭টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গুরুত্ব অনুসারে রাজধানীর মণ্ডপগুলোকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে দিনরাত পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৫৭টি পূজামণ্ডপে সরাসরি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি, মণ্ডপগুলোর আশপাশে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা ও বডিওন ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘উৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমীতে নির্বিঘ্ন পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।’
ডিএমপি কমিশনার সতর্ক করে বলেন, ‘যদি কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি নষ্ট করতে বা পূজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব রোধে ডিএমপির সাইবার টিম প্রস্তুত রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজস্থান বিজেপি প্রধান মদন রাঠোর একটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যদি পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে ভারত পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে। এই মন্তব্যের পেছনে তিনি উভয় দেশের ভৌগোলিক নৈকট্যকে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় রাঠোর বলেন, ‘আমাদের সবারই বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন। দেখুন, ভারতের প্রসঙ্গ এলে আমি বলব, যদি আজ আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়, তবে আমরা পাকিস্তানের পক্ষেই থাকব। কারণ তারা আমাদের প্রতিবেশী।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে যখন আমাদের নিজেদের মধ্যকার কোনো বিষয় সামনে আসে, তখন আমরা আমাদের ভারতের পাশে দাঁড়াই। তাই না? এটাই আমাদের বোঝা প্রয়োজন।’
এদিকে, তার এই মন্তব্যের জন্য কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন, যারা পাকিস্তান সম্পর্কে রাঠোরের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র শামা মুহাম্মদ এই মন্তব্যকে ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, রাজস্থান শাখার প্রধানের বিরুদ্ধে বিজেপি কী পদক্ষেপ নেবে।
কংগ্রেসের জাতীয় সমন্বয়ক সন্দীপ গুপ্ত অভিযোগ করেছেন যে, রাঠোরের মন্তব্য পাকিস্তানের প্রতি বিজেপির অনুরাগকে প্রকাশ করেছে। তিনি পাকিস্তানকে একটি ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ সন্দীপ লিখেছেন, “রাজস্থান বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোর বলেছেন, ‘আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পক্ষেই থাকবে’। আবারও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি বিজেপির ভালোবাসা প্রকাশ্যে চলে এলো। বিজেপি পাকিস্তানকে ভালোবাসে!”
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে আরও দূরপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে সূত্রের উল্লেখ করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কতগুলো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে, তা এখনও জানানো হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (১৪ অক্টোবর) লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা করেন। শীতের আগে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়, যেখানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট নির্দিষ্টভাবে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি। ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কিয়েভকে মোট কতগুলো স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, লন্ডনে নিযুক্ত রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে কেলিন তাসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, ইউক্রেন সংঘাতে যুক্তরাজ্য জড়িয়ে পড়েছে এবং ন্যাটোর অন্যান্য সদস্যদেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা বেশি হতে পারে।
কেলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ বাহিনী, প্রশিক্ষক এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীন ইসরাইলকে পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ করতে এবং এ ধরনের উদ্যোগ ফিরিয়ে নিতে কঠোর বার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আজারবাইজানে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই দাবিগুলি উত্থাপন করেছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াং ই ফিলিস্তিন সংকটকে বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, সংকটের সমাধানের সঠিক উপায় হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। গাজায় মানবিক বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে অবিলম্বে সেখানে প্রবেশের পথ খুলে দেওয়া প্রয়োজন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যাতে সব পক্ষকে দ্রুত সংলাপে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা যায়।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াং ই আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে চেয়ে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত সেপ্টেম্বরে মিসরের রাজধানী কায়রো সফর করেন। এটি এক দশকের মধ্যে তার প্রথম সফর ছিল। সফরের সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বাইরের শক্তির প্রভাবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার এই সফর ঘটে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির মুখপাত্রের মতে, বৈঠকে যুদ্ধের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। দুই প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানে একটি সমন্বিত চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
এর আগে, গত মার্চে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সমালোচনা করে চীন। বেইজিং অবিলম্বে যৌথ হামলা বন্ধের দাবি জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারকে ওয়াং ই বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। ওই আলোচনায় ইসরাইলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তবে ইসরাইলের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কিনেছে। ২০২১ সালে তেহরানের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে বেইজিং।
একই সময়ে, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও গত এক দশকে সম্পর্ক জোরদার করেছে চীন। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলেরও অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ