প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন ইসরাইলকে পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ করতে এবং এ ধরনের উদ্যোগ ফিরিয়ে নিতে কঠোর বার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আজারবাইজানে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই দাবিগুলি উত্থাপন করেছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াং ই ফিলিস্তিন সংকটকে বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, সংকটের সমাধানের সঠিক উপায় হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। গাজায় মানবিক বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে অবিলম্বে সেখানে প্রবেশের পথ খুলে দেওয়া প্রয়োজন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যাতে সব পক্ষকে দ্রুত সংলাপে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা যায়।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াং ই আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে চেয়ে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত সেপ্টেম্বরে মিসরের রাজধানী কায়রো সফর করেন। এটি এক দশকের মধ্যে তার প্রথম সফর ছিল। সফরের সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বাইরের শক্তির প্রভাবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার এই সফর ঘটে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির মুখপাত্রের মতে, বৈঠকে যুদ্ধের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। দুই প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানে একটি সমন্বিত চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
এর আগে, গত মার্চে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সমালোচনা করে চীন। বেইজিং অবিলম্বে যৌথ হামলা বন্ধের দাবি জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারকে ওয়াং ই বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। ওই আলোচনায় ইসরাইলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তবে ইসরাইলের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কিনেছে। ২০২১ সালে তেহরানের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে বেইজিং।
একই সময়ে, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও গত এক দশকে সম্পর্ক জোরদার করেছে চীন। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলেরও অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন