১১:৪২ পি.এম
বাবা হারানোর বেদনা মানুষের জীবনে অন্যতম গভীর ক্ষত। জীবনের প্রতিটি পথচলার সময় ছায়ার মতো লিওনেল মেসিকে আগলে রেখেছিলেন তার বাবা হোর্হে মেসি। জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কে হারিয়ে, লিওনেল মেসি কি এখন ফুটবল নিয়েও নতুনভাবে ভাবছেন?
বাবার মৃত্যুর পর মেসির হৃদয়স্পর্শী বার্তায় তার অবসরের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন বার্তায়, বাবাকে হারানোর শোক ও অপূরণীয় শূন্যতার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। স্মৃতিচারণায় জানিয়েছেন, শেষ বিশ্বকাপ খেলার জন্য বাবার প্রবল আগ্রহ ছিল। বিশ্বকাপের ফাইনালে জয়ের পর বাবার হাতে ট্রফি তুলে দিতে না পারার আক্ষেপ তার মনে কুরে কুরে খাচ্ছে। প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে ওঠা কথোপকথন আর কখনো হবে না— এই বাস্তবতাও তার শোককে আরও ভারী করছে।
শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, ফুটবলার হিসেবে মেসির যাত্রাপথে বাবার অবদান গভীর। ছোটবেলার দিনগুলো থেকে ক্যারিয়ারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে বাবার উপস্থিতি, সমর্থন ও ত্যাগ উল্লেখ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এখানেই উঠে এসেছে প্রশ্ন— জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে হারানোর পর ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার শক্তি ও আগ্রহ তিনি আদৌ ধরে রাখতে পারবেন তো?
আরও পড়ুন: জ্বরের কারণে প্রথম ম্যাচে না খেলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ফিরছেন মিরাজ
‘তুমি ছাড়া আমি কী করব জানি না, কীভাবে সামনে এগোব বুঝতে পারছি না। আমি শুধু ফুটবল খেলতাম। এখন আমার যথেষ্ট সংশয় আছে যে আমি আর বেশি দিন খেলা চালিয়ে যাব কি না। শুরু থেকেই তুমি আমার পাশে ছিলে, অথচ শেষের দিকে মোটে একটুখানি বাকি ছিল। তুমি আর একটুখানি সময় টিকতে পারলে না কেন, যাতে আমরা একসঙ্গে শেষ করতে পারতাম।’
মেসির এই মহাতারকা হওয়ার পেছনে তার বাবার ত্যাগ, পরিশ্রম ও নিরলস সমর্থন ছিল অপরিসীম। নিজ কাজের ক্লান্তি দূরে সরিয়ে ছোট্ট ছেলেকে নিয়মিত অনুশীলনে নিয়ে যেতেন। ৩৯ বছর বয়সি মেসি পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, তার বাবার সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল পরিবারকে ভালো রাখা এবং ছেলের খেলা উপভোগ করা। কাজের পরও তিনি ছেলেকে অনুশীলনে পৌঁছে দিতেন, যদিও অনেক সময় মেসিকে তার মা নিয়ে যেতেন।
শুধু বাবা হিসেবেই নয়, মেসির জীবনে তার বাবা ছিলেন একই সঙ্গে বন্ধু, অভিভাবক ও এজেন্ট। ক্যারিয়ারে নানা বাঁকে মতের অমিল কিংবা ঝগড়া হলেও বাবার সিদ্ধান্তই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে— সেই সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে মেসি লিখেছেন, জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে তার বাবা ছিলেন, যাকে তার প্রয়োজন ছিল।
বাবাকে হারানোর শোক ধারণ করে, মেসি নিজের সন্তানদেরও একই মূল্যবোধে বড় করার অঙ্গীকার করলেন। বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও আদর্শ তিনি নিজ সন্তানদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান। তাই প্রিয় বাবাকে পাশে না পেলেও, তার শেখানো জীবনবোধ, ভালোবাসা ও পারিবারিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়েই তাকে আজীবন নিজের এবং সন্তানদের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন