০৬:২৩ পি.এম
চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে পাঁচ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
টানা বর্ষণের ফলে জানআলীহাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অগ্রিম কাটা টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ সময় মোট ১১ হাজার ৩৩৭টি টিকিট ফেরত নেওয়া হয়। এর বিপরীতে যাত্রীদের ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৪ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে, যা রেলওয়ের জন্য একটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাজারের দানবাক্স ভেঙে টাকা ও মালামাল চুরি, ক্ষতি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির ফলে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে চলে গেলেও, অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। যাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পানি নেমে গেলে সরেজমিন পরিদর্শনের পর এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। বন্ধের সময় যেসব যাত্রী অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, তাদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৯৫ সালে প্রণীত চট্টগ্রাম নগরের ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনায় শমসেরপাড়াসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে রেললাইনের সমান্তরালে একটি নতুন খাল খনন এবং প্রায় ২০ হেক্টর এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে প্রায় তিন দশকেও এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলা যায় না। ফলে ভারী বর্ষণে শমসেরপাড়া এলাকার রেললাইন পাঁচ দিন পানির নিচে থাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে যাত্রীসেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
এদিকে, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজে উন্নীত করার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরের নিচু এলাকায় রেললাইন প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শন করে জানান, প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেললাইন উঁচু করা হলে ভবিষ্যতে ভারী বর্ষণেও এ রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে।
আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন