মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৯ পি.এম
জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে খেলার মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, যা প্রায় ১২ বছর পর ঘটেছে। মাঠে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিশ্ব রেকর্ড নিজের নামে করেছেন।
ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারের আগে এই রেকর্ডটি ছিল। টেন্ডুলকার ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত ওয়ানডে খেলেছিলেন, যার ফলে তার ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্য ছিল ২২ বছর ৯১ দিন।
২০০৪ সালের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ানডে অভিষেক ঘটে টেলরের। মঙ্গলবার হারারেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একাদশে সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সময়কাল ২২ বছর ১৪৭ দিনে পৌঁছেছে। এর ফলে ৪০ বছর বয়সী এই ব্যাটার টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে খেললে তার রেকর্ডের ব্যবধান আরও বৃদ্ধি পাবে।
তবে, ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও রান সংগ্রহের রেকর্ড এখনও টেন্ডুলকারের দখলে রয়েছে। ৪৬৩টি ওয়ানডেতে তিনি ১৮ হাজার ৪২৬ রান সংগ্রহ করেছেন, যা বিশ্ব রেকর্ড।
অন্যদিকে, টেলর এখন পর্যন্ত ২০৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১টি সেঞ্চুরি এবং ৩৯টি ফিফটি, মোট রান ৬ হাজার ৭০৪।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইকুইটি-বেসড ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদানে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে এই বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, "সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকা এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে, যার জন্য এই সহায়তা শিক্ষা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন।"
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (School Level Improvement Plan-SLIP)-এর কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে সহায়তা করলেই শিক্ষায় প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হয় না। যার প্রয়োজন বেশি, তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা।"
তিনি জানান, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের একটি শিশুর জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বৃত্তি-উপবৃত্তির নীতিতে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা, শিশুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া, তিনি বলেন, "সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো পরিবার যদি আর্থিক সক্ষমতা থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই পরিবারের জন্য একই ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে।"
অন্যদিকে, যে পরিবার সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের শিশুকে সহায়তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সরকারের সীমিত সম্পদকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।"
ববি হাজ্জাজ বলেন, "সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা নয়, কোনো শিশু যেন দারিদ্র্য, আর্থিক সংকট বা অন্য কোনো বাধার কারণে শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে তা নিশ্চিত করা।" তিনি জানান, এ জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, স্কুল ফিডিংসহ সব ধরনের সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে সাঁতার শেখানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, "দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের জলাশয়, নদী ও পানিবেষ্টিত পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বসবাস করতে হয়। তাই সাঁতারকে শুধু একটি ক্রীড়া হিসেবে না দেখে জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
তিনি বলেন, "শিশুকে শুধু বইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; তাকে নিজের জীবন রক্ষা করার প্রয়োজনীয় দক্ষতাও দিতে হবে।"
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালের। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ এবং মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের দাবিতে আটটি দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে শাখা ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় ক্যাম্পাসের বটতলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম, পাঁচ হলের শাখা সভাপতি এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, আবাসিক হল রাজনৈতিক দলের অবৈধ প্রভাব বিস্তারের জায়গা হতে পারে না এবং দলীয় লোকজনকে নিয়মবহির্ভূত আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। হলের সিট পাওয়ার অধিকার একজন শিক্ষার্থীর বৈধ অধিকার, যা মেধা, বৈধতা, জ্যেষ্ঠতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ধারণ হওয়া উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সংগঠনটির প্রধান দাবিসমূহ হলো: বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ করা; রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ বা প্রশাসনিক প্রভাবে সিট বরাদ্দ বন্ধ করা; মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে নিয়মিত সিট বরাদ্দ দেওয়া; ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা এবং হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সিট বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধে প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
এছাড়া, হলগুলোতে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং রাজনৈতিক অপচর্চা মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে। হলের ডাইনিংগুলোতে সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, "আমরা সংঘাত চাই না, ন্যায়সংগত সমাধান চাই। আমরা সিট দখলদারিত্ব বা দলীয় প্রভাব চাই না, মেধা ও বৈধতার ভিত্তিতে আবাসিক ব্যবস্থা চাই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন চাই।" তিনি আরও বলেন, "প্রশাসন যদি এসব দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না নেয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের আয়োজন করবো।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হবে—এমন প্রত্যাশা সত্ত্বেও প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি। নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়নি বলেও জানা গেছে। খসড়াটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বাড়ানো হচ্ছে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন এবং মোবাইল ভাতা।
নতুনভাবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ভাতা চালু করার পাশাপাশি ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতাও বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার ও সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাংলা নববর্ষের ভাতায় কিছুটা কমানো হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন হয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল বেতন ও নিট পেনশন চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির কাজ অর্থ বিভাগ করছে। শিগগিরই এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের যে ১১ সুবিধায় পরিবর্তন ঘটবে তা নিম্নরূপ:
১. বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ছে
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় গ্রেডভেদে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাতা প্রদান করা হবে।
২. বয়সভেদে চিকিৎসাভাতা
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাভাতাও বাড়বে। ৫০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছরের বেশি থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা হবে।
৩. নিম্ন গ্রেডে বেশি বেতন বৃদ্ধি
নতুন কাঠামোয় নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হয়েছে। গ্রেড-৬ ও তার নিচের গ্রেডে ৫ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
৪. সবার জন্য মোবাইল ভাতা
নতুন কাঠামোয় সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন। গ্রেড-৫ ও তার ঊর্ধ্বে ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-৬ ও নিচের গ্রেডে ১৫০ টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫. যাতায়াত ভাতা দ্বিগুণ
বর্তমানে যাতায়াত ভাতা হিসেবে ৩০০ টাকা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হচ্ছে। টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।
৬. প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ভাতা
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন করে ৩ হাজার টাকা ভাতা চালু হচ্ছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ সুবিধা পাবেন।
৭. বাংলা নববর্ষের ভাতা কমছে
নতুন বেতন কাঠামোয় বাংলা নববর্ষ ভাতায় কিছুটা কাটছাঁট করা হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হলেও তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৮. ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা বাড়ছে
প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে নির্ধারণের পাশাপাশি ঝুঁকি ভাতা ও বিশেষ ভাতা ক্ষেত্রবিশেষে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা ও উৎসব ভাতা আগের হারেই বহাল থাকবে।
৯. পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার ভাতা
পাহাড়ি এলাকার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য জেলা সদর ও সদর উপজেলায় এ ভাতার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাওর, দ্বীপ ও চর এলাকায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা আগের মতোই থাকবে। তবে এর সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১০. পেনশন ও গ্র্যাচুইটিতে পরিবর্তন
‘এক গ্রেড এক পেনশন’ পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নিট পেনশনের নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা হবে।
১১. সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ভাতা বাড়ছে
সশস্ত্র বাহিনীর অফিসার ও সদস্যদের জন্য বিভিন্ন ভাতাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ভাতা ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বেশিরভাগ ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিমাণের ওপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, যিনি আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহণ, মজুদকরণ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধকালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করবে।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উল্লেখ করেন যে, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ধরা মাছ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে কি ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের প্রণোদনা দিচ্ছে। এই সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমায় বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে- এটি উদ্বেগের বিষয়। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকবৃন্দ, র্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরসহ জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ