মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২২ পি.এম
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, যিনি আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহণ, মজুদকরণ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধকালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করবে।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উল্লেখ করেন যে, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ধরা মাছ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে কি ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের প্রণোদনা দিচ্ছে। এই সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমায় বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে- এটি উদ্বেগের বিষয়। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকবৃন্দ, র্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরসহ জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : সরকার প্রাথমিক শিক্ষার বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদানে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ইকুইটি-বেসড’ বা ন্যায্যতানির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ : বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (এসএলআইপি)-এর কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এই কর্মশালাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীকে ঢালাওভাবে সমান সহায়তা দিলেই শিক্ষায় সমতা আসে না। যার প্রয়োজন বেশি, তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা। সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকা যেন এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছায়, যার জন্য এই সহায়তা শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার প্রধান সম্বল।’
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিনামূল্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো পরিবার নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতায় সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ায়, তবে তাদের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যেসব পরিবার সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধের তাগিদ দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে নামেমাত্র ভর্তি নয়, বরং দারিদ্র্য বা আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। এ জন্য উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ফিডিংসহ সব কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করা হচ্ছে।’
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাঁতার শেখাকে জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক এই দেশে সাঁতারকে কেবল খেলাধুলা নয়, বরং নিরাপত্তা ও জীবনরক্ষার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালের। মূল গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করার কাজ সম্পন্ন হবে, যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা ১৭ সেপ্টেম্বর অংশীজনদের নিয়ে, যারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এবং যারা নির্বাচন ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের নিয়ে একটি মিটিং করবো। মিটিংয়ের পর কমিশন যে ইনপুট পাবে, সেই ইনপুটের ভিত্তিতে কমিশন (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) তফসিল চূড়ান্ত করবে।’ তিনি আরও জানান, ওইদিন আপনাদেরকে এ বিষয়ে আপডেট তথ্য জানানো হবে। ইনপুট পাওয়ার পর কমিশনই এ বিষয়ে ব্রিফ করবে।
এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে (কক্ষ নম্বর-৫২০), নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সভায় নির্বাচন কমিশনারগণ উপস্থিত থাকবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ক্লাবের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে একই নামে পৃথক কমিটি গঠন,দীর্ঘদিন মাসিক চাঁদা পরিশোধ না করা এবং ক্লাবের সভায় অনুপস্থিত থাকার অপরাধে ঝালকাঠির কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের তিন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা ক্লাবের উন্নয়নমূলক কাজে দীর্ঘদিন যাবত বাধার সৃষ্টি, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরে ক্লাব ও সাংবাদিকতার পেশার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব প্রচারসহ নানাবিধ ষড়যন্ত্র করে আসছেন। সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বহিষ্কৃত তিন সদস্যের নেতৃত্বে কাঠালিয়া প্রেসক্লাব নামে পৃথক একটি সংগঠন গঠন করেন।
বহিষ্কৃতরা হলেন—দৈনিক ইত্তেফাকের কাঠালিয়া উপজেলা সংবাদদাতা মো. আব্দুল হালিম, দৈনিক সমকালের কাঠালিয়া প্রতিনিধি মো. ফারুক হোসেন এবং দৈনিক ইনকিলাবের কাঠালিয়া উপজেলা সংবাদদাতা মো. সাকিবুজ্জামান সবুর।
আজ মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের এক জরুরি সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসউদুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়,ক্লাবের শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক নিয়ম ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে জরুরি সভায় আলোচনা শেষে ওই তিন সদস্যের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত মামলায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি আদালতের অধীনে এবং মামলা নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি কোনো অনুরাগ কিংবা বিরাগের প্রশ্নও নেই।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ এবং এ নিয়ে করা দুটি রিটের প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক জানতে চান, এ পরিস্থিতিতে গ্রামীণ কল্যাণের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারের কোনো বিশেষ বার্তা আছে কি না।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘খেয়াল করবেন, এটা আদালতের ব্যাপার এবং একটু মিসপারসেপশন ছিল। এটা এখন ডিটেইলড অনেকের সামনে এসেছে যে, এই কর মওকুফের ব্যাপারে রায় কী হয়েছিল, সেই রায়টা কেন তখন কার্যকর হয় নাই, ইন্টারিমের সময় ছিল, এখন তাদেরকে দিতে বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ওই কর পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই বলেও তিনি জানান। ‘আদালতের রায় হয়েছে, তাদেরকে ওই করটা দিতে হবে। তারা নিজেরাই বাদী হয়ে এই করটা দিতে চান নাই। সরকারের এখানে আসলে কিছু করার নেই।’
মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও আদালতের নিয়মেই চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের কিছু করার নেই, কারণ এখন যে মামলা তার গতিতে চলবে। তারা হয়তো এটা নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারেন। যদি সেটা তারা সাসটেইন করতে না পারেন, তাহলে তাদেরকে এটা দিতে হবে।’
এ বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকারের কোনো রকম ইনভলভমেন্ট নেই, কারণ ড. ইউনূস বা আর কেউ কারো প্রতি কোনো অনুরাগ-বিরাগের প্রশ্ন নাই।’
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এটা যেহেতু বিচার বিভাগের ব্যাপার, আমরা বিশ্বাস করি এবং আপনারা অনেক ক্ষেত্রেই দেখবেন যে বিচার বিভাগ তার স্বাধীনভাবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা, সেটা তারা করছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালতের ফাঁসির রায় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আলাদা করে কিছু বলার নেই। মামলায় সরকারের প্রসিকিউশন টিম কাজ করছে।
কোনো ব্যক্তির ফাঁসির রায় দেখে আনন্দিত হওয়ার চেয়ে সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা দেখতে চাই অনেকে আমরা বলি না যে, ফাঁসির রায় দেখে আমরা ভীষণ খুশি হয়ে গেছি। কারো ফাঁসির রায় দেখে আসলে ভীষণ খুশি হওয়ার চাইতে যে জিনিসটা ইম্পর্টেন্ট আমার কাছে মনে হয়, সেটা হচ্ছে আমরা আমাদের সমাজের ন্যায়বিচারটা নিশ্চিত করতে পারছি কি না।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে যে বলেছিলাম—আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই, সেটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটা আমরা দেখতে চাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ