হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
১২:০৬ এম
বরিশালের বানারীপাড়ায় বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার ওয়াজেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়রণ ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ে গেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে 'এমভি রাইয়ান' নামের একটি বালুবাহী বাল্কহেড মলুহার ওয়াজেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইলুহার ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আয়রণ ব্রিজের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই এর লোহার পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কার প্রভাবে ব্রিজের মাঝের অংশ ভেঙে গিয়ে খালের মধ্যে পড়ে যায় এবং বাল্কহেডটি ভেঙে পড়া ব্রিজের নিচে আটকে যায়।
ঘটনার তাৎক্ষণিক পর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ইলুহার ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মাহাতাব উদ্দিন। তিনি বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ বায়েজিদুর রহমানকে মুঠোফোনে এই দুর্ঘটনার বিষয়টি অবহিত করেন। ইউএনও’র নির্দেশে এরপর বাল্কহেডটি উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় আটকে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, বাল্কহেডটির মালিক পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীর নান্দুহার গ্রামের রাজিব নামের একজন ব্যক্তি। এর পরদিন রবিবার বিকেলে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান ভেঙে যাওয়া ব্রিজটি পরিদর্শন করেন।
জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় বানারীপাড়া এলাকার ইলুহার এবং উদয়কাঠীসহ ৫টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ চরম বিপাকের মধ্যে পড়েছেন। প্রতিদিন এই ব্রিজের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে হাজার হাজার মানুষ পার্শ্ববর্তী স্বরূপকাঠী উপজেলার বাজার, হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করতেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভেঙে পড়া স্থানে নতুন গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য জোর দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে এলজিইডির বানারীপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান জানান, এই ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ২০২৪ সালে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "এখানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতিপূর্বে ঢাকা অফিসে একাধিকবার প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। তবে এখন যেহেতু বাল্কহেডের ধাক্কায় ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মহোদয়ের মাধ্যমে আবারও নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে এবং দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ বায়েজিদুর রহমান জানান, ব্রিজটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এলজিইডির মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব এখানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যমুনার অন্দরে ও কিনারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্ত পরিচালনা করার জন্য দুদককে নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সর্বাধিক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছিল। এই বিষয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্রের রিপোর্টের ভিত্তিতে এটা সম্ভব হতে পারে। আজ রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
এছাড়া, অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট এবং অর্থ পাচারে সমালোচনা করেন। অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সময়কালীন কর্মকাণ্ডের তদন্ত করতে প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। ওই তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ও জাতীয় স্বার্থে সবাই মিলে একমত হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এরপর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে।’
গত কয়েক দিন আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যেখানে বর্তমান সরকারের সময় সর্বাধিক দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। যদিও ওই রিপোর্টটি এখন আমার কাছে নেই, তথাপি বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এই ১৮ মাসের অস্থির সময়ে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং কারা এর পেছনে জড়িত, সেগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে খুঁজে বের করা উচিত।’ বর্তমান সরকারের ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা, তাই যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অতীত ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, ‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে এক ধরনের লুটেরা অর্থনীতি ও ক্রনি ক্যাপিটালিজম গড়ে উঠেছিল। এই সময়কালীন প্রতি বছর গড় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং গত ১৫ বছরে মোট ২৯ থেকে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে লোন স্ক্যাম, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দখল এবং মেগাপ্রজেক্টের নামে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে আইনি মোড়কে দুর্নীতি বা লেজিসলেটিভ ম্যানিপুলেটেড করাপশন ছিল সবচেয়ে বিপজ্জনক, যার মাধ্যমে কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোকে ইনডেমনিটি দিয়ে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে।’ পাশাপাশি আদম ব্যবসার মাধ্যমে ১৩ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ৭৩ শতাংশ বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় অপাত্রে দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এই অবস্থার পর ৯ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে বর্তমান সরকার। বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থার পতন ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। যমুনার অভ্যন্তরে ও কিনারে যে বহুমুখী সংকট ছিল, সেই অস্থির সময় আমলে নিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে জুলাই সনদে সমঝোতের মাধ্যমে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে বর্তমান নেতৃত্ব সবসময় সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদাসল ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এবারের বাজেটকে ‘এ বাজেট অফ নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুরাতন ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ফরাসি অর্থনীতিবিদ ফ্রেডরিক বাস্টিয়া কিংবা ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোনের জনকল্যাণমুখী দর্শনের আলোকে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, টেকনাফের সীমান্তের একজন অসহায় বিধবা মহিলাও যেন এই বাজেটের সুফল পান, সেই লক্ষ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো ধরনের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। ফলে এবার বাজেট দেওয়ার আগে পরে কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি।’
মূল দর্শন হিসেবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ এবং ড. গোহ-এর সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সফল মডেলের উদাহরণ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘নোবেলজয়ী জোসেফ স্টিগলিৎসের তত্ত্বের আলোকেই বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও মাল্টি-পোলার বিশ্বে বাংলাদেশকে নিজস্ব সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে মিল রেখে এই বাজেটে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মামলা-মোকদ্দমার শিকার পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’ এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সকলের সহায়তায় এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাওনা টাকা চাওয়ার ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে একজন যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় এই সংঘর্ষটি চলছিল। নিহত যুবকের নাম হাদিস মিয়া। তিনি সরাইলের ধর্মতীর্থ চাকসার এলাকার সামসু মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে সরাইল থানা ও জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, সরাইলের সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন পাঁচ লাখ টাকার চটাপাটি বিক্রি করেন ধরন্তি গ্রামের আশিক ও আলালের কাছে। মোশারফ টানা ৯ মাস ধরে পাওনা টাকা চেয়ে আসছিলেন।
রোববার বিকেলে পাওনাদার মোশারফের দেখা হয় আশিক ও আলালের সঙ্গে সরাইল শহীদ মিনার এলাকায়। এ সময় মোশারফ পাওনা টাকা চাইলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়; যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে পরিণত হয়। এই খবর উভয় পক্ষের এলাকায় পৌঁছালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষ চলাকালে হাদিস মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। এই ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
সংঘর্ষে নিহত হাদিস মিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
তিনি আরও জানান, এলাকায় এখনো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করেছ। পরবর্তী সংঘর্ষের আশঙ্কায় সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী এখনও জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। তিনি বলেন, অতীতের সেই অবস্থান নিয়েই দলটির এখনো নতুন করে ভাবার সুযোগ রয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, বাংলাদেশ সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান তিনি জানিয়েছেন। রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে বিরোধী দলের বেঞ্চের দিকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, 'যারা ওই পাশে আছেন, তারা নানা সময় আমাদের ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিজেদের দিকেও একবার ফিরে তাকানোর।' তিনি দাবি করেছেন, '১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আপনারা কখনো জাতির কাছে ক্ষমা চাননি। যদি সেই ভুল স্বীকার করতেন, তাহলে আজকের অনেক সমস্যাই সৃষ্টি হতো না।' জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আজমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'তিনি একসময় বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে তারা কোনো ভুল করেননি। তবে আমি বিশ্বাস করি, এখনো সময় আছে, আপনারা নতুন করে বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।' তিনি আরো বলেন, 'বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। ১৯৭১ সালের বিষয়ে আপনাদের স্পষ্ট বক্তব্য আমরা কখনো শুনিনি। যদি আপনারা সেই ইতিহাস স্বীকার করেন, তাহলে আপনাদের জন্য রাজনীতি আরো সহজ হয়ে যাবে।' জামায়াতের রাজনৈতিক মিত্র এনসিপির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, 'তরুণদের এই রাজনৈতিক দলটি সম্ভাবনাময় হলেও এমন একটি দলের সঙ্গে তাদের জোট করা দুঃখজনক, যে দল বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।' তিনি মন্তব্য করেন, 'আমাদের প্রিয় ছাত্র ও তরুণদের দল এনসিপি ভালো করছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি দুঃখিত যে তারা এমন একটি দলের সঙ্গে জোট করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।' মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, তারা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরো পরিষ্কার করবে। বাজেট আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, 'বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের অর্থনীতি প্রায় খাদের কিনারে পৌঁছে গিয়েছিল।' তবে তিনি বলেন, 'জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের ফলে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে।' বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রশংসা করে তিনি মন্তব্য করেন, 'এবারের বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যতের উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা।' তিনি বলেন, 'আগামী এক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পরবর্তী তিন বছরে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কার এবং পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।' আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে এলজিআরডিমন্ত্রী অব্যাহতভাবে বলেন, 'দীর্ঘ ১৫ বছরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল। এতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মানুষ বিভক্ত হয়েছে এবং অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়েছে।' সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। তার বক্তব্যের শুরুতে তিনি একটি গল্পের উদ্ধৃতি দিয়ে আলোচনা শুরু করেন। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ড. আর এ গণি, তরিকুল ইসলাম ও আ স ম হান্নান শাহসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখা নেতাদের স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি চীন সফরের একটি স্মৃতিচারণ করে বলেন, '২০০২ সালে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তারেক রহমান চীন সফর করেছিলেন।' তখন চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছিলেন, 'তিনি একদিন তার পিতা-মাতার আদর্শ ও পতাকা বহন করবেন।' আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান সেই দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশের মর্যাদা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো উজ্জ্বল করছেন। তরুণ প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, 'দেশের ছাত্র ও তরুণ সমাজ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। তারা ভবিষ্যতে আরো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দৈনিক আজকের পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যিনি বহিষ্কৃত মো. বেল্লাল হোসেন, তিনি সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বেল্লাল হোসেনের বহিষ্কারাদেশটি অনুমোদন করেছেন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী এবং সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদ।
এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের সদর রোড এলাকায় একটি মোবাইলের দোকানে বসে ছিলেন সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি কলাপাড়া উপজেলার নুর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি।
ভুক্তভোগী মোয়াজ্জেম হোসেনের অভিযোগ, ওই সময় কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ওরফে ফাহিম এবং কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী তাকে ডেকে এনে দোকান থেকে বের করে দেন। তারপর রাস্তায় ফেলে তারা তাকে বেধড়ক মারধর করেন।
একপর্যায়ে দৌড়ে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নিলে, তাকে দ্বিতীয় দফা টেনে বের করে ফের মারধর করা হয়। এই মারধরে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহত সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর হামলার এই ঘটনায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব, মহিপুর প্রেসক্লাব, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি, কলাপাড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরাম এবং কলাপাড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ