১১:৫৩ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দায়ের যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলার আপিল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে অস্বাভাবিক ধরনের বিলম্ব ও ধারাবাহিক স্থগিতাদেশ লক্ষ্য করা গেছে।
সাংবাদিক ই জেন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, আদালতের বিচারপতিরা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিয়মিত গোপন বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ট্রাম্পের করা আপিলটি তাদের আলোচ্য তালিকায় ছিল। কিন্তু বৈঠকের এক দিন আগে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মামলাটি তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে অন্তত ১৫ বার আদালতের এজেন্ডায় যুক্ত ও পুনঃনির্ধারিত হচ্ছে। বর্তমান মেয়াদে এই ধরনের ঘন ঘন পুনঃতালিকাভুক্তির ঘটনা আইন বিশ্লেষকদের মতে বিরল।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী, এই অস্বাভাবিক বিলম্বের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ধারণা করা হচ্ছে, বিচারপতিরা হয়তো একই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য আপিল একসঙ্গে বিবেচনা করার জন্য অপেক্ষা করছেন, অথবা আদালতের ভেতরে কোনো মতামত বা রায় প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকতে পারে। তবে আদালত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এই আপিলের মাধ্যমে ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের একটি জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলারের রায় বাতিলের চেষ্টা করছেন, যেখানে তাকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এ রায়টি তিন বছরেরও বেশি আগে দেওয়া হয়।
এছাড়াও, একই মামলার আরেকটি পৃথক রায়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তিনি পৃথকভাবে আপিল করেছেন। আইনজীবীদের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্পের সুদসহ মোট দায় এখন ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে।
মামলার প্রেক্ষাপটে, ২০১৯ সালে ক্যারল প্রথমবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে নতুন আইনের আওতায় তিনি যৌন নিপীড়ন ও ব্যাটারির অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন। এই দ্বিতীয় মামলার বিচার আগে সম্পন্ন হয় এবং জুরিরা ট্রাম্পকে দায়ী করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী
ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, বিচারক লুইস কাপলান প্রমাণ উপস্থাপনে গুরুতর ত্রুটি করেছেন। বিশেষ করে, আদালতে দু’জন নারীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ২০০৫ সালের “অ্যাক্সেস হলিউড” টেপ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত ছিল অনুচিত- এমনই দাবি তাদের।
ওই টেপে ট্রাম্পকে নারীদের অনুমতি ছাড়া চুমু ও শারীরিকভাবে স্পর্শ করার বিষয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায়, যা আদালত প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে।
অন্যদিকে, ক্যারলের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত সম্পূর্ণ এখতিয়ার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জুরির রায় যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত ইতোমধ্যে ৫ মিলিয়ন ডলারের রায় বহাল রেখেছে এবং নতুন করে বিচার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পূর্ণ বেঞ্চে পুনর্বিবেচনার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়ে যায়, এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে একজন প্রেসিডেন্টকে তার দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রয়োজনীয় চাপের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্যারলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালত সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করেছে এবং জুরির রায় পরিবর্তনের কোন যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে বিচারপতিরা গোপন বৈঠকে আপিল গ্রহণ বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। তবে অনেক সময়, কিছু মামলা একাধিক বৈঠকে পুনরায় তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু এই মামলার ক্ষেত্রে “পুনঃতালিকা” বা বারবার পুনর্নির্ধারণ ঘটনাকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আদালতের ভেতরে অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে।
আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিলম্ব হয়তো মামলাটিকে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ট্রাম্প–ক্যারল আপিলের সঙ্গে একসাথে বিবেচনার কৌশল হতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে সতর্ক অবস্থান বলেও উল্লেখ করছেন।
আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার
বর্তমানে মামলাটি আবার আদালতের এজেন্ডায় যুক্ত করা হয়েছে, যা চলমান আইনি লড়াইকে আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দেয়। সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন