শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৭ এম
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় শুক্রবার তুরস্কের একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার অভিযোগে করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ছয় মাস পর ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে তুরস্কের গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক এবং এর কিছু সহযোগী প্রতিষ্ঠান। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইআরজিসির হয়ে কয়েক কোটি ডলারের আর্থিক লেনদেন পরিচালনা বা সহজতর করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ রয়েছে যে, ব্যাংকটি তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ ‘করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং’ সুবিধা প্রদান করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের এক সপ্তাহ আগে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মিসরের একটি বড় ব্যাংককে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে নিয়ে যাওয়ার দিকে এগিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোরভাবে বুঝতে পারছে যে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নিয়ে আমরা কতটা কঠোর।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি আর কোনো ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে না। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কত দ্রুত বাস্তবতা উপলব্ধি করে এবং হত্যাযজ্ঞ চালানো ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করা বন্ধ করে তার ওপর।’
এর আগে, মঙ্গলবার বেসেন্ট জানিয়েছিলেন যে, চলতি সপ্তাহে একটি এবং পরের সপ্তাহে আরও একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হতে পারে। এর মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি।
উত্তর ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত জি-২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের ফাঁকে তিনি এই কথা বলেন। সেখানে চলমান সংঘাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আকস্মিক বিমান হামলা চালায়, যার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন।
সম্প্রতি, বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুরু করছে। এই অভিযানে অংশ না নেওয়া দেশগুলোর জন্য কঠোর পরিণতিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বালাম বইয়ে নথি টেম্পারিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে, এমন তথ্য পাওয়া গেছে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্র থেকে। নওগাঁর পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবুকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে কাটাছেঁড়া বা টেম্পারিংয়ের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করার খবরও পাওয়া গেছে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্রে।
জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ মে পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪২১/৪৭১ নম্বর বালাম বইয়ের একটি স্থানে ‘১২৫’ সংখ্যাটি কেটে ‘১৩৫’ করা হয়েছে। সরকারি রেকর্ডে এ ধরনের পরিবর্তন নজরে আসার পর পোরশা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে রেকর্ডরুমের রেজিস্টার যাচাই করা হয়।
রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট বালামটি পর্যায়ক্রমে ইসমত আলী, রাবেয়া বেগম এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবু বের করেছিলেন। এরপর তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাদের দাখিল করা জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্রে।
পরবর্তীতে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তের জন্য ধামইরহাটের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট নথির হাতের লেখা ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হলেও বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ কারণে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করার সুপারিশ করা হয় এবং জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি মান্দার সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্রে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং কথিত নথি টেম্পারিংয়ের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। এদিকে, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ পোরশা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কথিত দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় আমির উদ্দিন বাবুসহ কয়েকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে ওই ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, আমির উদ্দিন বাবু সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ভূমি অফিসে দালালি করেন এবং ভূমি-সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নথি টেম্পারিং এবং দালালি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আমির উদ্দিন বাবুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মামলা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলের আমাদায় ‘শান্তি সম্প্রতি’ ও ‘মাদকমুক্ত গ্রাম’ গঠনে ঐক্যবদ্ধ যুব ও তরুণ প্রজন্ম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের আমাদা গ্রামে ‘শান্তি সম্প্রতি’ ও ‘মাদকমুক্ত গ্রাম’ গঠনের লক্ষ্যে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুব সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ ‘সম্প্রীতি সভা’ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আসাদুজ্জামান মন্ডল এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন মশিউর রহমান শেখ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোহাগড়া লক্ষীপাশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কে এম রেজাউল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর শেখ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সালাহউদ্দিন খান। বক্তব্য প্রদান করেন লোহাগড়া থানার এএসআই সাইফুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান খান, আমজাদ হোসেন মল্লিক, সাইফুজ্জামান মল্লিক, তারিকুল ইসলাম খান ছবি, জাহিদ সরদার, গোলজার মৃধা, ওহিদ গাজী, মহসিন শেখ, সাজেদুল হকসহ আরও অনেকে।
বক্তারা আলোচনা সভায় উল্লেখ করেন, নড়াইলের আমাদা গ্রামে ‘শান্তি সম্প্রতি’ বজায় রাখার গুরুত্ব রয়েছে। মাদকমুক্ত গ্রাম গঠনে সকলকে একত্রিত হতে হবে। যদি কেউ মাদক কেনাবেচা বা সেবনে জড়িত হয়, তবে তাকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। সবার ঐক্যের ভিত্তিতে গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া তরুণ সমাজকে পড়ালেখা ও খেলাধূলার প্রতি মনোযোগী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভার পর তরুণ ও যুব সম্প্রদায়ের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন প্রধান বক্তা কেএম রেজাউল ইসলাম এবং অনুষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক সালাহউদ্দিন খান। #
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ