ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানে নারী কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা, নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে


ইরানে নারী কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা, নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের একজন নারী কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, মেহরেস্তান শহরের নিজ বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নারীদের বাসিজ ইউনিটের কমান্ডার আফসানেহ আঘিলা। তবে এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেনি।

বাসিজ হলো আইআরজিসির অধীনে একটি স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী। এই বাহিনী সরকার সমর্থিত কাজ করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনেও সক্রিয়। বাসিজের নারী সদস্যরা বিভিন্ন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ৮ বছরের পুরোনো মানহানির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

একই দিনে মেহরেস্তান শহরে পুলিশের একটি ভ্যানে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় মোহাম্মদ-আলি শাহরিয়ারি নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। নারী কমান্ডার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই হামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, অঞ্চলটিতে সক্রিয় সুন্নি জিহাদি ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী জৈশ আল-আদল তাদের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে দাবি করেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাফতান পর্বত এলাকা, কুরিন জেলা ও বন্দরনগরী চাবাহারে ইরানি সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের তিন দফা সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছে।

দারিদ্র্যপীড়িত সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে মূলত সুন্নি মতাবলম্বী বেলুচ সংখ্যালঘু জনগণের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চ বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছে অঞ্চলটি। গত সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সুন্নি ও বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক সহিংসতার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ইরান সরকারের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলি ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে। যদিও এ দাবির সমর্থনে সরকার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।

আরও পড়ুন: আলবেনিয়ায় সহিংস বিক্ষোভ: সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন

এ পরিস্থিতিতে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথেও হাঁটছে ইরান। গত রোববার জৈশ আল-আদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক বেলুচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

সূত্র: আল-মনিটর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাউজানে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করছে আলম-আজিজ বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ এম


রাউজানে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করছে আলম-আজিজ বাহিনী

চট্টগ্রামের রাউজানে একটি অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর নতুন করে আরেকটি গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। খুন, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত এই উপজেলায় এবার আলোচনায় উঠে এসেছে ডাকাত আলম ওরফে জানে আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের অনুসারীরা। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে পুলিশ গুলির মুখে পড়ে। এই ঘটনায় ১২ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১১৯টি চায়না রাইফেলের গুলি এবং দেশীয় অস্ত্র।

জেলা পুলিশের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হান আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ধামা ইলিয়াস, মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ডাকাত আলম ও আজিজ বসের গোষ্ঠী এলাকায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। রায়হান এখনো পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছে।

এক পক্ষের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর অপর পক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ ওঠায় রাউজানে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের হাতে যাচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাউজানের আবু বক্কর চৌধুরীর কাছে ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। পরে জানে আলম ও আজিজের অনুসারীরা তার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি যাচাই করে তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জানে আলমের বসতঘরের কাছে পৌঁছালে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। ওই সময় সেখানে জানে আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন, রুবেল, মামুন-অর-রশিদ মামুন ও বাঁচাসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। গুলিবিদ্ধ দিলদারকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, অভিযানে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা বন্দুক, ১১৯টি চায়না রাইফেলের গুলি, ছয়টি সিসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কিরিচ ও গুলি রাখার পাউচ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদের মালিকানা এবং কোনো অপরাধে সেগুলো ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রায়হান ও তার প্রতিপক্ষের সদস্যদের একের পর এক গ্রেপ্তারের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। এর মধ্যে রায়হানপন্থিদের প্রতিপক্ষ ডাকাত আলম ও আজিজ বসের গোষ্ঠী সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এসপি জানান, গ্রেপ্তার দিলদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, তাদের কাছে আরো ভারী অস্ত্র থাকতে পারে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী অভিযান চালানো হবে।

তিনি বলেন, কে কোন গ্রুপের, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। যারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, অভিযানে আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

কে এই ডাকাত আলম ও আজিজ বস

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বয়স ৪২ বছর এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের বয়স ৫২ বছর। পুলিশের দাবি, তাদের নেতৃত্বে কদলপুর ও আশপাশের এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগে তাদের নাম এসেছে।

পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, এই গোষ্ঠীর কাছে একে-৪৭ রাইফেলসহ ভারী অস্ত্র রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাদের অনুসারীর সংখ্যা দেড় শতাধিক। তবে অস্ত্রের মজুত ও সদস্যসংখ্যার এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত আলম ও আজিজ বসের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গেও তাদের যোগাযোগের অভিযোগ আছে। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সঙ্গে তাদের ছবি রয়েছে। অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাদের দেখা গেছে।

পুলিশ রায়হান আলম ও তার অনুসারীদের সঙ্গে ডাকাত আলম-আজিজ বসের গোষ্ঠীর বিরোধকে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা হিসেবে দেখছে। পুলিশের ভাষ্য, বালুমহাল ও চাঁদাবাজির অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। রাউজানে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ বালু উত্তোলন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা-ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ এম


আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা-ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন

আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির আল ওয়াথবাতে সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় গত ১২ অক্টোবর সোমবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী নারী অসীমা চৌধুরী (৪৮) এবং তার কিশোর ছেলে অরিত্র বিশ্বাসের (১৫) শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টায় আবুধাবির গ্রিন সিটি আল আইনের আল ফোয়াহ সিমেট্রি অ্যান্ড ক্রিমেটোরিয়ামে মা ও ছেলেকে দাহ করা হয়।

তাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া অসীমা চৌধুরীর স্বামী প্রকৌশলী স্বরূপ কান্তি বিশ্বাস, তাদের একমাত্র মেয়ে দুবাইয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী অনুসূয়া বিশ্বাসসহ পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রয়াত অসীমা চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার আঁধারমানিক গ্রামে। তার স্বামীর বাড়ি ছিল চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব কধুরখীল গ্রামে। তিনি আবুধাবির একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে ট্রাভেল অ্যাক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অরিত্র আবুধাবির ফিউচার লিডারস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

তাদের অকাল মৃত্যুতে প্রবাসীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে মহাষষ্ঠীতে শুরু হল ১,৯৪৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ এম


চট্টগ্রামে মহাষষ্ঠীতে শুরু হল ১,৯৪৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজা

চট্টগ্রামে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে পাঁচ দিনের এই উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দেবী দুর্গার বোধন, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য চট্টগ্রামের মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নগর ও জেলার মণ্ডপগুলোকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা, নান্দনিক মূর্তি ও বাহারি সাজে।

এবার চট্টগ্রাম নগরের ২৯৪টি এবং জেলার ১,৬৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১,৯৪৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন ও আনুষ্ঠানিক পূজা শুরু হয়েছে। আজ এবং আগামীকাল মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর পূজার আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা অনুষ্ঠিত হবে। মহাষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ সন্ধিপূজা, যা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মহানবমীতে পূজার গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা এবং দেবীর ভোগ নিবেদন করা হবে। উৎসবের শেষ দিনে বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। দুর্গা ও অন্যান্য মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা করে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বিসর্জন দেওয়া হবে।

পূজা সমন্বয় কমিটির সদস্য বিপ্লব পার্থ জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা চাল ও আর্থিক অনুদান বেড়েছে। পাশাপাশি পূজার ছুটিও বাড়ানো হয়েছে, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো জানান, মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এই সফরকে তিনি চট্টগ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, এবারের দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমনের সঙ্গে ফসল ও শস্যহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমনের তাৎপর্য হিসেবে শস্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ রয়েছে।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুরের অত্যাচারে দেবতারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে তাদের সম্মিলিত ঐশ্বরিক শক্তিতে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। পরে মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে তাকে পরাজিত ও বধ করেন দেবী। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার এই পৌরাণিক কাহিনিকে কেন্দ্র করেই দুর্গাপূজার আয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে হরিজন সম্প্রদায়কে পূজার বোনাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১১ এম


টাঙ্গাইলে হরিজন সম্প্রদায়কে পূজার বোনাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

নগরবাসী যখন প্রতিদিন ভোরে নতুন দিনের কর্মব্যস্ততা শুরু করেন, তার আগেই পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়েন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ। শহরের পথঘাট পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং ময়লা-আবর্জনা দূর করতে তাঁদের নিরলস শ্রম অব্যাহত থাকে। তথাপি, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার এই কারিগরদের অনেক সময় অবহেলিত থাকতে দেখা যায়।

শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে এবার এগিয়ে এসেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ব্যক্তিগত অর্থায়নে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হরিজন সম্প্রদায়ের প্রায় তিনশ জনকে ২ হাজার টাকা করে পূজার বোনাস প্রদান করেছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে তিনি একে একে সবার হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

এ সময় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, "হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা, যাতে সবাই সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্যই এই বোনাস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, 'দুই মাস আগেও আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তখন বলেছিলাম, আপনাদের যেকোনো সুবিধা-অসুবিধায় আমি পাশে থাকব। গত পূজায় আপনাদের কাছে শাড়ি দিতে গিয়েছিলাম। এবার বোনাস দেওয়ার কথা বলেছিলাম। সেই কথা অনুযায়ী আজ আপনাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিচ্ছি।'

হরিজন সম্প্রদায়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আপনারাই শহরটাকে পরিষ্কার রাখেন। আমরা প্রতিদিন যে পরিচ্ছন্ন নগরী দেখতে পাই, তার পেছনে আপনাদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। অথচ আপনাদের বেতনের পরিমাণ খুবই কম। ভবিষ্যতে যাতে বেতন বাড়ে, সে বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।'

তিনি জানান, হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য আধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা কিংবা অন্য যেকোনো সমস্যায় তিনি পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, অন্য কেউ যাতে তাঁদের কাজের সুযোগ কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমি সহযোগিতা করব। আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখবেন। আল্লাহর রহমতে আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। আমরা চাই, সবাই মিলে পরিচ্ছন্ন টাঙ্গাইল ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলব।'

এ সময় শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মাদক মানুষের জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবারের ওপরও পড়ে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিঞা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%