সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৮ পি.এম
ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌরসভার অধীনে থাকা জমি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তালিকাভুক্ত দলিল লেখক আবু সাদেক (সনদ নম্বর ৫১১৩) ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া তথ্য দিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, গত ৪ জুন নান্দাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমি বিক্রির দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। দলিলের তথ্য অনুযায়ী, জমির ক্রেতা আউয়াল হোসেন গং এবং বিক্রেতা ইছাক মাহমুদ গং। নান্দাইল বালিয়াপাড়া মৌজার সাবেক ২৩৩০ এবং হাল ১০০৯৮ দাগের ২১ শতাংশ জমির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা আট লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের তুলনায় পৌরসভার ভেতরের জমির সরকারি মূল্য এবং দলিল সম্পাদনের আনুষঙ্গিক সরকারি চার্জ ও ট্যাক্স অনেক বেশি।
সাবরেজিস্ট্রার অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্রি হওয়া জমিটি নান্দাইল পৌরসভার আওতাভুক্ত হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এর উৎসে কর আসার কথা ছিল দুই লাখ ১০ হাজার টাকা।
সাবরেজিস্ট্রারের অভিযোগ, দলিল লেখক আবু সাদেক বেশি মুনাফা ও অবৈধ সুবিধার উদ্দেশ্যে জমির প্রকৃত অবস্থান গোপন করেন। তিনি কৌশলে পৌরসভার দামি জমিকে ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত এলাকা হিসেবে দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করেন। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের কম হারের কর সুবিধা নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৯০০ টাকা।
সূত্রের দাবি, এর মাধ্যমে সরকারের সরাসরি এক লাখ ৯২ হাজার ১০০ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার জমিকে ইউনিয়ন পরিষদের দেখিয়ে এভাবে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জমি বিক্রেতা ইছহাক মাহমুদ স্বীকার করেন তার বিক্রি করা জমি পৌরসভার মধ্যে। তবে দলিল লেখক কিভাবে দলিল সম্পাদন করেছেন- তা তার জানা নেই। এটা তার (দলিল লেখক) ব্যাপার।
অন্যদিকে, জমির ক্রেতা আব্দুল আউয়ালের দাবি, তিনি বাড়িতে কম থাকেন। ব্যবসাসংক্রান্ত কারণে তিনি জেলা শহর ময়মনসিংহে বসবাস করেন। তিনি বলেন, বাড়ির পাশে জমি কিনতে চাইলে বিক্রেতার সঙ্গে দরদাম ঠিক করার পর দলিল সম্পাদন হয়। কিন্তু দলিল লেখক কিভাবে করেছেন, তা তার জানা নেই।
দলিল লেখক আবু সাদেকের ভাষ্য, ‘নতুন গেজেটে মনে হয় ওই জমি পৌরসভার বাইরে ছিল। তাই না দেখেই দলিল ইউনিয়ন ধরে সম্পাদন করেছি। এখন জানতে পেরেছি এই জমি পৌরসভার। এ অবস্থায় সংশোধনের ব্যবস্থা করব।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তখনকার সাবরেজিস্ট্রার শেখ আবদুস সামাদ আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি মূলত দলিলের দাগ, খতিয়ান, মৌজার নাম এবং দলিল লেখকের (মুহুরি) বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে দলিল সম্পাদন করি। তিনি (দলিল লেখক) গাদ্দারি করেছেন। বিশেষ করে তিনি ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী সব কাজ সম্পাদন করেন।
আবদুস সামাদ আরো বলেন, ‘যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই জেলা রেজিস্ট্রার বিষয়টি দেখবেন।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে একান্তে কথা বলব পরে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেছেন যে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৌপথে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট লঞ্চের চলাচলকে সরকার নিরুৎসাহিত করছে। পরিবর্তে, লঞ্চ মালিকদের দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট লঞ্চ পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
এই তথ্যটি সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী প্রকাশ করেছেন। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ মৌসুমে উপকূলীয় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় নৌ-মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত ‘স্থায়ী আদেশ’ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এছাড়া, ব্যক্তিগত উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে যাত্রীবাহী লঞ্চ বহরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বড় আকারের লঞ্চ যুক্ত হওয়ায় দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।
দুর্ঘটনা রোধে সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে:
১. নির্দিষ্ট সময়ের আগে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য রুট ডিক্লারেশন প্রদান।
২. নৌ-সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার এবং টার্মিনালে মেগাফোনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
৩. গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দরগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।
৪. ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হলে যাত্রা স্থগিত করা।
৫. ফিটনেসবিহীন ও আনরেজিস্টার্ড নৌযান চলাচল বন্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়মিত অভিযান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত-ফ্রান্স সর্ম্পকের নতুন মোড়, মন্দির উদ্বোধনে আবেগে আপ্লুত মোদি
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভারতীয় সংস্কৃতির একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন ফ্রান্সে সম্পন্ন হয়েছে।
ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, এই মন্দিরের উদ্বোধন ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নতুন মাইলস্টোন’। মোদি উল্লেখ করেন, এটি ভারত ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্বোধনী ভাষণে মোদি বলেন, ‘প্যারিসের এই বিশাল মন্দির উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতির প্রতীক হিসেবে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন কেবল কূটনীতি বা কৌশলগত সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের নিকটবর্তী বুসি-সাঁ-জর্জ ও সেন-এট-মার্ন এলাকায় এই বিশাল মন্দির নির্মিত হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভারতীয় স্থাপত্যরীতিতে তৈরি, তবে এর নির্মাণে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ প্রচেষ্টা রয়েছে। মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত পাথরের বড় অংশ ভারতে আনা হয়েছিল, যেখানে শিল্পীরা পাথরে সূক্ষ্ম কারুকাজ করেন।
পরে সেই পাথর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মন্দিরের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এই মেলবন্ধনকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া, বিল্ট ইন ফ্রান্স’-এর একটি সুন্দর উদাহরণ। অর্থাৎ, ভারতের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ফরাসি প্রযুক্তি ও নির্মাণ দক্ষতার মেলবন্ধন ঘটেছে এই মন্দিরে।
মন্দিরটির গুরুত্ব শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে এমন একটি মন্দির ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও জীবনধারার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পরিচয় আরও বাড়াবে।’
এছাড়া, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও আরো গভীর হবে।
ভারতীয় দর্শনের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’— এই ভাবনাকে সামনে রেখে মন্দিরটি মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা ছড়াবে বলেও জানান মোদি। ফ্রান্সে ভারতীয় সংস্কৃতির একটি স্থায়ী নিদর্শন তৈরি হওয়াকে তাই শুধুমাত্র প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর আশা, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের আদলে নির্মিত এই মন্দির প্রবাসী হিন্দুদের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের’ নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব
জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ দেশের লাইব্রেরি ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের’ নাম পরিবর্তন করে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই’ কর্নারে রূপান্তরের প্রস্তাব করেছেন। তিনি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন
এর আগে সংসদের বৈঠকটি বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে শুরু হয়।
মারদিয়া মমতাজ তার উত্থাপিত প্রশ্নে উল্লেখ করেন, ‘আমরা জানি, গত ফ্যাসিস্ট রেজিমের সময় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সরকারি ও বেসরকারি পাঠাগারগুলো এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুজিব কর্নার স্থাপন করা হয়েছিল। ২৪ আগস্টের পর এই নোটিশগুলো বা শিরোনামগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পাঠাগারগুলো আগের অবস্থায় রয়ে গেছে।
তিনি স্পিকার মাধ্যমে মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘যদি এই লাইব্রেরিগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নারে রূপান্তরিত করা হয়, তাহলে তা দেশের মানুষের জন্য কল্যাণের কাজ হতে পারে। এ বিষয়ে কোনো চিন্তা আছে কি না?’
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় তার জবাবে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত অনেক পাবলিক লাইব্রেরি রয়েছে। সংসদ সদস্য যে লাইব্রেরিগুলোর কথা বললেন, আমরা অবশ্যই এগুলোকে আমাদের আওতায় নেব। তিনি একটি তালিকা করে আমাদের দিতে পারেন, আমরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার বৈদেশিক ঋণের চাপ সামলাতে সক্ষম হয়েছে, যদিও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বড় অঙ্কের ঋণের পরিশোধের বাড়তি চাপ রয়েছে। নিয়মিতভাবে এবং সফলতার সঙ্গে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করছে সরকার। নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানও গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, বিনিয়োগের সুফল এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সরকার ৪৫ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
অন্যদিকে, জুলাই মাসে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ১৮ কোটি ১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২০ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
এ মাসে নতুন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এটি নির্দেশ করে যে, সরকার আগের ঋণের দায় নিয়মিত পরিশোধের পাশাপাশি নতুন ঋণ গ্রহণেও সংযত অবস্থান নিয়েছে। ঋণের অর্থ এমন প্রকল্পে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, বিশেষ করে উৎপাদনশীল ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গতিশীলতা তৈরি করতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৪০৯ কোটি ডলার। এর প্রধান কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের ঋণ এখন পরিশোধের পর্যায়ে এসেছে। আগের দেড় দশকে নেওয়া এসব প্রকল্প ঋণের অনেকগুলোর অবকাশকাল বা গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকারের সময়ে এসব ঋণের পরিশোধের চাপ বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাসসকে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপকভাবে ঋণ নিয়েছে। এসব ঋণ নেওয়ার সময় প্রকল্পের ‘ভ্যালু ফর মানি’ বা অর্থের বিপরীতে প্রাপ্ত সুফল এবং সুদের হার যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ খাতেও ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন কারণে বিপুল ঋণ ও ভর্তুকির বোঝা তৈরি হয়েছে। এখন ওই ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ বর্তমান সরকারকে সামলাতে হচ্ছে। তবে সরকার এই দায় পরিশোধ করছে।
যত্রতত্র ঋণ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা রেখে গেছে উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি যেকোনো ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগ, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য ঋণের ব্যবহারকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ঋণ নিলে তার বিপরীতে কী রিটার্ন আসবে এবং কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হবে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৩৭ কোটি ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরো বেড়ে ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক বৈদেশিক অর্থায়ন নেওয়া হয়। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বৈদেশিক সহায়তার ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য।
ইআরডির তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৪ কোটি ডলার এবং অর্থছাড় হয়েছিল ১ হাজার ২৮ কোটি ডলার।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাসসকে বলেন, অতীতে যতটুকু বৈদেশিক ঋণ পাওয়া সম্ভব, তা নেওয়ার একটি প্রবণতা ছিল। এখন দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করেই বৈদেশিক সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এবং জাপান থেকে পাওয়া অর্থায়ন আগের মতো সহজ শর্তের নয়। তাই এসব ঋণ ভবিষ্যতে পরিশোধের সক্ষমতা দেশের রয়েছে কি না, সেটিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।
ড. জাহিদ আরো বলেন, ‘ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।
একই সঙ্গে আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রম প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন এবং এর সুফল দৃশ্যমান করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, প্রকল্প গ্রহণের আগে এর সম্ভাব্য আর্থিক ও অর্থনৈতিক সুফল এবং বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় দাঁড়িয়েছে ৮০৭ কোটি ডলারে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৮৫৭ কোটি ডলার। প্রকল্প সহায়তার অর্থছাড় ৮৫২ কোটি ডলার থেকে কমে ৮০২ কোটি ডলারে নেমেছে।
তবে অনুদানের অর্থছাড় বেড়ে ৫৫ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় উৎস ছিল বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি এ সময়ে ২০৭ কোটি ডলার অর্থছাড় করেছে। এরপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে এসেছে ১৯১ কোটি ডলার।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া ঋণের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ এখন পরিশোধযোগ্য হয়ে উঠেছে। তাই চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত করা, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা এবং এসব প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আরও ভালো শর্তে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এবং সম্ভব হলে রেয়াতি বা সহজ শর্তের অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ