ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিতে বিয়ে, পরে অস্বীকার; ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বর


ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিতে বিয়ে, পরে অস্বীকার; ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বর

ধর্মীয় রীতিনীতিসহ সামাজিকভাবে ধুমধাম করে হয়েছিল বিয়ে। গায়ে হলুদ, নাচ-গান, বরযাত্রীসহ পালন করা হয়েছিল বিয়ের সব রীতি। অথচ কোনো বিয়েই হয়নি বলে দাবি করে বসেছেন কনে ও তার পরিবার। উল্টো অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ এনে দায়েরকৃত মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছে বর রুমন খন্দকারকে (২১)। এ ঘটনায় পরিবারটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়, ওই যুবককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আর ইউএনও বলছেন, বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন করেনি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটাকে ব্যবহার করছেন। বিয়ে নিবন্ধক (কাজী) যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত

জানা যায়, চলতি বছরের ২২ মে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে মিলা আক্তারের (১৬) সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বিল্লাল খন্দকারের ছেলে রুমন খন্দকারের (২১)।

 

বিয়েতে সামাজিক অনুষ্ঠান করা হয় দুই পরিবারের পক্ষ থেকেও। বিয়ের পূর্বে কনের বাড়িতেও আয়োজন করা হয়েছিল গায়ে হলুদের মতো অনুষ্ঠান। এরপর ৪০ জন বরযাত্রী নিয়ে যাওয়া হয় কনের বাড়িতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে দুই পরিবারের স্বজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিয়ের কার্য সম্পন্ন হয়।

 

আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমিতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

তবে, কনের বয়স কম হওয়ায় নিবন্ধন করা হয়নি এবং দুই পরিবারের সম্মত হয়েছিল প্রাপ্তবয়স্ক হলে নিবন্ধন করে নেয়া হবে। পরে কনেকে বিয়ের রঙে সাজিয়ে জমকালো আয়োজনের মধ্যেই নিয়ে যাওয়া হয় বরের বাড়িতে। যে বিয়ের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতির প্রমাণাদি ও অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায়।

 

তবে সামাজিক এ আয়োজনের কিছুদিনের মধ্যেই চিত্রপট পুরোটাই বদলে যায়। রুমনের বাড়ি থেকে মিলা আক্তার চলে যায় নিজের বাড়িতে। এরপর যুবক রুমন খন্দকারের নামে দায়ের করা হয় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা। ২ জুলাই কনে মিলা আক্তারের দাদি জহুরন খাতুন বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওই রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে রুমনকে। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয় তাকে। প্রায় দেড় মাস যাবৎ ওই মামলায় কারাগারে রয়েছে রুমন। মিথ্যা মামলা দিয়ে রুমনকে জেলে পাঠানোর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন স্বজনরা।

 

আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, প্রতিবাদে বাবা-চাচার সংবাদ সম্মেলন

রুমনের মা রেনু বেগম বলেন, পারিবারিকভাবে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। কয়েকদিন পরেই ছেলের বউ বাপের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এরপর থেকেই নানা নাটক শুরু করে। একদিন রাতে পুলিশ এসে ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, পরে আমরা জানতে পারি ছেলের নামে ধর্ষণ মামলা দিয়েছে বউমা। আমার নিরীহ ছেলেটাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। দেড় মাস হলো ছেলে আমার জেলে রয়েছে। এঘটনার বিচারের দাবি জানাই।

 

রুমনের বাবা বিল্লাল খন্দকার বলেন, গত ২ জুলাই গভীর রাতে হঠাৎ করেই রুমনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় নগরকান্দা থানা পুলিশ। পরেরদিন থানায় গিয়ে জানতে পারি ধর্ষণ মামলায় ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: বরিশালে হাজী বিরিয়ানিতে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ও প্রতারণার অভিযোগ,খাবারের পরিমাণ ও মাংসের মান নিয়ে প্রশ্ন

থানা সূত্রে জানা যায়, ২ জুলাই থানায় ওই মামলাটি দায়ের করেন মিলা আক্তারের দাদি জহুরন খাতুন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে নাতনি মিলাকে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নিয়ে যায় রুমন। এরপর রুমন খন্দকারদের বাড়িতে রেখে রাতভর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়। পরেরদিন সকালে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায় মিলা। পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

এদিকে মিলার পরিবারের সদস্যদের দাবি কোনো বিয়ে হয়নি। অপহরণ করে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এঘটনায় বিচার দাবি মিলা আক্তারের স্বজনদের।

 

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সংঘর্ষ, আহত ১০

মামলার বাদী জহুরন খাতুন দাবি করেন, কোনো বিয়ে হয়নি। এছাড়া মামলার এজাহারের বর্ণনা হিসেবে ঘটনাটি জানান এবং ধর্ষণের ঘটনায় বিচার দাবি করেন। তবে, বিয়ের ছবি ও ভিডিও’র বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান তিনি।

 

কনে মিলা আক্তার বলেন, ছেলেটি কাঠমিস্ত্রির কাজ করত, এমনিতে চিনতাম। আমাকে বিভিন্ন সময় বিরক্ত করত। আমাকে জোরপূবর্ক অপহরণ করে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে সেখান থেকে পালিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানাই। এরপর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসা নিই।

 

আরও পড়ুন: প্রশাসন কুয়াকাটায় এমপি মাসুদ সাঈদীর ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধ করেছে

বিয়ের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিয়ের ভিডিও ও আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টিও এড়িয়ে যান তিনি।

 

বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পারিবারিকভাবে দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে বিবাহ হয়। মেয়েটির অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক রয়েছে, একারণে বিয়ের এক সপ্তাহ পর থেকেই নানা ধরনের নাটক করতে থাকে মেয়েটি। স্থানীয়ভাবে সমাধান করা যেতো, কিন্তু স্ত্রী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দেয়ার বিষয়টি মেনে নেয়া যাচ্ছে না।

 

সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, গত ২ জুলাই জহুরন খাতুন তার নাতনিকে নিয়ে থানায় আসেন। এসময় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের চিকিৎসার ছাড়পত্র নিয়ে থানায় আসেন। যেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়। তবে ওই এজাহারে বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকে জানানো হয়নি। কেউ যদি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে এসে অভিযোগ করে সেক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই মামলা নিয়ে থাকি। এক্ষেত্রেও সেটি হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

 

অপরদিকে, বাল্যবিয়ে গোপন করতেই নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে করাতে পরিবারটি এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন বলে মনে করছে প্রশাসন। তবে নৈতিক আইন লঙ্ঘন করে মামলাটি করা হয়েছে বলে মনে করেন আইন বিশ্লেষকেরাও।

 

ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের দেশে দুই পরিবার ও ছেলে-মেয়ের সম্মতি অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। এখানেও তেমনটা হয়েছে, পারিবারিকভাবে বিয়ের পর সংসার হয়েছে তাদের। তবে, আইনের দৃষ্টিতে এই বিবাহ স্বীকৃত নয়। যার কারণে পারিবারিক কলহের জেরে ধর্ষণের মতো অভিযোগে ছেলেটিকে কঠিন মামলার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে, যেটি আসলেই অমানবিক।

 

তিনি বলেন, এটি শুধু রেজিস্ট্রেশনবিহীন বিবাহের কারণে নয়, আমি মনে করি এটি নৈতিকতার অবক্ষয়। এখানে প্রকাশ্যে মেয়েটি ছেলের বাড়িতে সংসার করেছে, এরপরেও সামান্য তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে নিবন্ধন না করার সুযোগ নিয়ে ছেলেটিকে ফাঁসাচ্ছে, আসলে নৈতিকতার কাছে পরিবারটি পরাজিত হয়েছে। এসব মামলার ক্ষেত্রে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। সত্যটা জেনেও আইনের মধ্যে না আসলেও আমরা আইনের কাছে দায়বদ্ধ থেকে যাই।

 

তবে রুমনের পরিবার বলছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। বয়স না হওয়ায় কাজির বাড়িতে গিয়ে গোপনে নিবন্ধন করা হয়। দেনমোহর নির্ধারণ করে নিবন্ধন করে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। নিবন্ধন করেন নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) বি এম ফজলুর রহমান। তবে ওই কাজি বি এম ফজলুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

 

নিকাহ রেজিস্ট্রার বি এম ফজলুর রহমান বলেন, এই বিয়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া আমি কোনো নিবন্ধনও করি নাই।

 

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন জানান, বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রথমে তারা অবৈধ কাজ করেছে, বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন করেননি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটাকে ব্যবহার করছেন। এখানে কোনো বিয়ে নিবন্ধক (কাজি) যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রবিবার কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


রবিবার কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামীকাল রবিবার কিশোরগঞ্জের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য উপাসনালয়ের সেবকদের মধ্যে চলতি অর্থবছরের সম্মানীর অর্থ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার বিকেল ৪টায় জেলা সদরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।

সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করবেন এবং সুধীজনদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বেলা দুপুর ১২টায় তিনি কটিয়াদি কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন এবং উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন এবং জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রীয় এ সুবিধা পাবেন।

চলতি অর্থবছরে মাসিক সম্মানী প্রদানের জন্য সারাদেশের ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় মৎস্য পক্ষ ঘিরে প্রস্তুতি পরিদর্শনে কিশোরগঞ্জে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


জাতীয় মৎস্য পক্ষ ঘিরে প্রস্তুতি পরিদর্শনে কিশোরগঞ্জে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : আগামীকাল (রোববার) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬। এই উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

আজ (শনিবার) তাদের নজরে এসেছে কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল, আচমিতা সরকারি কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স এবং পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার জন্য নির্ধারিত স্থান।

এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন। তারা দেখেন, মঞ্চ, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অনুষ্ঠানস্থলের সজ্জা এবং পোনা অবমুক্তির স্থানসহ সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ।

এ সময় প্রস্তুতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয় যাতে আগামীকাল গতিশীল এবং সুষ্ঠু অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আগামীকাল কটিয়াদীতে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। একই দিনে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন।

এবারের জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর প্রধান প্রতিপাদ্য হলো ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

গতকালের আয়োজনে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ মৎস্য উদ্যোক্তা ও খামারিদের সম্মাননা প্রদান করা হবে।

দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া সফরের প্রেক্ষিতে এবং জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজনকে সামনে রেখে স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবার সহযোগিতা পেলে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠবে সরকার: চিফ হুইপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ পি.এম


সবার সহযোগিতা পেলে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠবে সরকার: চিফ হুইপ

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : জনগণের সরকার সবার সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর করতে সক্ষম হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় দেশের ৯৮ শতাংশ গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ একটি বিশেষ দেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। স্বৈরাচারী সরকারের এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ও জ্বালানি অব্যবস্থাপনার এই কারণে বর্তমান দেশে গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

চিফ হুইপ বলেন, গত সাড়ে পাঁচ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় বর্তমান সরকার দেশের মানুষের দুর্ভোগ ও হাহাকার পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। সরকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, দেশ যখন দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল, তখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে মাত্র তিন বছরের মধ্যে দেশকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও ভঙ্গুর অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবে। তবে এজন্য দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

চিফ হুইপ বলেন, বিগত শাসনামলে দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই বিপুল অর্থ দিয়ে দেশের অনেক জাতীয় বাজেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব ছিল। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা থেকে দেশকে বের করে আনতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার শুধু মানুষের বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নেয়নি, মানুষের আশা ও স্বপ্নকেও ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রত্যাশা এবং একটি সুন্দর আগামীর যে স্বপ্ন ছিল, তা সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল।

নূরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা গণতন্ত্রকে এখনো সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারিনি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হলে জনগণের খাবারের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারের জন্য সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অভিনেতা বাবুল আহমেদসহ দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজন, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেগম জিয়ার জন্মদিনে লালমনিরহাটে দোয়া মাহফিল, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ পি.এম


বেগম জিয়ার জন্মদিনে লালমনিরহাটে দোয়া মাহফিল, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

লালমনিরহাট, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে লালমনিরহাটে দোয়া, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেতু সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা’র আয়োজনে আজ শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার জন্মদিনের জন্য দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে আজ জোহরের নামাজের পর লালমনিরহাট জেলা মডেল মসজিদে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মাঝে ৩০০টি বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, জন্মদিন উপলক্ষে এই সকল কর্মসূচিগুলোকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী দুস্থ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন করা হয়। সেতু সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মিজানুর রহমান শাহেদ ও মোখলেছুর রহমান আকাশ বলেন, মানুষের কল্যাণ ও পরিবেশ সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহসভাপতি আবু সাঈদ মাহমুদ, বাসস এর লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা বিপুল ইসলাম, বাংলাদেশ বেতার রংপুরের লালমনিরহাট সংবাদদাতা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%