বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:১৬ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি উল্লেখ করেছেন, "ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।" তিনি বলেন, সকল ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। বিএনপি সরকারের সময়ে কোনো ধর্মের লোকই অত্যাচার বা নির্যাতনের শিকার হবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশ সকল ধর্ম ও মতের লোকদের নিয়ে সহাবস্থান করবে। প্রত্যেককে নিজের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে এবং অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হবে। বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) উপজেলা হলরুমে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন, এএসপি সার্কেল এস এম মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টার, ওসি মোঃ মুরাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার প্রমুখ। জনাব আযম আরও উল্লেখ করেন, সখিপুরের ৪৪টি পূজা মন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) স্বল্প ও মধ্যম আয়ের ৪০ হাজার পরিবারের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং দুর্যোগ-সহনশীল আবাসনের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনকে (পিকেএসএফ) ১০ কোটি ডলার ঋণ প্রদান করবে। এই অর্থের মাধ্যমে ‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’ বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ঋণচুক্তিতে এবং পিকেএসএফের সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক ড. একেএম নুরুজ্জামান প্রকল্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং উভয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
প্রকল্পের অর্থে নতুন বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাড়িগুলো মেরামত ও উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গৃহঋণ পাওয়া কঠিন—এমন পরিবারগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি নারী ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের আবাসন নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হবে।
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাড়ির নকশা, নির্মাণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে দুর্যোগে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আবাসন-সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তার বন্ধুর ওপর দুই দফায় হামলা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. শামীম আহমেদ (৩০)।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা এবং অফিসের সামনে মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে গত ৩ ও ৪ অক্টোবর পরপর দুই রাতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দিনের হামলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠ ও কাঁধে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করার পাশাপাশি গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া এজাহারে যা বলা হয়েছে:
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে মো. শামীম আহমেদ উল্লেখ করেন, তিনি ইকুরিয়া টিলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বন্ধু রাবেদ হোসেনের ইকুরিয়া মুসলিমনগর এলাকায় অবস্থিত ‘আরআর অনলাইন ইন্টারনেট সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠানে তিনি চাকরি করেন।
এজাহারে সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—রাখাল শুভ (২৮), জাহাঙ্গীর ওরফে সিএনজি চোর জাহাঙ্গীর (৫০), ইয়াবা সুজন (৪০), আরিফ (২৬), মো. বিআলম ওরফে লেংরা বিআলম (৫৫), হানিফ (৪৫) ও মিজান (৪৫)। তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা প্রায়ই আরআর অনলাইন ইন্টারনেট সার্ভিস অফিসের সামনে আড্ডা দিতেন এবং সেখানে মাদক সেবন ও বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এতে অফিসের পরিবেশ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শামীম আহমেদ ও তার বন্ধু রাবেদ হোসেন তাদের মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে অভিযুক্তরা তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় খুন ও জখমের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে দাবি করেছেন বাদী।
৩ অক্টোবর প্রথম দফা হামলার অভিযোগ:
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন বেয়ারা মুসলিমনগর এলাকায় কিউট ফার্নিচারের পাশে ১২ বিল্ডিংয়ের সামনে শামীম আহমেদ ও তার বন্ধু রাবেদ হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে লাঠি, সোটা, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে শামীম ও রাবেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
হামলার পর অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় লোকজনকে জানানো হয় বলে দাবি করেছেন বাদী। কিন্তু এতে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ইন্টারনেট সংযোগ খুলে ফেলার চাপ:
এজাহারে শামীম আহমেদ আরও দাবি করেন, প্রথম দফা হামলার পর অভিযুক্তরা তাদের ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিশেষ করে ইন্টারনেটের সংযোগ ও লাইন খুলে ফেলার জন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ব্যবসা বন্ধ বা ইন্টারনেট সংযোগ খুলে দিতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, এরই ধারাবাহিকতায় ৪ অক্টোবর রাতে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবারও তাদের ওপর হামলা চালান।
৪ অক্টোবর দ্বিতীয় দফা হামলা:
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বেয়ারা মুসলিমনগর এলাকায় কিউট ফার্নিচারের পেছনে শামীম আহমেদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়।
বাদীর অভিযোগ, ওই সময় অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে লাঠি, লোহার রড, রামদা, সুইস গিয়ার চাকুসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তারা শামীমকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর একে একে কয়েকজন অভিযুক্ত তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
পিঠে চাকুর আঘাতের অভিযোগ:
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় প্রথম অভিযুক্ত রাখাল শুভ তার হাতে থাকা সুইস গিয়ার চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শামীমের পিঠের ডান পাশে লম্বা করে আঘাত করেন। এতে তার পিঠে রক্তাক্ত কাটা জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তৃতীয় অভিযুক্ত ইয়াবা সুজনও সুইস গিয়ার চাকু দিয়ে শামীমের পিঠের বাম পাশে আঘাত করেন বলে দাবি করেছেন তিনি। এতে পিঠের ওই অংশেও রক্তাক্ত কাটা জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চতুর্থ অভিযুক্ত আরিফ তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে শামীমের বাম কাঁধে কোপ দেন। এতে কাঁধে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছে বলে দাবি করেন বাদী।
গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ:
এজাহারের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—হামলার একপর্যায়ে দ্বিতীয় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ওরফে সিএনজি চোর জাহাঙ্গীর শামীমের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করেন।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন। একপর্যায়ে তিনি ডাক-চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকেন।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসায় হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নগদ ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ:
হামলার সময় শামীম আহমেদের কাছে থাকা নগদ ৩৬ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী দাবি করেছেন, প্রথম অভিযুক্ত তার কাছে থাকা ওই টাকা নিয়ে নেন। পাশাপাশি হামলার পর অভিযুক্তরা তাকে ও তার বন্ধুকে হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাদের খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
চিকিৎসা নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা:
হামলার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শামীম আহমেদ ও তার বন্ধু রাবেদ হোসেন কেরানীগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ৪ অক্টোবরের হামলায় শামীম আহমেদের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে এবং পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন শামীম আহমেদ।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদী:
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, হামলার পর থেকে তিনি ও তার বন্ধু রাবেদ হোসেন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। অভিযুক্তদের ভয় ও হুমকির কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তার আশঙ্কা, অভিযুক্তরা যেকোনো সময় তাদের ওপর আবারও হামলা চালিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। এ কারণে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিজের ও তার বন্ধুর নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তের দাবি:
ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে দেখবে এবং অভিযোগের সত্যতা, হামলায় কারা জড়িত ছিলেন, অস্ত্র ব্যবহার ও টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক বলেন, "পূজায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে আনসার ও পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে।"
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হামিদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসহাক আলী এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মধ্যে পার্বতীপুরের মোয়াজ্জেম হোসেন, রহনপুরের মনিরুজ্জামান সোহরাব, গোমস্তাপুরের জামাল উদ্দিন ও চৌডালার গোলাম কিবরিয়া হাবিব।
এছাড়াও পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন উপদেষ্টা মনোতোষ চক্রবর্তী, সভাপতি শচীন বর্মন এবং সাধারণ সম্পাদক সুমন শাহ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বছর গোমস্তাপুর উপজেলার মোট ৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অদ্য ০৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে নওগাঁ জেলার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশ সুপার মহোদয়ের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নওগাঁ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জেলার বিভিন্ন থানার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা সভায় নওগাঁ জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, আনসার ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, এনএসআই, ডিজিএফআই, বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এর কর্মকর্তাগণ যোগদান করেন।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পূজা মণ্ডপসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন চলাচল, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজা উপলক্ষে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার মহোদয় তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান। পুলিশ সুপার ফাইনালি বলেন কোন গোষ্ঠী, বা ব্যক্তি দুর্গাপূজায় কোন বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে নওগাঁ জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ