ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ‘তেলাপোকা’ ঠেকাতে মরিয়া বিজেপি


দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ‘তেলাপোকা’ ঠেকাতে মরিয়া বিজেপি

ভারতের নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ, নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে পুলিশ।

বিমান থেকে নামার আগেই তাদের আটক করার ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্দোলনকে প্রতিহত করতে রাজধানীতে হাজার হাজার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত, মেট্রো চলাচল এবং ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর আগে শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

ককরোচ জনতা পার্টি শনিবার নয়াদিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে এই আন্দোলনের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটিয়া অপসারণের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলো সরকার

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষকে বিমানের ভেতর থেকেই আটক করা হয়। অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, "তারা গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় পান না।"

আন্দোলনের নেতাদের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের অনুমান, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বড় জমায়েত হতে পারে। সেই আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলিয়ে ৩৫ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। কিছু প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা যেসব পথ দিয়ে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পারেন, সেগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন পরীক্ষা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ বিভিন্ন হোটেল, অতিথিশালা, ছাত্রাবাস ও অন্য আবাসনে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অন্য রাজ্য থেকে আসা তরুণ-তরুণীদের দলবদ্ধ উপস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৬ পাচ্ছেন ১৪ জন: আমিনুল হক

শুক্রবার রাত থেকেই যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করে জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়। বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা।

অন্যদিকে, দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান জানানোর পর মেট্রো কর্তৃপক্ষ তাদের আগের নির্দেশে পরিবর্তন আনে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছানোর কথা থাকা একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আন্দোলনের নেতাদের আটকের পাশাপাশি অন্য কয়েকজন কর্মী ও আন্দোলন-সমর্থককেও আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

তবে নেতাদের আটকের পরও কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে কি না, কিংবা শেষ পর্যন্ত কতজন যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পেরেছেন, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা আগেই জানিয়েছিলেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে এবং গ্রেপ্তার হলেও আন্দোলন বন্ধ করা উচিত নয়। ফলে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও একের পর এক আটকের মধ্যেও শনিবারের আন্দোলন কতটা বিস্তার লাভ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন জেনারেলের বিরুদ্ধে ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা, সিএনজিচালক সুমনের স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা, সিএনজিচালক সুমনের স্বীকারোক্তি

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের হত্যার রহস্য উদঘাটনের কাজ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ধর্ষণে বাধা দেওয়ার কারণে তাজমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য তুলে ধরেন। পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। কিন্তু পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে শহরের দিকে না গিয়ে চালক অন্য পথে রওনা হন। পরে বিভিন্ন সড়ক ঘুরিয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে বাধা দেয়। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। নিজেকে রক্ষার জন্য দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সুমনের কবলে পড়ে তাজমিন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেছেন যে, তাজমিনকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। এরপর পাশের একটি পুকুরে গোসল করে তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনটি স্থানীয় একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশাটি ফেলে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যান তিনি।

ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারা এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোনটি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন কি না, তা আদালতে উপস্থাপনের পর জানা যাবে। সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেতের আইলের পাশ থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেয়। পরে স্বজনরা মরদেহটি তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত তাজমিন। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল তাজমিনের। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে শেষবারের মতো দেখা যায়।

পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা সময়মতো বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে নেমে ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীঘিনালায় কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণালংকার মালিককে ফিরিয়ে দিলেন আনসার সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


দীঘিনালায় কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণালংকার মালিককে ফিরিয়ে দিলেন আনসার সদস্য

হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকার ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ৭৩ বছর বয়সী জানোকি চাকমা। কিন্তু তাঁর সেই হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার আনসার সদস্য আবু হানিফ মিয়া। প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেন তিনি।

ঘটনাটি প্রায় দুই মাস ১৫ দিন আগের। দীঘিনালার মধ্য বোয়ালখালী বাজারে ইয়াকুব আলীর চায়ের দোকানের সামনে একটি ছোট ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন হানিফ মিয়া। ব্যাগটি খুলে ভেতরে স্বর্ণের কানের দুল পেয়ে সেগুলোর মালিককে খুঁজতে শুরু করেন তিনি।

এরপর স্থানীয় চায়ের দোকান ও আশপাশের লোকজনের কাছে বিষয়টি জানান। পাশাপাশি স্বর্ণালংকারের প্রকৃত মালিককে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালানোর পর অবশেষে সন্ধান পান মালিক জানোকি চাকমার।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মধ্য বোয়ালখালী বাজারে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে জানোকি চাকমার হাতে স্বর্ণালংকারগুলো ফিরিয়ে দেন হানিফ মিয়া। দীর্ঘদিন পর হারানো গহনা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত ও আনন্দিত হন ওই নারী।

জানোকি চাকমা বলেন, “হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এত দিন পর যে এগুলো ফিরে পাব, তা কল্পনাও করিনি। গহনাগুলো ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। আল্লাহ যেন হানিফ মিয়াকে ও তাঁর পরিবারের সবাইকে সুস্থ ও ভালো রাখেন—এই দোয়া করি।”

আনসার সদস্য আবু হানিফ মিয়া বলেন, “স্বর্ণালংকারগুলো পাওয়ার পর থেকেই মালিককে খুঁজছিলাম। অনেকেই সঠিক তথ্য দিতে পারেননি বলে কাউকে সেগুলো দিইনি। জানোকি চাকমা সঠিক তথ্য দেওয়ায় এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে পাওয়া স্বর্ণালংকারের মিল থাকায় সেগুলো তাঁর হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি।”

মূল্যবান সম্পদ নিজের কাছে রেখে না দিয়ে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দেওয়ার এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে সততা ও মানবিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। হানিফ মিয়ার এমন দায়িত্বশীল আচরণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মসূচি শেষে নিজ গ্রামে রোগীর সেবায় মন্ত্রী জাহিদ হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ পি.এম


কর্মসূচি শেষে নিজ গ্রামে রোগীর সেবায় মন্ত্রী জাহিদ হোসেন

সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দিনভর চরম ব্যস্ততার মাঝেও মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন নিজ এলাকার অসহায় ও অসুস্থ মানুষের সেবায় সময় দিচ্ছেন। তিনি ছুটির দিনেও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মতিহারা গ্রামে নিজ বাড়িতে অবস্থান করে রোগীদের প্রত্যক্ষ চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।

শুক্রবার ও শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার পরেও তিনি নিয়মিত সময় বের করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। একজন পূর্ণ মন্ত্রীর এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী জাহিদ হোসেন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করার মধ্যেও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা তাঁর এই মানবিক আচরণে চরম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, "মন্ত্রী মহোদয় এত দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মধ্যেও গ্রামের মানুষের কথা ভুলে যাননি। অসুস্থ রোগীদের পাশে তাঁর এভাবে দাঁড়ানো অনন্য মানবিকতার পরিচয় বহন করে।" হাকিমপুর এলাকার বাসিন্দা সোহাগ মিয়া বলেন, "এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে তাঁকে এভাবে কাছে পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।"

চিকিৎসাসেবা প্রদান ও নিজের মানবিক ভূমিকা প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, "বিএনপি সরকার সাধারণ জনগণের সরকার। দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। আমি প্রথমত একজন পেশাদার চিকিৎসক। তাই সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির পর যতটুকু সময় পাই, আমার এলাকার অসুস্থ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি।"

তিনি আরও বলেন, "জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করা আমার পরম দায়িত্ব। সরকারের চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ যেন প্রয়োজনের সময় সময়মতো সঠিক চিকিৎসাসেবা পায়, সেটিই আমার মূল প্রত্যাশা।"

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মন্ত্রীর এই ভালোবাসা ও সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিক রপ্তানি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্বে যেতে চায় বাংলাদেশ-সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


শ্রমিক রপ্তানি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্বে যেতে চায় বাংলাদেশ-সৌদি আরব

শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্সনির্ভর সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ ও ব্যাবসায়িক অংশীদারি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এই উদ্দেশ্যে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যৌথ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ। সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে শিগগিরই দেশটি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ‘কর্মশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারি : বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমি যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক কেবল প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, ইতিহাস, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কয়েক দশকে এই সম্পর্ক আরো বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশের লাখ লাখ কর্মী সৌদি আরবের অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি, তাদের অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সম্পর্ক আরো গভীর করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নের চেয়ে এখন বড় বিষয় হলো—এটিকে কত দূর এগিয়ে নেওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্সের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সম্ভাবনা আরো বিস্তৃত। তাই শ্রমিকনির্ভর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে।

বিনিয়োগ তহবিল গঠনে আলোচনা

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি। অন্যদিকে, বাংলাদেশও অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ফলে দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, বন্দর, সরবরাহব্যবস্থা, কৃষি, মৎস্য, খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় এসব খাতকে সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে যৌথ বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করতে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

বিনিয়োগ আকর্ষণে আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বাধা কমানো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

তিনি আরো বলেন, বহু বছর পর বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট দিয়েছে। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য শুধু পুঁজি আনা নয়; এমন উৎপাদনশীল বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, প্রযুক্তি হস্তান্তরে সহায়তা করবে এবং দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াবে।

দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের সুনাম রয়েছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ভবিষ্যতে এই বাজারে আরো উন্নত ও বিশেষায়িত দক্ষতার প্রয়োজন হবে। নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা, প্রকৌশল, সরবরাহব্যবস্থা, ডিজিটাল সেবা ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত এবং সনদপ্রাপ্ত পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়বে।

তাহলে শুধু প্রাথমিক পর্যায়ের শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দুই দেশের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার সনদ সৌদি আরবের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে কর্মী, নিয়োগকর্তা ও উভয় দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।

প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে সহযোগিতা

প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়কে দুই দেশের অংশীদারত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌদি আরব প্রযুক্তি ও নতুন শিল্প খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রয়েছে তরুণ ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল কর্মশক্তি। এই দুই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

তার মতে, দুই দেশের মধ্যে শুধু পণ্য ও শ্রমিক বিনিময় নয়, জ্ঞান, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও উদ্ভাবনেরও আদান-প্রদান বাড়াতে হবে।

যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থিত। দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে। বন্দর, নৌপরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা, বিমান চলাচল ও পণ্য সরবরাহের শৃঙ্খলে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের বন্দর ও সরবরাহব্যবস্থায় বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ এই সম্ভাবনার ব্যাপ্তি তুলে ধরছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে কীভাবে সহযোগিতা বাড়ানো যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা অগ্রাধিকার

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, শ্রমিক নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সৌদি আরবের সহযোগিতাকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশি কর্মীদের শুধু শ্রমের উৎস হিসেবে নয়, উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দুই দেশের স্বার্থের মিল বাড়ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের অগ্রগতি শুধু কর্মী বা বাণিজ্যের পরিমাণ দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং মূল্য সংযোজনের ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। বেশি কর্মী পাঠানোর সঙ্গে দক্ষতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে প্রযুক্তির বিস্তার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বও শক্তিশালী করতে হবে।

প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক বাংলাদেশ

সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে। প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এবং দুই দেশের স্বার্থের মিল থাকলে বাংলাদেশ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখবে। মুসলিম দেশগুলোর সেবা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিগগিরই সৌদি আরব সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরো উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তিনি শিগগিরই কোনো এক সময়ে সৌদি আরব সফরে যেতে পারেন।

একইভাবে সৌদি যুবরাজেরও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যুবরাজের সুবিধাজনক সময়ে তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতার পরিবর্তে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না কিংবা সহায়তার ওপর নির্ভর করে এগোতে চায় না। বরং বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায় দেশটি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, যে দেশ বিশ্বের কাছে সাহায্য চাওয়ার পরিবর্তে বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসা করবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে এখন দূরদর্শী পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে আরো শক্তিশালী করতে হবে। শ্রমিকনির্ভর সম্পর্ক থেকে মানবসম্পদ, রেমিট্যান্স থেকে বিনিয়োগ এবং প্রচলিত সহযোগিতা থেকে উদ্ভাবননির্ভর অংশীদারত্বে যেতে হবে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরো গভীর ও বিশেষ ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অংশীদারত্বে রূপ দিতে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%