আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:১৪ পি.এম
‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও দুর্যোগ মোকাবিলাবিষয়ক মহড়ার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, আগাম সতর্কতা, প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই, যাতে যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
আলোচনা সভা শেষে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দিতে মহড়ার আয়োজন করা হয়। মধুপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বোরহান আলী মহড়াটি পরিচালনা করেন। এ সময় দুর্যোগের সময় উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে ব্যবহারিকভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বোরহান আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা, জনস্বার্থ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন, প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মোসলিমা, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বিলকিস আক্তার, বিআরডিবি কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনি ও একাডেমিক সুপারভাইজার মহিউদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী,ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা র্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়ায় অংশ নেন।
দিবসটির আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দিদারুল আলমের আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, তার বন্ধক নেওয়া ৩০ শতক জমি দিদারের ভাগ্নি ও বোনের জামাই পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।
একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে কেন্দ্র করে তার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, এর আগে তিনি ৭০ হাজার টাকা দিলেও দিদার ও তার সহযোগীরা আবার টাকা দাবি করছেন।
আমেনা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, অনেক কষ্ট করে চরের গাছ কেটে তারা বসবাসের উপযোগী করে জায়গা তৈরি করেছেন। কিন্তু দিদার ও তার সহযোগীরা চরের জমি দখল করতে তাদের ওপর অন্যায়-অবিচার করছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব ঘটনার তদন্ত করে দিদারুল আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ফারুক মাঝি অভিযোগ করেন, দিদারুল আলমের নেতৃত্বে নাহিদ, জাবেদ ও রিদয়সহ কয়েকজন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। জমি দখলসহ নানা ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা একাধিক মানববন্ধন করে। উল্টো এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, ‘আমি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সভাপতির বিরুদ্ধে হওয়া একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করি। এরপর উপজেলা যুবদলের সভাপতির অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বার্তা প্রেরক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
“ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” প্রতিপদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বরিশালের বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অভ্রজ্যোতি বড়লের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন জোমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন তালুকদার শাহিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দানিসুর রহমান লিমন প্রমূখ।
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; বরং পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা এবং প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ ও দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে ওয়েভ ফাউন্ডেশন, অ্যাক্ট, অক্সফাম, এনএসএস, সিআইপিআরবি ও সেইন্ট-বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে সম্ভবত ‘বেশি দূর’ চলে গেছে। তিনি এ কথা বলেন যে, এর ফলে আলোচনার জন্য ইরানের কোন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা খুঁজে বের করা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) ওহাইও অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে আমরা হয়তো বেশি দূর চলে গেছি। কারণ, এখন আর বুঝতেই পারছি না, আসলে কার সঙ্গে কথা বলছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সত্যি বলতে, কার সঙ্গে আলোচনা করব, তা নির্ধারণ করতে আমাদের বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা বেশি দূর চলে গেছি।’
এদিকে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনৈতিক নীতি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় রয়েছে সরকারি দল রিপাবলিকানরা। ভোটের আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি নিজ দলের শক্ত ঘাঁটিতেও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে কংগ্রেস দখলের লড়াই জমে উঠেছে। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এমারসন কলেজের সর্বশেষ জাতীয় জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫৩ শতাংশ, বিপরীতে রিপাবলিকানদের ৪২ শতাংশ।
একই জরিপে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট মাত্র ৩৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। অসন্তুষ্ট ৫৮ শতাংশ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দ্রব্যমূল্য, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের একাংশের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এমনকি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস ও ওহাইওতেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে দলটির প্রার্থীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচনী প্রচারণায় জোর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আলাস্কাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে তৎপর দলটি।
আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবগুলো এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও স্থানীয় আইনসভার হাজারো পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন মার্কিন ভোটাররা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট বাদে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য আইনসভার ৬ হাজার ১৩৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র ৪টি আসন এবং সিনেটে ৪টি আসন লুফে নিতে পারে, তবে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ