০৬:৪৩ পি.এম
ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, সকলের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আজ ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি একটি বাণী প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো অন্যান্য দেশের মতো ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, নগরগুলো শুধুমাত্র নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন মানুষের বসবাসের স্থান নয়। বরং, বিশ্বজুড়ে নগরগুলো কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এজন্য পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের নগর অঞ্চলগুলো ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, যানজট, তীব্র দূষণ এবং অপর্যাপ্ত ও মানহীন আবাসনের মতো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে, এ বছরের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, দূষণমুক্ত, পর্যাপ্ত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন অন্যতম। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভূমির উচ্চমূল্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে আবাসন সংকট ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই বাসস্থান সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সকলের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সকলের জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা আবশ্যক।
রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়ন ও সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করার প্রতিজ্ঞাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আবাসন কর্মসূচি, জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণ, নিরাপদ ভবন নির্মাণবিধির যথাযথ পরিপালন, ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, স্মার্ট ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থায় সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নাগরিক সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
রাষ্ট্রপতি বলেন, এ কাজে সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি অংশীজন, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, গবেষক ও তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সুপরিকল্পিত নগরায়ন ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের নগরাঞ্চলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে এবং বাসযোগ্য ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ হবে।
রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন