০৬:০৩ পি.এম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক হার্লান উলম্যান বলেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক নিয়ে ‘বড় ধরনের বিভেদ’ তৈরি হয়েছে। কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য কিলওয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান উলম্যান আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নেতানিয়াহু ক্ষুব্ধ। তিনি এই চুক্তি ভেঙে দিতে চান।’ আল জাজিরা মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ পায়।
ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন, যা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। নেতানিয়াহু অবশ্য এই চুক্তির প্রকাশ্য সমালোচনা থেকে বিরত রয়েছেন। কিন্তু, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের পাশাপাশি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলি নেতা এই চুক্তিতে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। তিনি মনে করেন, এটি আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনে তার পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
‘ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেছেন যে তিনি (ট্রাম্প) সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন, এতে এই পতনের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিরোধী প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে,’ উলম্যান জানান।
আরও পড়ুন: মামদানির ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে আটক করল ইসরাইল
বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তির পরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চরম রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য বদলে দেয়ার দম্ভোক্তি এখন তার জন্য ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে।
একদিকে গাজা ও লেবাননে স্থায়ী বিজয় না পাওয়ার কারণে আসন্ন অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু ভেতরে-বাইরে তীব্র চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। অপরদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল এবং আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার গদিকে আরও নড়বড়ে করে তুলেছে।
এখন যদিও নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, জরিপ বলছে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট বড় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে অবস্থিত। দুর্নীতির অভিযোগ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণে তিনি ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত ছিলেন।
নজিরবিহীন হামলার পরও হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরান সবভাবেই সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন ফ্রন্টের যুদ্ধে কোনো স্থায়ী বিজয় না আসা এবং সেনা হতাহত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণে পৌঁছানোর কারণে ভোটারদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে নেতানিয়াহুকে।
আরও পড়ুন: মিনেসোটায় চলন্ত বাসে অসুস্থ চালক, দৌড়ে এসে ২০ শিশুর প্রাণ বাঁচালেন যুবক
নেতানিয়াহুর যুদ্ধ কৌশলের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি চূড়ান্ত পরীক্ষায় ভেঙে পড়েছেন এবং যুদ্ধে হেরে গেছেন।
অন্যদিকে, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় পশ্চিমা বিশ্বে নেতানিয়াহুর গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তার অতি-নির্ভরশীলতার জায়গা থেকে। ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সমর্থন যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি বহুদিনের বিশ্বস্ত মিত্র ট্রাম্পও ফোনালাপে মেজাজ হারিয়ে তাকে ‘উন্মাদ’ বলেছেন। মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে আন্তর্জাতিক স্তরে বন্ধুহীন হয়ে এখন সব কূল হারাতে বসেছেন এই যুদ্ধবাজ নেতা।
আরও পড়ুন: বিজয়া দশমীর রাতে মালদহে বিজেপি কর্মী সমীর ঘোষকে হত্যা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন