মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
১০:৪১ পি.এম
উৎসবমুখর পরিবেশে, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের মাধ্যমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শেষ হয়েছে ৩১তম জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে টাইব্রেকারে কবাখালী ইউনিয়ন একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নের মুকুট অর্জন করেছে বোয়ালখালী ইউনিয়ন একাদশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে দীঘিনালা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচ দেখতে প্রায় ১০ হাজার দর্শক সমাগম ঘটে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় উভয় দল ১-১ গোলে সমতায় থাকায় শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে বোয়ালখালী ইউনিয়ন একাদশ ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচে ছিল দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির আসনে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসি। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রূশাদ, পিএসসি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম, দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধুরী, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ।
খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। চ্যাম্পিয়ন বোয়ালখালী ইউনিয়ন একাদশ ট্রফির পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা পায় এবং রানার্সআপ কবাখালী ইউনিয়ন একাদশ লাভ করে ট্রফিসহ ২০ হাজার টাকা। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন নেপোলিয়ন চাকমা এবং সেরা গোলরক্ষক হন মো. হোসেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন বলেন, খেলাধুলা হচ্ছে শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা নয়, এটি শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির অন্যতম মাধ্যম। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলার বিকল্প নাই। সুতরাং ভবিষ্যতে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, দীর্ঘদিন পরে এমন প্রাণবন্ত এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল আয়োজন দীঘিনালার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। দর্শকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. আশিক সাঈদের কঠোর অবস্থানের কারণে নগরীর চিহ্নিত আবাসিক হোটেলগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান চললেও, দেহ ব্যবসার একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কৌশল বদলে সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে হোটেলের মূল ফটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে রেখে ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের যৌথ যোগসাজশও এ নতুন কৌশলের পেছনে রয়েছে বলে ধারনা প্রচলিত আছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড, বিউটি রোড এবং মহসিন মার্কেট এলাকার কিছু আবাসিক হোটেলে পূর্বে দেহ ব্যবসা এবং মাদকসেবার অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি বিউটি রোডের একটি হোটেলে জিনসিন সিরাপ (উত্তেজক পানীয়) পান করার পরে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের নজর পড়ে। এরপর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয় করে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, অভিযানের তীব্রতা কিছুটা কমলে সংশ্লিষ্ট চক্রটি নতুন কৌশলে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে হোটেলগুলোর বাইরে বড় তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়, যেন বাইরে থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ মনে হয়। অথচ নির্দিষ্ট খদ্দের এসে গোপনে শাটার বা গেট খুলে তাদের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় এবং পরে আবার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে কোনো সন্দেহের সৃষ্টি না হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর একটি হোটেলের এক কর্মচারী বলেন, "ডিবি ও থানা পুলিশের কড়া অভিযানের পর টিকে থাকার জন্যই এই নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে। বাইরে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে দেহ ব্যবসা চালানো হয়। প্রশাসনের ভেতরের কিছু সদস্য বিষয়টি জানেন বলেই আমাদের ধারণা। তাদের ম্যানেজ করেই এই চক্রটি এখনো সক্রিয় রয়েছে।"
তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অনৈতিক দেহ ব্যবসা ও মাদকের বিরুদ্ধে বিএমপি কমিশনারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি থাকলেও, নিচের স্তরের কিছু অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল জেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ভিতরে সরকারি বরাদ্দে প্রাপ্ত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘর নিয়ে উত্তরণাধিকার বিরোধের বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ হাওলাদার একপাক্ষিক সালিশের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলের কাছে ঘরের মালিকানা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এতে করে মুক্তিযোদ্ধার দুই সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রী, যারা বৈধ উত্তরাধিকারী, তারাও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায় যে, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমজাদ আলী ফকির সরকারি উদ্যোগে একটি ঘর পেতে পেরেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর, তাঁর দুই ছেলে, এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তির অংশীদার হয়ে উঠেছেন। অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুসারে সরকারের সুবিধাপ্রাপ্ত সম্পদের জন্য সকল বৈধ উত্তরাধিকারীর অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত।
তবে অভিযোগ রয়েছে যে, গত ১৯ জুন অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে বড় ছেলে শাহ আলমের পক্ষেই একক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, যেমন মনসুর হাওলাদার, দাবি করেছেন যে, সালিশে অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এর পাশাপাশি, শাহ আলমের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন যে, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্বপালনরত প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ গ্রহণ, একপাক্ষিক সালিশ, জমি দখলসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছেন।
মুক্তিযোদ্ধার ছোট ছেলে গোলাম মোস্তফা এই প্রসঙ্গে বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা নিশ্চিত করেন যে, উত্তরাধিকারীদের সমান অংশ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু তারপরও, সালিশের মাধ্যমে তাঁর বড় ভাইকে এককভাবে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি, তাঁর বোন এবং তাঁদের সৎমা বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায়, প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, তিনি কোনও ধরনের ঘুষ গ্রহণ করেননি। তাঁর দাবি সেই মুক্তিযোদ্ধা জীবদ্দশায় এ ঘরটি তাঁর বড় পুত্রের বংশধরের জন্য দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এই বক্তব্য এবং উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষীর মতামতের ভিত্তিতে সালিশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা দৃঢ়ভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘মাদককে বর্জন করি, সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নাগরিক অধিকার ফোরাম, কুমিল্লা কুমিল্লাকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয়ে মানববন্ধন করেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ১০টায় নগরীর কান্দিরপাড় টাউন হল গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। বক্তারা একই সঙ্গে মাদকের গডফাদার, অর্থের জোগানদাতা ও রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কুমিল্লা নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, মাদক আজ একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তিনি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও জানান। তিনি বলেন, পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে হবে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাজী মোস্তাক মিয়া বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন এলাকায় গডফাদারভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের কারণে মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বজনীন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
এসময় মানববন্ধনে নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সভাপতি ডা. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিখ্যাত রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইথান গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেন, ইথান আজ শয্যাশায়ী হয়ে রয়েছে। তারা বলেন, মাদককে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস, অস্ত্রের ব্যবহার, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা আরো বলেন, মাদক এখন জাতীয় দুর্যোগে রূপ নিয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মূল হোতাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অধিকাংশ সময় মাদক বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও প্রকৃত গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তারা বলেন, সরকার পরিবর্তন হয়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, কিন্তু মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকদের খুব কমই বিচারের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। বক্তারা সমাজে অপরাধের হার কমানোর জন্য মাদক নির্মূল করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদক প্রবেশ বন্ধে আরো কঠোর নজরদারির দাবিও জানান।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আন্তঃজেলা মাদক চক্র ভেঙে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করারও আহ্বান জানান। এসময় মানববন্ধনে কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন লিটনের নেতৃত্বে কলেজের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
অন্যদের মধ্যে ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম ভূইয়াসহ আরো অনেকেই সংহতি প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থী সাথী রানী বণিক (১৫) লিভার জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। সাথীর অকাল মৃত্যু খবর এলাকায় ছরিয়ে পরলে সুখের ছায়া নেমে এসে।
পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, গত ২৯ জুন সোমবার সকালে সাথী অসুস্থ হয়ে পড়লে। পরিবারের লোকজন প্রথমে তাকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মুন হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দুপুর ২টার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাথী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাথী দুই বোনের মধ্যে ছোট। তার পিতার নাম সুদর্শন বণিক। পরিবারটি মতলবের কলাদীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা গ্রামে।
সাথীর মরদেহ মতলবে নিয়ে এলে আত্মীয়-স্বজন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। রাতে তার মরদেহ রুপসা পারিবার শ্মশানে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইশমাম, প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহআলমসহ সকল শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্রীরা। এছাড়াও শোক প্রকাশ করেন মতলব জগন্নাথ দেব মন্দির কমিটির সম্মানিত সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিজয় কুমার সাহা, মতলব দক্ষিণ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের আহবায়ক সমীর ভট্টাচার্য, সদস্য সচিব চন্দন বিশ্বাসসহ বিভিন্ন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ