ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের নেতৃত্বে তরুণ সোহেল আফ্রিদি


ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের নেতৃত্বে তরুণ সোহেল আফ্রিদি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সুর চড়াচ্ছে দলটি। এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার ৩৭ বছর বয়সী সর্বকনিষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।

আল জাজিরা প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের কঠিন সময়ে পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান শক্ত রাখতে এবং নতুন করে জাতীয় রাজপথের আন্দোলন জোরদার করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন এই তরুণ নেতা। সম্প্রতি তিনি রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ'-এর ঘোষণা দিয়েছেন, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ অক্টোবর ইসলামাবাদ অভিমুখে চূড়ান্ত লং মার্চের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা পুরো পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। ক্ষমতাসীন শাহবাজ শরিফ সরকার খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে রাজধানীতে প্রবেশের পথগুলো বন্ধ করতে শুরু করেছে এবং পিটিআই নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে। তবে সোহেল আফ্রিদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "লং মার্চ হবেই। এটি কোনো আত্মসমর্পণ নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।" তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, এই বিশাল জনস্রোত ইমরান খানের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না এবং ৫ অক্টোবর ইমরান খানের জন্মদিনে তাঁরা "বিজয়ের দিন" উদযাপন করবেন।

আরও পড়ুন: বিতর্কের জেরে প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

উল্লেখ্য, অত্যন্ত সাধারণ ও উপজাতি পটভূমি থেকে উঠে আসা সোহেল আফ্রিদি মাত্র ৩৭ বছর বয়সে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে কারাবন্দি ইমরান খানের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ের ছাত্র রাজনীতি (ইনসাফ স্টুডেন্টস ফেডারেশন) থেকে উঠে আসা আফ্রিদির রাজপথের লড়াকু মনোভাব এবং সরকার পরিচালনায় কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা তাঁকে পিটিআইয়ের অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত করেছে।

ইমরান খানের আইনি সব পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে আসায় এখন পিটিআই রাজপথের আন্দোলনকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করছে। সোহেল আফ্রিদি কি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি নিশ্চিত করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামীকাল বছরের তৃতীয় মুদ্রানীতি, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত থাকছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


আগামীকাল বছরের তৃতীয় মুদ্রানীতি, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত থাকছে

আগামীকাল বুধবার, চলতি বছরের তৃতীয় মুদ্রানীতি ঘোষণা হতে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি এখনও লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ দুর্বল, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একই সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও নতুন বেতন কাঠামো মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১৪তম সভায় নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামীকালের ঘোষণায় নীতি সুদহারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের পরিবর্তে বর্তমান অবস্থানই বজায় থাকবে বলে মনে হচ্ছে।

গত জুলাইয়ে, প্রায় ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর জরুরি ঋণ নেওয়ার সর্বোচ্চ সুদহার বা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়। তবে ব্যাংকের অতিরিক্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখার সুবিধা—স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ)—৭ দশমিক ৫০ শতাংশেই রাখা হয়। এরপর সেপ্টেম্বরের এমপিসি সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

সভায় বলা হয়, মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হলেও তা এখনও সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ঝুঁকি মূল্যস্ফীতিকে আবারও বাড়িয়ে দিতে পারে। এসব পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন করে পরবর্তী সময়ে নীতি সুদহার পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মূল্যস্ফীতিই বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে দেশের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি এলেও তা এখনও লক্ষ্য মাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতিও আগস্টে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশে ছিল।

এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার কতটা কড়াকড়ি রাখা হবে এবং একই সঙ্গে দুর্বল অর্থনীতিকে কীভাবে ঋণ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া যাবে।

কারণ উচ্চ সুদহারের কারণে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণের খরচ বড় বোঝা হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় দ্রুত সুদহার কমানোর সুযোগও সীমিত।

ঋণ নেওয়ার আগ্রহ কম

মুদ্রানীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য এক বছরে ৩৯ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থের অভাব নেই; বরং অর্থ থাকলেও তার যথেষ্ট ব্যবহার হচ্ছে না। বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নতুন ঋণ নেওয়ার আগ্রহ কম থাকায় ব্যাংকগুলোর হাতে বিপুল অর্থ পড়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতি মুদ্রানীতির কার্যকারিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু নীতি সুদহার কমানো বা বাড়ানো হলেই অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ে না। ব্যাংকঋণের চাহিদা, ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা, খেলাপি ঋণ, ব্যবসায়ীদের আস্থা এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ—সবকিছু মিলেই মুদ্রানীতির সঞ্চালন ব্যবস্থা কাজ করে।

ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে অর্থনীতির একাধিক দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে মার্চে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। একই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদাও কমেছে। ফলে নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে নতুন ঋণ বিতরণে ব্যাংকারদের ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ কমতে পারে। আবার দুর্বল ঋণ চাহিদার কারণে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত তারল্যও উৎপাদনশীল খাতে পর্যাপ্তভাবে প্রবাহিত হচ্ছে না।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নতুন চাপ

মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে মূল্যস্ফীতির জন্য নতুন ঝুঁকি হিসেবে সামনে এসেছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন ব্যয় এবং পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিতে দ্বিতীয় দফার চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই ২৩ সেপ্টেম্বরের এমপিসি সভায় জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধিকে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতাও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব

মূল্যস্ফীতির আরেকটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোকেও দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়ায় ভোগব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে। নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। পূর্ণ বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে হওয়ার কথা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃষ্টিতে বেতন বৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে কতটা পড়ে, সেটিও আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রবৃদ্ধি বনাম মূল্যস্ফীতি

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে আসে। দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়া এবং দেশীয় ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে নতুন মুদ্রানীতিতে একদিকে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য, অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজন —দুটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ব্যবসার ঋণ ব্যয় বাড়ে এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে। আবার মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগে সুদহার দ্রুত কমানো হলে চাহিদা ও আমদানি বাড়ার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

রিজার্ভ ও বৈদেশিক খাত

মুদ্রানীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণে বাহ্যিক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিবৃতিতেও বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা এবং রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যবাজারের অস্থিরতা আমদানি ব্যয় বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে মুদ্রানীতিতে বিনিময় হার, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

আগামীকালের মুদ্রানীতিতে মূল নজর থাকবে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস, নীতি সুদহারের অবস্থান, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের নীতিতে। ২৩ সেপ্টেম্বরের এমপিসি সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নীতি সুদহার বহাল রাখার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাই নতুন ঘোষণায় বড় ধরনের সুদহার পরিবর্তনের চেয়ে বিদ্যমান নীতির সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে অর্থনীতিতে ঋণ ও বিনিয়োগের গতি ফেরানো। কারণ একদিকে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতে বিপুল অতিরিক্ত তারল্য এবং বেসরকারি ঋণের দুর্বল প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির চাহিদার দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে আগামীকালের মুদ্রানীতি শুধু নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হবে কি না—এই প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধি, ঋণপ্রবাহ, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক খাত—এই পাঁচটি জায়গায় বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ছয় মাসে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করতে চায়, মুদ্রানীতির মূল বার্তা সেদিকেই থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে বাবার রিকশা নিয়ে বের হয়ে মাদরাসাছাত্র ইমন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


ফেনীতে বাবার রিকশা নিয়ে বের হয়ে মাদরাসাছাত্র ইমন নিখোঁজ

ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিরিঞ্চি এলাকা থেকে বাবার ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছে মাশুকুর রহমান ইমন (১৫) নামের এক মাদরাসাছাত্র। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তার পরিবার ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাদরাসা থেকে ফিরে ইমন বাবার রিকশাটি নিয়ে বের হয়। এরপর রাত পেরিয়ে গেলেও সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইমন মাঝে মাঝে তার বাবা মো. শহীদুল ইসলামের (সুজন) মিশুক রিকশাটি চালিয়ে সংসারের খরচ জোগাত। মঙ্গলবার বিকেলে গাড়িটি নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অনুসন্ধানে নেমে ফেনীর ফতেহপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে ব্যাটারি ছাড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় রিকশাটি উদ্ধার করেছে। তবে ইমনের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।

ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম জানান, ‘আমার ছেলে স্থানীয় বিরিঞ্চি সুফিয়া নূরিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করে। বিকেলে আমাকে গাড়ি চালিয়ে একটু সাহায্য করত। সোমবার বিকেলে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে সে আর ফেরেনি। আমরা সব জায়গায় খোঁজখবর নিলেও তার সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে থানায় জিডি করেছি।’

ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, ছেলেটি নিখোঁজের বিষয়ে থানায় অভিযোগ আসার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্যাটারি ছাড়া রিকশাটি উদ্ধার করে। নিখোঁজ মাদরাসাছাত্রের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১০ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. মনির হোসেন (৪৫) নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। আদালত তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছে, এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মমিনুর ইসলাম এ রায় প্রদান করেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ এই বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বন্দরের কুড়িপাড়া এলাকায় বাদীর ভাড়া বাসার একটি কক্ষে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। শিশুটির মা বাদী হয়ে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বন্দর থানার পুলিশ ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল।

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: ডিএনসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই পরিচয়ে বাংলাদেশি এবং এ দেশের সমান নাগরিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার যে অধিকার, আমার অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। আমরা কোনো বিভেদ চাই না; সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্য নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।’

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানের প্রাচীন সমাধিগুলোর সংরক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি আদি ঢাকার বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও রূপ ফিরিয়ে আনার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আদি ঢাকাকে কেন্দ্র করেই আজকের এই মেগাসিটি গড়ে উঠেছে। এর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অতীতের কোনো নিদর্শন আর নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’

ওয়ারী এলাকার অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একসময় নদীবেষ্টিত যোগাযোগব্যবস্থা ও নগর সুবিধার কারণে ওয়ারী ছিল ঢাকার সবচেয়ে বনেদি ও অভিজাত এলাকা। প্রখ্যাত ব্যক্তিরা এখানে বসবাস করতেন। পাশে অবস্থিত বলধা গার্ডেনসহ পুরো এলাকার পরিবেশ আগের উন্নত ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।’

প্রশাসক আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা হবে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আলোকায়ন ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হবে।

এ সময় কবরস্থানটির সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসসিসির তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরো অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন প্রশাসক।

আদি ঢাকার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তা সরু হলেও তা পরিচ্ছন্ন রাখা হবে এবং পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা হবে।

এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভাসমান জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%