ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

তথ্যের বিভ্রান্তি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া মারা যাননি


তথ্যের বিভ্রান্তি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া মারা যাননি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর অনুযায়ী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া মারা গেছেন বলে জানানো হয়। এমনকি বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকেও তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।

তবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী মোকছেদুর রহমান আবির জানান যে, তিনি সুস্থ আছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরার বাসায় অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার সহকারী আরও জানান, তার জুনিয়র আইনজীবী রফিকুল হোসেন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মিরপুরে তার দাফন অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেলের মেয়েকে ভারত যাওয়ার অনুমতি দিল বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

তিনি উল্লেখ করেন যে, নামের মিল থাকার কারণে মৃত্যুর এই ভুল তথ্যটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, "স্যার আগের চেয়ে ভালো আছেন। তবে বেশকিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।" তিনি জানান যে, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে নিয়মিত এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এই কারণে তারা ধানমন্ডির বাসা ছেড়ে বর্তমানে এভার কেয়ারের পাশে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নতুন বাসা নিয়েছেন।

জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে এভার কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক জিয়াউল হকের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তার অসুস্থতার বিষয়টি জানার পর, গত ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তার সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) হাসপাতালে গিয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

আরও পড়ুন: দেশ উগ্র ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে : মাহফুজ আলম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাজারীবাগে ২০টি অটোরিকশা গ্যারেজের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ এম


হাজারীবাগে ২০টি অটোরিকশা গ্যারেজের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), রমনা ট্রাফিক বিভাগ এবং হাজারীবাগ থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিপিডিসির স্টেশন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা মোসাদ্দেকার নেতৃত্বে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের ফলে প্রায় ২০টি অটোরিকশা গ্যারেজের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ডিপিডিসির স্টেশন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা মোসাদ্দেকা যুগান্তরকে জানান, রাজধানীজুড়ে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ডিপিডিসি, পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে হাজারীবাগে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অটোরিকশা গ্যারেজের জন্য বিদ্যুৎ নীতিমালা অনুযায়ী আলাদা মিটারের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অভিযানে বাণিজ্যিক লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত গ্যারেজ পাওয়া গেছে। এসব গ্যারেজে অটোরিকশা চার্জিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহারের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক লাইসেন্স দিয়ে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, অনেক গ্যারেজ মালিক বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকার দাবি করলেও সেগুলো আসলে বাণিজ্যিক লাইসেন্স। বিষয়টি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযানে অনেক গ্যারেজ মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাধা সৃষ্টি করেছেন। অভিযানকালে অবৈধ মিটার, বৈদ্যুতিক তার ও চার্জিং পয়েন্টসহ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে এবং সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

মোসাদ্দেকা বলেন, গ্যারেজ মালিকদের প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কোনো সামারি ট্রায়াল করা হয়নি, ফলে জরিমানাও করা হয়নি। তবে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম আদালতে পরিচালিত হবে।

অভিযান চলাকালে ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, হাজারীবাগ থানা পুলিশের সদস্য এবং রমনা ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট, টিআইসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা মোসাদ্দেকার নেতৃত্বে ডিপিডিসি, পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে পুরো অভিযান পরিচালিত হয়।

হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীজুড়ে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ডিপিডিসি, পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে হাজারীবাগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান পরবর্তীতেও চলমান থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে : আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ এম


বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে : আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের বহুমাত্রিক সংকট কোনো একক দেশের পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, অভিবাসন, সাইবার অপরাধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে তৈরি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশগুলোকে অভিন্ন দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ একদিকে বিশ্বকে সংযুক্ত করেছে ও সেবা প্রদান সহজ করেছে, অন্যদিকে নতুন ধরনের বৈষম্য, বিভাজন ও আন্ত সীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুধু নতুন আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও অভিন্ন দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংস্কৃতি, জ্ঞান ও সভ্যতার মিলনস্থল হিসেবে ইস্তাম্বুল বৈশ্বিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত স্থান। তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তুরস্কের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংহতির কথাও স্মরণ করেন।

আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ওই সময়ে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা চাকরি ও সরকারি সেবায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর তুলেছিলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনেও এসব ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার সরকারের মেয়াদে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত গুম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য শুধু মানবিক চ্যালেঞ্জ নয়, দেশের সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ একা এই বৈশ্বিক বোঝা বহন করতে পারে না এবং তার কাছ থেকে তা প্রত্যাশাও করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্বের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদা, নাগরিকত্ব ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। কক্সবাজারে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ানের সফর এবং তুরস্কের ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। এখন এই সংহতিকে আরো টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।

প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সাইবার অপরাধ, ক্ষতিকর কনটেন্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার ও অ্যালগরিদমিক পক্ষপাতের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এসব সমস্যার কোনো সীমান্ত নেই। তাই কোনো দেশের একক আইন দিয়ে আন্ত সীমান্ত প্রযুক্তি কোম্পানি বা ডিজিটাল অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ সাইবার অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের বৈশ্বিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের জন্য সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে প্রকৃত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফরেনসিক জ্ঞান এবং আইন ও বিচারসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ, সীমান্ত নির্ধারণ, জ্বালানি বাজার, মেধাস্বত্ব ও চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত বিরোধ দ্রুত বাড়ছে। এসব বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মৌলিক নীতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও শক্তিশালী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা সবার জন্য সাশ্রয়ী, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার কখনো এমন হতে পারে না, যা শুধু ক্ষমতাবানদের নাগালের মধ্যে থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও ঘোষণার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিশ্ব এখন অপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্লান্ত। বড় বড় ঘোষণা বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারে না, ডিজিটাল একচেটিয়াত্ব বন্ধ করতে পারে না কিংবা নিপীড়নের ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারে না।

তিনি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। এমন বৈশ্বিক দায়িত্ববণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে এমন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে, যা কোনো দেশ একা সমাধান করতে পারে না।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিটের মতো আয়োজন বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিচারক, আইনজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে। সম্মিলিত আলোচনা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরও ন্যায়সংগত, কার্যকর ও সাড়া-দানে সক্ষম বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থার দিকে একটি বাস্তবসম্মত পথ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

ইস্তাম্বুলে ৮ ও ৯ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের ৭৫টি দেশের বিচারমন্ত্রী, বিচারক, আইনবিদ ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ডিসেম্বরে এল নিনোর তাণ্ডব শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ এম


বিশ্বে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ডিসেম্বরে এল নিনোর তাণ্ডব শুরু

চলতি বছরের এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) প্রকাশিত মাসিক জলবায়ু বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। এটি ১৯৫০ সালের পরের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হতে পারে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘এল নিনো ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। এটি অন্তত ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হতে পারে।’

জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর কেন্দ্রস্থল মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এটি হবে নতুন রেকর্ড।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউএমও।

সেলেস্তে সাওলো বলেন, ‘সমুদ্র থেকে যে তাপ আসছে, সেটি এখন পর্যন্ত আমাদের পরিমাপ করা সবচেয়ে উষ্ণ। ফলে ছেড়ে দেওয়ার মতো তাপের পরিমাণও অনেক বেশি।’

এল নিনো হলো প্রাকৃতিকভাবে সংঘটিত এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন চক্রের উষ্ণ পর্যায়। এই জলবায়ুগত প্রবণতা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয়।

এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে কিছু এলাকায় খরা দেখা দিতে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এটিই রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ মাস।

এদিকে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষকেরা গত মাসে পূর্বাভাস দিয়েছেন, চলতি বছরের ‘সুপার এল নিনো’র কারণে বিশ্বজুড়ে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

সোর্স: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় আবাসন প্রকল্পে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দেদারসে চলছে মাদক ব্যবসা, নেপথ্যে প্রভাবশালী চক্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ এম


ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় আবাসন প্রকল্পে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দেদারসে চলছে মাদক ব্যবসা, নেপথ্যে প্রভাবশালী চক্র

ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার জোরাপোল বাজার সংলগ্ন আবাসন প্রকল্পে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় এই মাদক কারবারি চক্রটি এলাকায় তাদের অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে এই মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেকনিক ও কৌশল অবলম্বন করছে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি এই মাদক সিন্ডিকেটকে চড়া সুদে টাকা ধার দেয়। সুদের সেই টাকা পুঁজি করেই কারবারিরা মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে আসছে এবং আবাসন প্রকল্পকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, জোরাপোল বাজার ও আবাসন প্রকল্প এলাকায় ঘটে যাওয়া চুরি, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধের নেপথ্যেও এই মাদক চক্রটির প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও হুকুম রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকি
এই ভয়ঙ্কর মাদক সিন্ডিকেটের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম জীবননাশের হুমকির মুখে পড়েছেন জাতীয় একুশে নিউজ পেপারের রিপোর্টার মো: সাইফুল ইসলাম রানা। তিনি জানান, "আমি নিজে ওই এলাকারই সন্তান হওয়ায় অপরাধীরা প্রথমে আমার উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি। ফলে কৌশল অবলম্বন করে তাদের ভেতরের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং এই চক্রের সাথে জড়িত মূল মাদক কারবারিদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা (লিস্ট) সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। তবে পরবর্তীতে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি টের পেয়ে তারা আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। সময়মতো সতর্ক না হলে তারা আমাকেও মেরে ফেলত বলে ধারণা করছি।" বর্তমানে ওই তালিকাটি এই প্রতিবেদকের নিকট সুরক্ষিত রয়েছে।

কাঁঠালিয়া থানা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
আবাসন প্রকল্পের সাধারণ বাসিন্দারা এখন চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। এই মাদকের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কাঁঠালিয়া থানা পুলিশের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। অনতিবিলম্বে এই আবাসন প্রকল্পে বিশেষ অভিযান ও সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হলে মূল মাদক কারবারি ও তাদের গডফাদারদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%