১২:৪৬ এম
চলতি বছরের এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) প্রকাশিত মাসিক জলবায়ু বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। এটি ১৯৫০ সালের পরের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হতে পারে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘এল নিনো ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। এটি অন্তত ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হতে পারে।’
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে থানায় নেওয়ার পর মুসলিম যুবক বরজাহান শাহের মৃত্যু, ক্ষোভ ও বিক্ষোভ
জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর কেন্দ্রস্থল মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এটি হবে নতুন রেকর্ড।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউএমও।
সেলেস্তে সাওলো বলেন, ‘সমুদ্র থেকে যে তাপ আসছে, সেটি এখন পর্যন্ত আমাদের পরিমাপ করা সবচেয়ে উষ্ণ। ফলে ছেড়ে দেওয়ার মতো তাপের পরিমাণও অনেক বেশি।’
এল নিনো হলো প্রাকৃতিকভাবে সংঘটিত এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন চক্রের উষ্ণ পর্যায়। এই জলবায়ুগত প্রবণতা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের শাতো দ্য শঁতিলি জাদুঘরে ১০০ বছর পর প্রদর্শিত হবে বিরল গোলাপি হীরা
এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে কিছু এলাকায় খরা দেখা দিতে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এটিই রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ মাস।
এদিকে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষকেরা গত মাসে পূর্বাভাস দিয়েছেন, চলতি বছরের ‘সুপার এল নিনো’র কারণে বিশ্বজুড়ে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
সোর্স: রয়টার্স
আরও পড়ুন: গুজব ও বিশৃঙ্খলা রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন