ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় বিদেশি নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি জরুরী নয় কি?


রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় বিদেশি নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি জরুরী নয় কি?

বাংলাদেশ আজ শুধু একটি জনবহুল রাষ্ট্র নয়; এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশলগত রাষ্ট্র। বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক বাণিজ্যপথ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির কারণে বাংলাদেশকে ঘিরে বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি, অবস্থান ও কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রের একটি হালনাগাদ, নির্ভুল এবং সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার থাকা বিলাসিতা নয়—এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বিদেশি নাগরিকদের জড়িয়ে অপরাধ, সাইবার জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, অবৈধ ব্যবসা কিংবা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিটি অভিযোগ অবশ্যই আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত; কোনো ব্যক্তি বা জাতীয়তাকে শুধু পরিচয়ের ভিত্তিতে অপরাধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো—বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক বিদেশি নাগরিক বৈধভাবে অবস্থান করছেন কি না, কোথায় বসবাস করছেন, কী ধরনের কাজে নিয়োজিত, তাদের ভিসা ও কর্ম-অনুমতির অবস্থা কী—এসব তথ্য সবসময় হালনাগাদ রাখা।

বিশেষ উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটভিত্তিক পরিচয়ের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক গড়ে তুলে বিবাহ বা পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রই বৈধ ও স্বাভাবিক হতে পারে, তবে যদি কেউ এই প্রক্রিয়াকে পরিচয় গোপন, প্রতারণা, মানবপাচার, অর্থপাচার কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তবে সেটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে আইনসম্মত যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় আরও কার্যকর করা জরুরি।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র কখনোই তার ভূখণ্ডে কে প্রবেশ করছে, কে কাজ করছে, কে ব্যবসা করছে এবং কে কোন পরিচয়ে অবস্থান করছে—এসব বিষয়ে অন্ধ থাকতে পারে না। কারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সৃষ্টি হয় তখনই, যখন রাষ্ট্রের কাছে তথ্য থাকে না অথবা তথ্য থাকলেও তা সমন্বিত ও হালনাগাদ থাকে না।

একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত পরিচয়বিহীন, দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন পরিচয়ে বসবাসকারী ব্যক্তিদের মানবিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে পরিচয় যাচাই করা। কারণ তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকৃত বাংলাদেশি না হন, অথবা ভিন্ন পরিচয়ে অবৈধভাবে অবস্থান করে থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই প্রক্রিয়া অবশ্যই মানবাধিকার, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই সম্পন্ন হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বৈধ কর্ম-অনুমতি, কর পরিশোধ, ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; আবার যারা আইন মেনে বাংলাদেশে কাজ করছেন, তাদের অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকতে হবে। আইনের শাসনই এখানে একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।

এখন সময় এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তৎপরতার পাশাপাশি সমন্বিত একটি ডিজিটাল বিদেশি নাগরিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার। দেশে প্রবেশের মুহূর্ত থেকে প্রস্থান পর্যন্ত একজন বিদেশি নাগরিকের বৈধ অবস্থান, কর্মস্থল, ঠিকানা এবং অনুমোদিত কার্যক্রম একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত ও নিয়মিত হালনাগাদ থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে বিশেষায়িত নজরদারি ও সমন্বয় সেল গঠন করে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য বৈধ বিদেশি অংশগ্রহণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে উন্নয়নের দরজা খোলা রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—দুই লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়। বরং একটি শক্তিশালী, তথ্যনির্ভর ও আইনসম্মত তদারকি ব্যবস্থা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও আস্থা তৈরি করে যে বাংলাদেশ একটি সুশাসিত ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র।

জাতীয় নিরাপত্তা কখনো কোনো ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয় নয়; এটি আগাম প্রস্তুতি, তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য বিদেশি নাগরিকদের একটি আধুনিক, সমন্বিত ও সর্বদা হালনাগাদ ডাটাবেজ গড়ে তোলা এখন আর বিকল্প নয়—এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি। কারণ একটি রাষ্ট্র তার সীমান্ত যতটা শক্তভাবে রক্ষা করে, তার চেয়েও বেশি শক্তভাবে রক্ষা করতে হয় তথ্য, আইন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতাকে। রাষ্ট্র যদি এই জায়গায় এক ধাপ এগিয়ে থাকতে পারে, তবে বহিরাগত যেকোনো অবৈধ প্রভাব, সংগঠিত অপরাধ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে তা না হলে ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ রাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা করা অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে যুব মহিলা লীগের নেত্রী লাকি বন্ধুকে নিয়ে আবাসিক হোটেলে একান্ত সময় কাটাতে রুম ভাড়া না দেওয়ায় ব্ল্যাকমেইলিং: অত:পর গণধোলাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিলেট প্রতিনিধি

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২০ এম


সিলেটে যুব মহিলা লীগের নেত্রী লাকি বন্ধুকে নিয়ে আবাসিক হোটেলে একান্ত সময় কাটাতে রুম ভাড়া না দেওয়ায় ব্ল্যাকমেইলিং: অত:পর গণধোলাই

সিলেটে মহানগর যুব মহিলা লীগের নেত্রী লাকি আক্তার ওরফে লাকি আহমেদ নগরীর দরগা গেইট জালালিয়া আবাসিক হোটেলে বন্ধুকে নিয়ে একান্ত সময় কাটাতে রুম ভাড়া না দেওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে ব্ল্যাকমেইলিং করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়,৭ জুলাই ২০২৬ইং (মঙ্গলবার) অনুমান সন্ধ্যা ৭ ঘটিকার সময় তার ঘনিষ্ট বন্ধু সাপ্তাহিক অভিযোগ বার্তার সিলেট প্রতিনিধি কে নিয়ে একান্ত সময় কাটাতে জালালিয়া আবাসিক হোটেলে একটি রুম ভাড়া চান। এতে কর্তব্যরত হোটেল ম্যানেজার তাকে রুম ভাড়া দিতে মানা করলে লাকি ও তার বন্ধু ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ শুরু করে ব্ল্যাকমেইলিং শুরু করেন। ফোনে একটি ছেলে ও মেয়েকে ডেকে এনে পতিতাবৃত্তি আবাসিক হোটেল বলে অপপ্রচার করে এবং নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে লাকি আক্তার দাবী করেন উপস্থিত। ওই সময় আরো দু’জন লাইভারকে ফোনে হোটেলে ডেকে এনে উক্ত হোটেল ম্যানেজারের কাছে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়ে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। হোটেল কর্তৃপক্ষ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে ভূয়া সাংবাদিক লাকি আহমেদ নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে নিউজ করবে এবং লাইভ করে দেশ বিদেশে হোটেলের সুনাম নস্ট করবে মর্মে হুমকি দিতে থাকে।
এসময় হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ করিলে বেপরোয়া লাকি আহমেদ তার সাজানো একজন পুরুষ মহিলাকে দিয়ে নাটক সাজিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে একটি নেটওয়ার্কের অশোভ ইঙ্গিতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে একটি চক্র তৎপর রয়েছে, সেই সূত্র ধরে এই ঘটনার সৃষ্টি। এসময় উৎসুক জনতা মিলে লাকিকে গণধোলাই দেয়। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানান, লাকি আহমেদ দীর্ঘ দিন ধরে নানা কৌশলে বিভিন্ন ধরণের পরিচয় দিয়ে এই হোটেলে চাঁদা দাবি করে আসছে। সে সিলেট নগরীর বিভিন্ন হোটেল থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক চাঁদা আদায় করে আসছে জানা গেছে। অনেকেই ভয়ে চাঁদা দিয়ে  দেয়, কেউ না দিলে তাদের বিরুদ্ধে লাকি তার চক্র ধারা বিভিন্ন নাটক সাজিয়ে অপদস্ত করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। লাকি  সে নিজে একজন পতিতা ও সাপ্লাইয়ার। একজন বেপরোয়া চাঁদাবাজ হিসেবে লাকি সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি কালে আটক হয়ে অপমানিত ও গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দফায়-দফায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। লাকি কখনও সাংবাদিক কখনও যুব মহিলা লীগ নেত্রী আবার কখনও পুলিশের সোর্স দাবী করে সিলেটের বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর সংবাদ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বেড়েছে পোশাক রপ্তানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২১ এম


যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বেড়েছে পোশাক রপ্তানি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের (আরএমজি) প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা প্রাক-রপ্তানি বেড়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে দেশের পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে ২০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।

একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এই তিনটি বাজারে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশের বেশি গেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে ইইউর অংশীদারিত্ব আগের অর্থবছরের ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি কমেছে। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মোট রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও টানা সংকোচন দেখা গেছে।

পণ্যের ধরন অনুযায়ীও রপ্তানিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নিটওয়্যার রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও ওভেন পোশাক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। এ খাতে রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ, যা পুরো অর্থবছর জুড়েই নিটওয়্যারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো প্রবণতা ধরে রেখেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন ক্রেতা আকর্ষণ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে: ভূমিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৩ এম


সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে: ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু আজ বলেছেন, সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি জানান, 'ভূমিদস্যুমুক্ত সরকারি খাস জমি নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' একই সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের মধ্যে বিতরণেও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে ভোলা-৪ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের উত্থাপন করা জরুরি জন গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে সরকারি খাস জমি উদ্ধার কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাস জমি বিতরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, কোনো এলাকায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি পূর্ববর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সে সময় আমলে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা সরকারি সম্পত্তি দখল করেছে।

খাস জমির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা করে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার এবং উদ্ধারকৃত খাস জমি যোগ্য উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার করতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি ও ভবন (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪-এর বাস্তবায়ন।

তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চম বিয়ের সাড়ে তিন মাস পরই মা হলেন অভিনেত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৪ এম


পঞ্চম বিয়ের সাড়ে তিন মাস পরই মা হলেন অভিনেত্রী

ওপার বাংলার আলোচিত অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা সুস্মিতা রায় তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিকবার সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে পড়েছেন। তবে এখন আর কোনো গ্লানি কিংবা নেতিবাচকতার প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে তিনি জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সংবাদটি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

ব্যবসায়ী শুভাশিস দের সঙ্গে পঞ্চমবারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসার মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায়, সুস্মিতা রায় মাতৃত্বের স্বাদ পেয়ে এক ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুস্মিতা নিজেই এই সুখবরটি ভক্তদের জানিয়েছেন, যা মুহূর্তেই তার অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে প্রশংসা ও আনন্দের ঝড় তুলেছে।

সন্তান জন্মের এই অনাবিল আনন্দের পাশাপাশি, দীর্ঘ সাত বছরের এক বুকভাঙা লড়াই, অপেক্ষা এবং প্রথম সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণার কথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন সুস্মিতা। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ, তিনি নিজের প্রথম সন্তানকে হারিয়েছিলেন, এবং যে বেদনাদায়ক স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেই পুরোনো কষ্টের কথা স্মরণ করে, আবেগঘন এক পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন, সাত বছর আগে যে স্বপ্নটা মাঝপথে থেমে গিয়েছিল, আজ যেন তার একটি নতুন ও সুন্দর সূচনা হলো। এটি কেবল শারীরিক অক্ষমতার লড়াই ছিল না, বরং সময়, পরিস্থিতি আর অদৃশ্য বহু বাধার বিরুদ্ধে তার একটি নিরন্তর সংগ্রাম ছিল। প্রথমবারের সেই তিক্ত ও মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার প্রভাবেই, সুস্মিতা এবার পুরো গর্ভাবস্থার বিষয়টি সবার আড়ালে রেখেছিলেন এবং সন্তানের নিরাপদ জন্মের পরই সুখবরটি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, গেল ৬ মার্চ, ব্যবসায়ী শুভাশিস দের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন সুস্মিতা রায়, যখন তিনি সাড়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

বিয়ের পর, কঠিন দিনগুলোতে ছায়ার মতো পাশে থাকার জন্য স্বামী শুভাশিসের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুস্মিতা। তিনি বলেন, যখন তিনি আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন যে এই জীবনে হয়তো আর কোনোদিন ‘মা’ ডাক শোনা হবে না, ঠিক তখনই শুভাশিস তার এই স্বপ্নকে নিজের করে আগলে রেখেছেন এবং লড়াইয়ের শক্তি জুগিয়েছেন।

টলিউড অভিনেতা সায়কের সাবেক বৌদি হিসেবে পরিচিত, সুস্মিতা রায় তার একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র কটাক্ষের শিকার হলেও, মাতৃত্বের এই নতুন ও পবিত্র অধ্যায়ে পা রাখায়, এখন চারপাশ থেকে কেবল ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার জোয়ার ভাসছেন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%