শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩১ পি.এম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিয়ে মন্তব্য করেছেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আলাদিনের চেরাগ নেই যে ঘষা দিলেই গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি—সব চলে আসবে।"
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কামরাঙ্গীরচরে বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার কর্মসূচিতে তিনি এই কথা বলেন।
ডিএসসিসির প্রশাসক আরও বলেন, "গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সবকিছু একসঙ্গে সমাধান করে দেওয়ার মতো কোনো ‘আলাদিনের চেরাগ’ নেই।"
তিনি উল্লেখ করেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে লং মার্চ করে কোনো লাভ নেই।
বরং এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে যে পেট্রল বা গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও অপচয় হচ্ছে।’
আব্দুস সালাম আরও বলেন, ‘ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসেই সরকার রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে।’ এ জন্য সরকারকে বিরোধী দলের ধন্যবাদ জানানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে উন্মুক্ত সিনেমা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে। এই বিশেষ প্রদর্শনীটি সিনেমাপ্রেমী দর্শক ও প্রয়াত নায়কের ভক্তদের জন্য বিএফডিসি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বিএফডিসির একটি বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, বিশেষ এ আয়োজনটি বিএফডিসির ভিআইপি প্রজেকশন হলে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে সিনেমা প্রদর্শনী।
প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে দর্শকরা সালমান শাহ অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমাগুলি উপভোগ করতে পারবেন। প্রদর্শনীর প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর দেখানো হবে নায়ক অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘স্বপ্নের ঠিকানা’।
পরের দিন ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় দর্শকরা দেখতে পাবেন সালমান শাহ ও মৌসুমী অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। আর আয়োজনের শেষ দিন ৮ সেপ্টেম্বর একই সময়ে প্রদর্শিত হবে সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত ‘তোমাকে চাই’।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় এই নায়ক ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অকালমৃত্যু আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
প্রতিবছর ৬ সেপ্টেম্বর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় প্রয়াত এই তারকাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে তিন সন্তান হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে চলমান বিচার বাতিল করে দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারক এই সিদ্ধান্ত নেন, কারণ জুরি বোর্ড কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলার পরও জুরিরা ক্ল্যান্সিকে সন্তান হত্যার জন্য ফৌজদারি দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়ে একমত হতে পারেননি।
জুরি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারক মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন। এরপর তিনি জুরিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
জুরিরা যখন কোনো বিষয়ে একমত হয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তখন সেটিকে ‘হাং জুরি’ বলা হয়। এর ফলে, ক্ল্যান্সিকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। একইভাবে প্রসিকিউশনও তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সেখানে প্রসিকিউশন নতুন করে বিচার করার আবেদন জানাবে, নাকি অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা জানা যাবে। ক্ল্যান্সির আইনজীবী কেভিন রেডিংটন মিসট্রায়াল ঠেকানোর জন্য জুরিদের রায় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা সফল হয়নি। বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী সাবেক নার্স ক্ল্যান্সি একটি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ বহাল রয়েছে।
প্রসিকিউশন চাইলে নতুন করে বিচার করতে পারে অথবা ক্ল্যান্সির সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে।
২০২৩ সালে ম্যাসাচুসেটসে নিজ বাড়িতে তিনি তার তিন সন্তানকে হত্যা করেন। শিশুদের মধ্যে ৫ বছর বয়সী কোরা, ৩ বছর বয়সী ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিশুদের হত্যার সময় তাদের গলায় ব্যায়ামের ব্যান্ড পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। সন্তানদের হত্যার পর ক্ল্যান্সি নিজেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, এরপর বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দেন, যার ফলে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।
তবে ক্ল্যান্সি সন্তান হত্যার ঘটনা অস্বীকার করেননি। তিনটি ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীদের যুক্তি, সন্তানদের হত্যার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন, তাই তাকে ফৌজদারি দায়ে দায়ী করা উচিত নয়।
মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং সমাজকে বিভক্ত করেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, "এটি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি। দেখুন, সে একটি ভয়ানক কাজ করেছে। এর চেয়ে খারাপ আর হতে পারে না। এর একটা মূল্য দিতে হবে, মানসিক হাসপাতাল বা জেল বা ওইরকম কিছু একটা।"
মামলাটি কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। প্রসবোত্তর সাইকোসিস নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিচার কার্যক্রম অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল এবং প্রতিদিন দুই শতাধিক সাংবাদিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ক্ল্যান্সির সমর্থকেরা প্রায়ই আদালতের বাইরে জড়ো হতেন।
বিচারের বেশিরভাগ দিন গোলাপি পোশাক পরা ক্ল্যান্সির সমর্থক নারীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের প্রসব-পরবর্তী অভিজ্ঞতা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, তিনি লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলাটি সম্পর্কে জানেন এবং ধারণা করছেন, মামলাটির আবার বিচার হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। তবে ক্ল্যান্সি এই ঘটনার জন্য শাস্তি পাবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের।
বিচারের সময় জুরিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। শুক্রবার ক্ল্যান্সির আইনজীবী কেভিন রেডিংটন একজন জুরিকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন। এর আগের দিন জুরিরা জানিয়েছিলেন, ওই জুরি ‘যুক্তিসংগত সন্দেহ’ সম্পর্কিত আদালতের নির্দেশনা সঠিকভাবে মানছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে হলে জুরিদের সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং তাদের নিশ্চিত হতে হয় যে আসামির অপরাধ ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ প্রমাণিত হয়েছে। এই অপরাধ প্রমাণের দায়িত্ব প্রসিকিউশনের। বিচারক উইলিয়াম সুলিভান আইনজীবীর আবেদন নাকচ করে জুরিদের আবার আলোচনা করতে পাঠান। প্রায় এক ঘণ্টা পর জুরিরা আদালতে ফিরে জানান, তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
এরপর বিচারক মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন। রেডিংটন সঙ্গে সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে জরুরি আপিলের সুযোগ চান। তবে ম্যাসাচুসেটসের সর্বোচ্চ আদালত তার আবেদন নাকচ করে দেন। মিসট্রায়াল ঘোষণার সময় ক্ল্যান্সিকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।
আদালতকক্ষে নেমে আসে নীরবতা। রেডিংটন বিচারকের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ওই জুরিকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বিচারকের ছিল।
রেডিংটন জানান, তিনি মিসট্রায়াল পুনর্বিবেচনার জন্য নতুন আবেদন করবেন। এ বিষয়ে চলতি মাসের পরবর্তী শুনানিতে আলোচনা হতে পারে। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা বিচার শেষে জুরিরা সাত দিনে ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনা করেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
প্লাইমাউথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমোথি ক্রুজ বলেন, মামলাটি আবার বিচার করা হবে কি না, সে বিষয়ে তারা আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তার দাবি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিই তার তিন সন্তানকে হত্যা করেছেন এবং প্রমাণ অনুযায়ী, হত্যার সময় তিনি নিজের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন।
আদালতের বাইরে রেডিংটন দাবি করেন, ওই একজন জুরি না থাকলে বাকি ১১ জন ক্ল্যান্সির পক্ষে রায় দিতেন। তবে জুরিদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কো ও কিয়েভে দুই দূত পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছেন, যা ইউক্রেনে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে নতুন একটি পরিকল্পনার অংশ।
শুক্রবার ট্রাম্প জানান, তার দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেন সফরে যাবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর জন্য এটি ওয়াশিংটনের সর্বশেষ উদ্যোগ।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দূতের কিয়েভে পৌঁছানোর সময় রোববার নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানাচ্ছে, তারা শনিবার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে এবং রোববার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ক্রেমলিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, দুই প্রতিনিধি শান্তির পথে কোনো অগ্রগতি সম্ভব কি না, তা যাচাই করবেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে শান্তি আলোচনা থমকে গেছে। এর মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা আরও জোরদার করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আগে দেখা যায়নি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাঠিয়েছি। তারা দুজনই অসাধারণ আলোচক। তারা খুব ভালো কাজ করেছেন। কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা দেখতে আমরা তাদেরকে পাঠিয়েছি আর সেটি সম্ভব হওয়ার ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।’
তবে ট্রাম্প সরাসরি বলেননি, পরিকল্পনাটিতে ইউক্রেনকে কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে কি না। এর আগে তিনি ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এবার তিনি বলেন, ‘শান্তির জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে।’
গত বছর ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর পর এই প্রথম তার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বন্ধু উইটকফ ও জামাতা কুশনার যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভ সফরে যাচ্ছেন।
গাজা ও ইরানে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় যুক্ত থাকা উইটকফ ও কুশনার এর আগে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে একাধিকবার মস্কো সফর করেছেন।
পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত
নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সময় রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ওপর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে, রাশিয়ার একটি ড্রোন মধ্য কিয়েভে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-এর সদর দপ্তরে আঘাত হানে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
জেলেনস্কির দাবি, সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম এসবিইউ-এর সদর দপ্তরে হামলা হলো।
হামলাটি নজিরবিহীন হলেও, মার্কিন দূতদের সফর চলাকালে রাশিয়ার সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালনের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
সন্ধ্যার ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বিমান হামলা হবে না। আলোচনার জন্য যত সময় প্রয়োজন, সেই সময়টুকু রাশিয়াকেও পাল্টা হামলা ছাড়া যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।’
রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে বুধবার জেলেনস্কি বলেছিলেন, মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে গেলে রাশিয়ার আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণ অনিরাপদ’ হয়ে থাকবে এবং সেখানে বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় ড্রোন থাকবে।
উইটকফ ও কুশনারের এই সফরের এক সপ্তাহেরও বেশি আগে সিআইএ’র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বিরল এক সফরে মস্কো গিয়েছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি রাশিয়াকে ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে উত্তর ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত জি ২০ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার অর্থমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তার প্রশাসন সংঘাতের গুরুত্ব কমানোর যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘর্ষ বেড়ে চললেও আমি এটিকে যুদ্ধ বলব না।’
এর একদিন পর শুক্রবার, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলে না। আমি এটিকে সামরিক সংঘাত বলি, কারণ এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়।’
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ‘এটি বড় কোনো বিষয় নয়। আমরা ভেনেজুয়েলায়ও করেছি এবং এটিও করেছি।’
এই সময় গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত গবাদিপশু খামারিরা তার পাশে উপস্থিত ছিলেন।
ছয় মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনা ও হাজার হাজার ইরানি প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে সংঘাত অনেকটা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
তবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই কারণে তার প্রশাসন সংঘাতের প্রভাব কম করে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘বিক্ষিপ্তভাবে হামলা’ চালাচ্ছে, তবে ‘এই মুহূর্তে আমরা যুদ্ধ করছি না।’
তিনি আবারও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করেছি, তা অবিশ্বাস্য। আমরা ভেনেজুয়েলা দখলে নিয়েছি এবং কার্যত ইরানও আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’
১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পরও কীভাবে তিনি এই যুদ্ধকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলছেন— সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ট্রাম্প ক্রমেই বিরক্ত হয়ে ওঠেন।
তিনি ইরানের যুদ্ধকে ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি এটিকে কী নামে ডাকছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছি। আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে থামিয়েছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ