শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৭ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কো ও কিয়েভে দুই দূত পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছেন, যা ইউক্রেনে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে নতুন একটি পরিকল্পনার অংশ।
শুক্রবার ট্রাম্প জানান, তার দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেন সফরে যাবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর জন্য এটি ওয়াশিংটনের সর্বশেষ উদ্যোগ।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দূতের কিয়েভে পৌঁছানোর সময় রোববার নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানাচ্ছে, তারা শনিবার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে এবং রোববার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ক্রেমলিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, দুই প্রতিনিধি শান্তির পথে কোনো অগ্রগতি সম্ভব কি না, তা যাচাই করবেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে শান্তি আলোচনা থমকে গেছে। এর মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা আরও জোরদার করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আগে দেখা যায়নি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাঠিয়েছি। তারা দুজনই অসাধারণ আলোচক। তারা খুব ভালো কাজ করেছেন। কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা দেখতে আমরা তাদেরকে পাঠিয়েছি আর সেটি সম্ভব হওয়ার ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।’
তবে ট্রাম্প সরাসরি বলেননি, পরিকল্পনাটিতে ইউক্রেনকে কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে কি না। এর আগে তিনি ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এবার তিনি বলেন, ‘শান্তির জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে।’
গত বছর ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর পর এই প্রথম তার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বন্ধু উইটকফ ও জামাতা কুশনার যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভ সফরে যাচ্ছেন।
গাজা ও ইরানে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় যুক্ত থাকা উইটকফ ও কুশনার এর আগে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে একাধিকবার মস্কো সফর করেছেন।
পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত
নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সময় রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ওপর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে, রাশিয়ার একটি ড্রোন মধ্য কিয়েভে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-এর সদর দপ্তরে আঘাত হানে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
জেলেনস্কির দাবি, সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম এসবিইউ-এর সদর দপ্তরে হামলা হলো।
হামলাটি নজিরবিহীন হলেও, মার্কিন দূতদের সফর চলাকালে রাশিয়ার সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালনের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
সন্ধ্যার ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বিমান হামলা হবে না। আলোচনার জন্য যত সময় প্রয়োজন, সেই সময়টুকু রাশিয়াকেও পাল্টা হামলা ছাড়া যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।’
রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে বুধবার জেলেনস্কি বলেছিলেন, মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে গেলে রাশিয়ার আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণ অনিরাপদ’ হয়ে থাকবে এবং সেখানে বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় ড্রোন থাকবে।
উইটকফ ও কুশনারের এই সফরের এক সপ্তাহেরও বেশি আগে সিআইএ’র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বিরল এক সফরে মস্কো গিয়েছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি রাশিয়াকে ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে উত্তর ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত জি ২০ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার অর্থমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তার প্রশাসন সংঘাতের গুরুত্ব কমানোর যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘর্ষ বেড়ে চললেও আমি এটিকে যুদ্ধ বলব না।’
এর একদিন পর শুক্রবার, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলে না। আমি এটিকে সামরিক সংঘাত বলি, কারণ এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়।’
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ‘এটি বড় কোনো বিষয় নয়। আমরা ভেনেজুয়েলায়ও করেছি এবং এটিও করেছি।’
এই সময় গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত গবাদিপশু খামারিরা তার পাশে উপস্থিত ছিলেন।
ছয় মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনা ও হাজার হাজার ইরানি প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে সংঘাত অনেকটা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
তবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই কারণে তার প্রশাসন সংঘাতের প্রভাব কম করে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘বিক্ষিপ্তভাবে হামলা’ চালাচ্ছে, তবে ‘এই মুহূর্তে আমরা যুদ্ধ করছি না।’
তিনি আবারও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করেছি, তা অবিশ্বাস্য। আমরা ভেনেজুয়েলা দখলে নিয়েছি এবং কার্যত ইরানও আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’
১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পরও কীভাবে তিনি এই যুদ্ধকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলছেন— সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ট্রাম্প ক্রমেই বিরক্ত হয়ে ওঠেন।
তিনি ইরানের যুদ্ধকে ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি এটিকে কী নামে ডাকছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছি। আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে থামিয়েছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী পাঁচ দিনের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা জানিয়েছে। এছাড়াও, বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য এই তথ্য প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আজ শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।
আগামীকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বর্ধিত পাঁচ দিন আবহাওয়া উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বিরাজমান রয়েছে। এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তুরস্কে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের ঘটনার পর তিনি প্রথম বিদেশ সফরে কাতারের দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটি ব্যবহার করবেন। তবে বিমানটির অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করতে আরও কিছু সময় লাগবে।
আগামী মাসে বিমানটিতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত জুলাইয়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ঘটনা নিয়ে বিমানটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ইরানের সম্ভাব্য হুমকির খবর পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রথমে পুরোনো একটি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। পরে গোপনে আরেকটি ছোট বিমানে চলে যান বলে জানা যায়।
শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও আগামী সপ্তাহে আয়ারল্যান্ড সফরে কাতারের রাজপরিবারের উপহার দেওয়া বিমানটিই ব্যবহার করবেন।
বিমানটিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার আগের ঘোষণা বহাল আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রস্তুত করা হবে। হ্যাঁ, এটি অসাধারণ একটি বিমান।’
তিনি আরও বলেন, বিমানটিতে অনেক ধরনের নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগবে, যাতে এটি ‘যেকোনো অঞ্চলে নিরাপদে যেতে পারে’। অক্টোবর মাসে বিমানটি সেই আপগ্রেডের জন্য পাঠানো হবে।
তবে এবার ট্রাম্প যে সময়সীমার কথা বলেছেন, তা তার আগের ঘোষণার প্রায় দ্বিগুণ। গত ১৯ জুলাই তিনি জানিয়েছিলেন, বিমানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
প্রশাসনিক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এমন একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা বজায় রাখি, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য নিরাপদ, সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য সক্ষমতা নিশ্চিত করে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সক্ষমতা নিয়মিতভাবে উন্নত করা হয়।’
তিনি বিমানটিকে ‘এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের জন্য নির্মিত সবচেয়ে সেরা বিমান’ বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে সংক্ষিপ্ত সফরে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন যাবেন। এরপর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় ডুনবেগে তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন গলফ কোর্সে আইরিশ ওপেন দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
কাতার ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি উপহার দেয়। এর আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো প্রেসিডেন্টবাহী বিমানগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়া এবং সেগুলোর বদলে নতুন বিমান সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে বিদেশি একটি দেশের কাছ থেকে এত দামি উপহার গ্রহণ করায় শুরু থেকেই নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমানটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পর জুনের শেষ দিকে এটি ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তখন ট্রাম্প এটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান’ এবং ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে দ্রুত পরিবর্তন আনার কারণে কাতারের দেওয়া বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়।
এরপর গত জুলাইয়ে আঙ্কারা ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছিলেন, তখন ইসরাইল সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে। ওই সময় পুরোনো একটি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
কিন্তু পরে জানা যায়, ট্রাম্প গোপনে পুরোনো বিমানটি একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকের আড়ালে রেখে অন্য একটি ছোট বিমানে উঠে যান।
অগাস্টে এ বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তারা আমাকে অন্য একটি ফ্লাইট, অন্য একটি বিমানে যেতে বলেছিল—নিরাপত্তা একই ছিল। তারা আমাকে যেতে বলেছিল, তাই আমি গিয়েছি। তারা যা বলে, আমি তা করি।’
এদিকে ট্রাম্প অন্য বিমানে চলে গেলেও সাংবাদিক ও তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা আগের ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ছিলেন। ফলে ওই বিমানটি সম্ভাব্য ইরানি হামলার ঝুঁকিতে ছিল বলে ধারণা করা হয়।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ২০২৯ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর কাতারের দেওয়া বিমানটি তার পরিকল্পিত প্রেসিডেন্ট জাদুঘরে রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
বোয়িং জানিয়েছে, নতুন করে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্মিত দুটি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর প্রথমটি ২০২৮ সালে সরবরাহ করার আশা করছে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক বছর দেরিতে বিমান দুটি সরবরাহ করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে সম্ভবত এটি জাদুঘরেই যাবে। নির্ধারিত পরিকল্পনাও সেটিই।’
তবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতারের দেওয়া বিমানটি ব্যক্তিগত বিমান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। বিদেশি কোনো দেশের কাছ থেকে প্রেসিডেন্টদের উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নৈতিক প্রশ্নও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার সৌদি আরবের কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন প্রদান করেছে। এই অস্ত্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বোমা, বোমার লক্ষ্য নির্ধারণ ও পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত গাইডেন্স কিট এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রির ফলে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে দেশটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে, এবং নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া, মার্কিন বাহিনী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য অংশীদারদের ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় উন্নত হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে সৌদি আরব বারবার হামলার শিকার হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, এই অস্ত্র বিক্রি ‘ন্যাটো জোটের সদস্য নয়, এমন একটি প্রধান মিত্রের নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরানি বাহিনী এবং তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
সৌদি আরবের কাছে বোমা বিক্রির এই প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। তবে চূড়ান্তভাবে অস্ত্র বিক্রির জন্য এখনও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ