ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের


মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ঢাকায় বসবাসরত যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক পুনর্মিলনী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে শ্রমজীবী নারীদের জন্য তৈরি হয়েছে ৯তলা আধুনিক সরকারি হোস্টেল

তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আরও বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে, পরিবার-পরিজনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারবর্গ এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

শৈশবের একটি স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, যখন কেজি ওয়ান বা কেজি টুতে পড়ি, তখন মনে এমন ধারণা জন্মেছিল যে, একসময় সবাইকে মুক্তিযুদ্ধে যেতে হবে। স্কুলের বন্ধুদেরও বলতাম, ১৮ বছর বয়স হলেই সবাই একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে যাবো। তখন হয়তো বুঝতাম না যে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শিশুমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছিল।

ইশরাক বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ার পরিচয় সব সময় সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। জীবনের নানা প্রতিকূল সময়ে, বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় এই পরিচয় থেকেই শক্তি পেয়েছি। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেয়ার কারণে আমাকে কারাগারে যেতে হয়েছে, বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু এসব বাধা-বিপত্তি আমাকে অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি।

আরও পড়ুন: নীলফামারীর ডোমারে যৌনকর্মী নিয়ে দ্বন্দ্বে রাতে ‘তুলকালাম কাণ্ড’

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। সেই আন্দোলনে ছাত্রসমাজ যে সাহস ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা যখন রাজপথে আন্দোলন করছিলেন, তখন তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, নির্যাতন করা হয়েছিল। একই সময়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচারের অভিযোগও ছিল। এক্ষেত্রে ছাত্রসমাজ উপলব্ধি করেছিল যে বৈষম্য ও নিপীড়নের অবসান ঘটাতে হলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য নিয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছিল এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিনের মধ্য দিয়ে নতুন এক বাস্তবতার সূচনা হয়েছে। তবে শুধু সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; যে অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, সেগুলোও দূর করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নিলেও তাদের রেখে যাওয়া অপকর্ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। কোনোভাবেই যাতে সেই শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: কোরিয়ায় বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের ওপর জরিমানা বন্ধে নজরদারির তাগিদ

মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সুবিধার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসা তাদের অন্যতম বড় সমস্যা। এই বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান।

মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে সব সময় থাকার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট যেন আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে কাজ করে যাবেন।

আরও পড়ুন: সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট চালুর সুখবর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাম্বুলেন্স থেকে ১১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


অ্যাম্বুলেন্স থেকে ১১৭ বোতল ভারতীয়  মদ উদ্ধার

ফেনীর পরশুরামে একটি অ্যাম্বুলেন্স থেকে ১১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ জব্দ করা হয়েছে। এতে দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) সকালে এই অ্যাম্বুলেন্সে পুলিশ তল্লাশি পরিচালনা করে মাদক উদ্ধার করে এবং অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ দুইজনকে আটক করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী-পরশুরাম সড়কের শ্রী-ভাঙ্গা ব্রিজের উপরে পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মাহবুবুল হকের মালিকানাধীন পরশুরাম ক্লিনিকের একটি অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশি চালানো হয়। এই সময় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর ১২ কার্টনে মোড়ানো ১১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার হয়।

পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, মাদক বহনের অভিযোগে এই অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ির চালক জসিম উদ্দিন (৫১) এবং তার সহযোগী মিনহাজুর রহমান (২১) আটক করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একদলীয় শাসনে বিশ্বাসী নয় বিএনপি: মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


একদলীয় শাসনে বিশ্বাসী নয় বিএনপি: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় কখনোই বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করার লক্ষ্যে দলটি গত পাঁচ দশক ধরে আন্দোলন ও সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে।

শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির বিএনপি একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায় এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা কী বলেছেন, সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে প্রশ্ন করা উচিত। আমাদের শুধু বলতে হবে, আমরা একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাসী নই। আমরা একমাত্র দল, যারা গত পঞ্চাশ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আসছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনেক দীর্ঘকাল বিদেশে নির্বাসিত ছিলেন। তাই এই বিষয়ে বিএনপিকে প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক দল। তারা গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাসী নয়।’

মালয়েশিয়ায় আসন্ন প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে।

এছাড়াও, এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাজারের দ্বিতল মার্কেট ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এবং কালীতলা-হোগলাকান্দি দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি ফলক উদ্বোধনও করেন।

পরে এলজিআরডি মন্ত্রী মুন্সীগঞ্জ শহরের মোল্লারচর বাঁশ-কাঠের পুল পরিদর্শন করেন এবং শহরের সার্কিট হাউস মিলনায়তনে মুন্সীগঞ্জ জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯ জন সংসদ সদস্য, যেমন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ। ৬ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যও এতে অংশ নেন। মতবিনিময় সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুর মহল আশরাফী। আরও দুইজন বিশেষ অতিথি ছিলেন মুন্সীগঞ্জের সুপার মো. মেনহাজুল আলম ও জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম ইরাদত মানু।

বক্তৃতার সময় বিএনপির সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময়ের শুরুতে জুলাই যোদ্ধাদের হাতে অনুদান বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও জমি চায় জাতিসংঘ, ‘না’ করে দিলো বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


রোহিঙ্গাদের জন্য আরও জমি চায় জাতিসংঘ, ‘না’ করে দিলো বাংলাদেশ

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে জমি বরাদ্দের আবেদন করেছে জাতিসংঘ। কিন্তু সরকার জানিয়েছে, জাতিসংঘের এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবর্তে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার (১৯ জুন) মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকটের সূচনা স্থান মিয়ানমার। কাজেই, এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজতে হবে।

সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, মানবিকতার কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। যদিও এই দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংকটের কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের ওপর ও দেশের সম্পদের ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করেছে। সেজন্য, সংকটের দ্রুত এবং টেকসই সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি।

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য করার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাসহ সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী সমর্থন ও অবিরত মনোযোগ কামনা করেন রাষ্ট্রদূত।

সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেদের মিয়ানমারে ফিরতে চায়। প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০১৭ সালের আগেই অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সেনাচৌকিতে জঙ্গি হামলার অজুহাতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর থেকে পরের কয়েক মাসে বাংলাদেশে এসেছে আরও সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে, এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁয় অস্ত্রসহ তিন ডাকাত গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


নওগাঁয় অস্ত্রসহ তিন ডাকাত গ্রেপ্তার

নওগাঁর রাণীনগরে চলন্ত মোটরসাইকেল থামিয়ে ডাকাতির চেষ্টা চালানোর সময় দেশীয় অস্ত্রসহ তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের তাড়া খেয়ে অপর দুটি মোটরসাইকেলে থাকা পাঁচ ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

শনিবার (২০ জুন) সকালে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কের ‘গোনা মোড়’ এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার উত্তর সর্দারপাড়া গ্রামের ফয়সাল হোসেন (২১), বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের সানা মন্ডল (২২) এবং রাব্বি হাসান (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে একজন লোক, যার নাম মাহবুব, মোটরসাইকেল নিয়ে রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি গোনা মোড় এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ৮ জনের একটি ডাকাতদল তাকে ধাওয়া করে। বিপদ টের পেয়ে মাহবুবের পেছনে থাকা আরোহী চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ও টহল পুলিশ দেখা মাত্রই এগিয়ে আসে।

অবস্থা বেগতিক দেখে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ তাদের পিছু নেয়। এরপর উপজেলার খট্টেশ্বর এলাকা থেকে এক মোটরসাইকেলে থাকা তিন ডাকাতকে জনতা ধরে ফেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ধারাল ছুরি উদ্ধার করা হয়। তবে বাকি দুই মোটরসাইকেলে থাকা পাঁচ ডাকাত পালিয়ে যায়।

ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা মূলত মোটরসাইকেলটি ছিনতাই বা ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে মাহবুবকে ধাওয়া করেছিল। সময়মতো জনতা ও পুলিশ এগিয়ে না এলে তারা চালককে মারধর করে গাড়িটি নিয়ে চম্পট দিত। গ্রেপ্তারদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে পালিয়ে যাওয়া বাকি ৫ ডাকাতকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%