০৭:০০ পি.এম
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সরকারের অভিবাসন সেবা জোরদার করার জন্য এবং অভিবাসী ও প্রত্যাবর্তনকারীদের সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নয়টি জেলায় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা প্রদান করছে। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন সম্পর্কিত তথ্য, সরকারি সেবা, সুরক্ষা এবং দেশে ফেরার পর পুনঃএকত্রীকরণ সহায়তা আরো সহজলভ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মাদারীপুরে প্রথম কৌশলগত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, পটুয়াখালী, খুলনা, রংপুর ও জামালপুরে একই ধরনের কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
আইওএম জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘প্রত্যাশা ২ : অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও টেকসই পুনঃএকত্রীকরণের উন্নয়নে সেবা প্রদান ব্যবস্থা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো, সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নবিষয়ক পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোসহ জাতীয় পর্যায়ের অভিবাসন-সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলোকে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রমে রূপ দেওয়া।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালাহউদ্দিন। এতে জেলা পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীসহ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া অভিবাসন সেবাদানকারী সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জেলার অভিবাসন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, সেবার ঘাটতি এবং সেবা পেতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি জেলাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, সময়সীমা ও সমন্বয়ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুগ্ম সচিব সালাহউদ্দিন বলেন, "অভিবাসনের সুফল সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে হলে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য মানুষকে প্রস্তুত করা, পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশে ফেরার পর পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।"
আরও পড়ুন: মিরপুরে বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে আগুন লাগার ঘটনা
তিনি আরও বলেন, "জেলা-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা জাতীয় অভিবাসন অগ্রাধিকারের সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার সংযোগ ঘটাবে এবং সারা দেশে আরো সমন্বিত ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।"
জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার জানান, "জেলা পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি, যাতে অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। এই উদ্যোগ স্থানীয় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করার পাশাপাশি অভিবাসন সেবাকে আরো সহজলভ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়তা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন