ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হামাস অস্ত্র ত্যাগে সম্মত, ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া নেই


হামাস অস্ত্র ত্যাগে সম্মত, ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া নেই

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি চুক্তি অর্জিত হয়েছে বোর্ড অব পিস। এই চুক্তির আওতায় ইসরাইলকেও গাজা উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। ট্রাম্প এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের পথ উন্মুক্ত হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) হামাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এবং দলের আলোচনা বিষয়ক সদস্য বিবিসিকে জানিয়েছেন, আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ ও কঠিন ছিল। তারা জোর দিয়েছেন যে অস্ত্রশস্ত্রের তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণের দায়িত্ব ইসরাইলের হাতে না দিয়ে ফিলিস্তিনি তদারকির অধীনে থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘন্টায় ডিএমপি’তে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২১১১টি মামলা

বোর্ড অব পিসের কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, চুক্তির বিষয়বস্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর চেয়ে বেশি জরুরি হলো পরবর্তীতে বাস্তবে কী ঘটে। এদিকে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার মন্ত্রী লুই হেগ শান্তি আলোচনা এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের যেকোনো অগ্রগতিকে ‘অত্যন্ত স্বাগত জানাবার মতো’ মন্তব্য করেছেন।

এরপরও, এই চুক্তি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে যদি ইসরাইল গাজার সেনা প্রত্যাহার না করতে চায়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘অত্যন্ত হতাশ’ হবেন।

সূত্র: বিবিসি।

আরও পড়ুন: ইসরাইলি সেনাদের নৃশংসতা নিয়ে ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রের আলোচনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রায় ১৪ হাজার বন্দিকে বাড়িতে পাঠাচ্ছে ইতালি, নতুন আইনে কি রয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ এম


প্রায় ১৪ হাজার বন্দিকে বাড়িতে পাঠাচ্ছে ইতালি, নতুন আইনে কি রয়েছে

ইতালি নতুন একটি আইন পাস করেছে, যার উদ্দেশ্য কারাগারের ক্রমবর্ধমান চাপ কমানো এবং আসক্ত বন্দিদের পুনর্বাসনের সুযোগ বৃদ্ধি করা। নতুন আইনের আওতায় প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ জন মাদক ও অ্যালকোহলাসক্ত বন্দি নিজেদের বাড়িতে সাজা ভোগের সুযোগ লাভ করবেন, কারাগারের পরিবর্তে।

এই আইনটি বুধবার ইতালির পার্লামেন্টে ১৫৩ ভোটে পাস হয়। আইনের বিপক্ষে ৪২ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেন, এবং ৮২ জন ভোটদানে বিরত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে 'একাধিক ফ্রন্টে বিজয়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে একদিকে কারাগারের অতিরিক্ত চাপ কমবে, অন্যদিকে আসক্ত বন্দিদের পুনর্বাসনের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

ইতালির বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে প্রায় ৬৫ হাজার বন্দি রয়েছেন। নতুন আইনের ফলস্বরূপ ১০ হাজারেরও বেশি মাদকাসক্ত এবং প্রায় ৩ হাজার ৭০০ অ্যালকোহলাসক্ত বন্দি সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।

মেলোনি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কারণ সরকারের কঠোর অপরাধ দমন নীতির পরিবর্তন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে তাঁর জোটের বাইরে থাকা ডানপন্থী দলগুলো। আর বামপন্থী দলগুলো নীতিগতভাবে আইনের প্রতি সমর্থন জানানোর পরেও পুনর্বাসন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ তহবিলকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেছে।

এদিকে বন্দি অধিকার সংস্থা 'অ্যান্টিগোন' সরকারের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির দাবি, আইনে থাকা বিভিন্ন শর্ত এবং সীমিত অর্থায়নের কারণে ঘোষিত সংখ্যক বন্দি এই সুবিধা বাস্তবে নাও পেতে পারেন।

যদিও ক্ষমতাসীন জোটের শরিক লিগ দলের এমপি সিমোনেত্তা মাতোনে বলেছেন, এই আইনের মূল লক্ষ্য কারাগার খালি করা নয়। বরং আসক্তির চিকিৎসার মাধ্যমে অপরাধে পুনরায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ আহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০০ এম


সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ আহত ২

সিলেটের জৈন্তাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে আবারো হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এ হামলায় দলের মুখ্য সমন্বয়ক মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এই ঘটনা শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার এলাকায় ঘটে গিয়ে।

এনসিপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমদ এ বিষয়ে তথ্য প্রদান করে জানান।

তিনি বলেন, জৈন্তাপুরে পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর হরিপুর বাজার পার হয়ে চিকনাগুল পৌছানোর আগে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এনসিপির বহরের চলন্ত গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। ফলে গাড়ির গ্লাস ভেঙে নাসির পাটোয়ারী ও রেদোয়ান আহত হয়ে যায়। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী ফেইসবুকে একটি পোস্টে হামলার দাবি করেছেন। কিন্তু তাদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।

এই ঘটনার ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি গোলাম দস্তগীর আহমেদ জানান যে, ঘটনার কোনো সত্যতা নাই। তিনি বলেছেন, “এটা যারা বলছে তারা সত্য বলেনি।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ায় তৈরি ক্যানসারের টিকা কার্যকরীভাবে কাজ করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৭ এম


রাশিয়ায় তৈরি ক্যানসারের টিকা কার্যকরীভাবে কাজ করছে

রাশিয়ায় উদ্ভাবিত ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসার জন্য তৈরি ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের প্রথম প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। দেশের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাকসিনটি গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে কাঙ্ক্ষিত রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।

গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানিয়েছেন, ‘নিওনকোভ্যাক’ নামের এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন হাতে নেওয়ার পর রোগীর শরীরে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রমও অব্যাহত আছে।

রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর দুটি ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার চিকিৎসা প্রযুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য তৈরি নিওনকোভ্যাক এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য উদ্ভাবিত পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ উল্লেখযোগ্য।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথমবারের মতো এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোগী কে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো চিকিৎসার সময়কালে তার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

গিনজবার্গ আরো জানান, বর্তমানে আরো ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিগতকৃত এই ভ্যাকসিন প্রস্তুত করার কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে। এতে কেবল রোগের চিকিৎসাই নয়, বরং রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে এবং সেগুলো ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

এই পদ্ধতিতে রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য আলাদাভাবে এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, যা ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

এদিকে, রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাশাপাশি গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইকে মুছে ফেলতে ‘ডিপ পাওয়ারের’ ষড়যন্ত্র চলছে: সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৯ এম


জুলাইকে মুছে ফেলতে ‘ডিপ পাওয়ারের’ ষড়যন্ত্র চলছে: সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে একটি ‘ডিপ পাওয়ার’ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে প্রভাবিত করছে। একই সময়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমর্থকদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘‘জুলাইকে মুছে ফেলতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে।’’ সাবেক শিবির সভাপতি তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, গতকালকের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন ও মেসেজ পাঠিয়ে তাদের কষ্টের কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ পোস্টটি মুছে ফেলতে বলেছেন, কেউ বলেছেন—“কথাগুলো ঠিক, কিন্তু পোস্টটি আপনি না দিলে ভালো হতো।” আবার অনেকে পোস্টটির ব্যাখ্যাও জানতে চেয়েছেন।ছবি: ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত।

তিনি আরও বলেন, যারা তাকে অনুসরণ করেন বা পূর্বে তার কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন—ব্যক্তিগতভাবে তিনি শুধু শুভাকাঙ্ক্ষীদের নয়, সমালোচক ও আদর্শিক প্রতিপক্ষের মতামতকেও গুরুত্ব দেন। ছাত্রশিবির তাকে সেই মৌলিক শিক্ষা দিয়েছে। সেই সম্মানের আসন থেকে তার কিছু চিন্তা ও উপলব্ধি তুলে ধরতে চান।

জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনীতি যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা নিশ্চয়ই জানতে পারবেন—কীভাবে ডিপ স্টেট বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর রাজনীতিকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী প্রভাবিত করতে নানা ষড়যন্ত্র করে। রাজনৈতিক খেলা এবং দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি করে তারা রাজনৈতিক সুযোগ গ্রহণ করে। অনেক সময় এগুলোকে দৃশ্যমান রাজনৈতিক শক্তির পারস্পরিক বিরোধ মনে হলেও, এর পেছনের শক্তি সাধারণত অধরা থেকে যায়।

তিনি হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হামলাকে পরিকল্পিত বললেও, সেখানে এনসিপি বা বিএনপির নাম উল্লেখ করেননি। এক্ষেত্রে তিনি বলছেন—“ডিপ পাওয়ার।” তার বক্তব্য হলো, ডিপ পাওয়ার কোন রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে নেই; বরং তারা বিভিন্ন দলকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ বা জনপরিসরে এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করার জন্য বেশি সুযোগও নেই। শহীদ ওসমান হাদী এ ট্যাবু ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন, যার পরিণতি ছিল তার শাহাদাত।

তিনি আরও বলেন, যতদিন ডিপ পাওয়ার সক্রিয় থাকবে, ততদিন গণতন্ত্র একটি প্রহসনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকবে এবং ইনসাফের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। জুলাইয়ের পর জুলাই যোদ্ধা কিংবা এনসিপির ওপর যে হামলা হয়েছে, ছাত্রশিবির এবং জামায়াত সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

গত বছর গাজীপুরের হাসনাতের গাড়িতে হামলার পর তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও প্রতিবাদ এবং গোপালগঞ্জের ঘটনার পর দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপের মতো নানা উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হবিগঞ্জের ঘটনার পরপরই ছাত্রশিবির বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সংগঠনগুলো একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, এনসিপি স্বাভাবিক গতিতেই উন্নতি করবে, সেটাই প্রয়োজন। কিন্তু ডিপ স্টেটের কৌশলের মাধ্যমে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে চাওয়া হচ্ছে। এনসিপিকে দুর্বল করা গেলে জুলাইয়ের শক্তিকেও দুর্বল করার উদ্যোগ চলে আসবে—এটাই তাদের কৌশল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনসিপির নেতৃবৃন্দ প্রকৃত ষড়যন্ত্রটি বুঝতে পারবে।

তিনি বিএনপির বর্তমান অবস্থা দুটি ধারায় দেখেন। একটি ধারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে, যার প্রতি তার আন্তরিক শ্রদ্ধা রয়েছে। অপর অংশটি ডিপ পাওয়ারের প্রভাবে নিজেদের ও দেশবিরোধী স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। তিনি বাংলাদেশপন্থী বিএনপিকে সব সময় সমর্থন দেবেন। তবে দ্বিতীয় ধারার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়াও বিএনপি আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম সঙ্গী বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জাহিদুল ইসলাম আশা করেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদীদের দেখানো রাজনীতির পথে না হেঁটে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করবে।

ডিপ পাওয়ারের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে তিনি বলেন, জুলাইকে মুছে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। জুলাই মাসজুড়ে আলোচনায় থাকার কথা ছিল জুলাইয়ের স্মৃতি, শহীদ ও আহতদের ত্যাগ এবং বিপ্লবের প্রেরণা। কিন্তু আসলে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ইস্যুকে সামনে এনে জুলাইকে আলোচনার বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে তিনি সকলকে যা প্রধান সূচক মনে করেন, তা হলো—জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জামায়াত, বিএনপি, এনসিপিসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, জুলাইয়ের সব শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশ পথ হারাবে না এবং জুলাইকে কেউ মুছে ফেলতে পারবেন না।

রাজনীতির দৃশ্যমান অংশের অপেক্ষা অবধারিতভাবে পানির নিচে থাকে। তিনি জামায়াত, বিএনপির বাংলাদেশপন্থী অংশ, এনসিপি এবং সকল দেশপ্রেমিক দল ও মানুষের জন্য অনুরোধ করেন, তারা যেন দৃশ্যমান রাজনীতির পাশাপাশি অদৃশ্য বাস্তবতাকেও অনুধাবন করে। সেজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%