মাসফিকুল হাসান,বেরোবি প্রতিনিধি
০৩:০০ পি.এম
দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি এবং আপগ্রেডেশনে বৈষম্য, প্রহসন ও হয়রানির অভিযোগে চলমান কর্মবিরতি কর্মসূচি উপাচার্যের দেওয়া আশ্বাসের ভিত্তিতে স্থগিত করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন কর্মবিরতি স্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত কর্মকর্তারা এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণিত বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আনোয়ার হোসেন মিঠু বলেন, “রেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রশাসন আমাদের আন্তরিকভাবে জানিয়েছে যে, পদোন্নতি এবং আপগ্রেডেশনের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপাচার্য মহোদয়ের মৌখিক আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা আমাদের চলমান কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করছি প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টির কার্যকর সমাধান করবে। সেই প্রত্যাশা থেকেই আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়েছে।”
এদিকে, উল্লেখ্য যে, পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে গত কয়েকদিন ধরে কর্মবিরতি এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ কর্মকর্তা। কর্মসূচির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও আংশিক প্রভাব পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. হাসিবুল আহসান, মোছা. খালিদা আক্তার, ফজলুল হক, মো. মমিনুল ইসলাম, শাপলা রানী সরকার, সহকারী প্রকৌশলী মো. আহসানুল হাবিব এবং সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো. মনজুরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসছে নরওয়ে। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর টানা ছয় আসর বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল ইউরোপের দেশটি। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে আর্লিং হালান্ড এবং মার্টিন ওডেগার্ডের দল।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে গেছে নরওয়ে দলের সদস্যরা। তবে মাঠে খেলার আগেই কিছু ব্যতিক্রমী কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে তারা।
খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ ফিটনেস এবং পারফরম্যান্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। স্থানীয় খাবারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করেই নিজেদের দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছে দলটি। জানা গেছে, নরওয়ে থেকে প্রায় ৩০০ কেজি তাজা লাল মাছ এবং ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ব্রাউন চিজ উড়িয়ে আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
ফুটবলারদের জন্য পরিচিত ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে দলের সঙ্গে রয়েছেন নরওয়ের দুই খ্যাতনামা শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড এবং এইরিক তুফতে। শেফ অ্যারন এর আগে ২০২০ অলিম্পিকে নরওয়ে দলের রান্নাঘরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁরা দলের দীর্ঘদিনের প্রধান শেফের সঙ্গে মিলে খেলোয়াড়দের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বিশেষ খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করছেন।
এ বিষয়ে শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড বলেন, "নরওয়ে থেকে সুদূর আমেরিকায় প্রায় আধা টন খাদ্যসামগ্রী পাঠানো সহজ ছিল না। তবে আমরা আমাদের নিজস্ব উপকরণের গুণগত মানের ওপর আস্থা রাখি। তাই বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে দেশের সেরা খাবারই খেলোয়াড়দের দিতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা যদি নিশ্চিতভাবে জানি খাবারে ব্যবহৃত টমেটোটি কোন কৃষক উৎপাদন করেছেন কিংবা মাছটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তাহলে সেটি আমাদের কাছে বিশেষ বিষয়। নরওয়েজিয়ান উপকরণ ব্যবহার করতে পারাটা আমাদের কাছে গর্বের।"
বিশ্বকাপের আগে নরওয়ের এই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও হালান্ড-ওডেগার্ডরা কতটা সফলভাবে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটাতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারত থেকে যেকোনো মূল্যে পুশইন ঠেকাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুনভাবে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে বেনাপোল সীমান্তের কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকা ঘুরে বিজিবি সদস্যদের জোরদার ও কড়া টহল প্রকাশ্যে চোখে পড়ে। এই সময়ে সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় সাধারণ মানুষকেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবিকে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
এর আগে, গত ৩১ মে রাতে, বেনাপোল রুটে বিএসএফ সীমান্তের সব আলো নিভিয়ে শতাধিক নারী ও শিশুকে ধরে ‘বাংলাদেশি’ দাবি করে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিজিবির কঠোর তৎপরতা এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধকের মুখোমুখি হয়ে বিএসএফের সেই পুশইনের চেষ্টা অবশেষে ব্যর্থ হয়ে যায়।
যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মিজান হোসেন বলেন, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে পুশইন করার উদ্দেশ্যে ওপারে বিএসএফের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে প্রচুর মানুষ জড়ো করে রাখা হয়েছে। এই পুশইন রোধের জন্য সদর দপ্তরের নতুন নির্দেশনায় বেনাপোল সীমান্তে দেড় গুণ বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সুবেদার মিজান হোসেন আরও জানান, নিয়মিত পোশাকধারী টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিজিবি সদস্যরা কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন। সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো ফাঁকফোকর না রাখতে তিনি স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বিজিবির সদর দফতর সূত্র জানায়, ভারতের ৫ রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৬টি জেলার সীমান্ত রয়েছে। এসব সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে, এমন সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে দেশের ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তেই টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে।
চিহ্নিত ও সতর্কাবস্থায় থাকা ২৬টি জেলা হলো- যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শেরপুর।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, পুশইন করার উদ্দেশ্যে সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে শিশু, নারী ও পুরুষদের জড়ো করছে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে তারা কাউকে কাউকে আবার ব্যারাকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে পড়া এসব মানুষকে ভারতেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে তারা চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে। বাকি সীমান্ত রয়েছে ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম ও আসাম রাজ্যে।
ভারতের কেন্দ্রীয় শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিএসএফ কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তৎপর হয়ে উঠেছে। ভারতে জন্মগ্রহণকারী কিংবা দীর্ঘ বছর ধরে সেখানে বসবাসরত অনেককেই হঠাৎ ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ঘোষণা দেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। মূলত তার এই ঘোষণার পর থেকেই সীমান্তজুড়ে পুশইনের এই চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল ইতিহাসে কিছু খেলোয়াড় রয়েছেন, যাঁদের অবদান পরিসংখ্যান দিয়ে মাপার মতো নয়। ডিভোক ওরিগি ছিলেন সেই বিরল দলে একজন। বড় ম্যাচের নায়ক, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার বিশেষ দক্ষতার অধিকারী এবং লিভারপুল সমর্থকদের হৃদয়ে বিশেষ একটি স্থান অধিকারী। অবশেষে, সেই অধ্যায়ের ইতি টানলেন বেলজিয়ামের এই প্রতিভাবান স্ট্রাইকার। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তিনি পেশাদার ফুটবলে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
ওরিগির নাম উচ্চারিত হলেই সবার মনে আসে ২০১৯ সালের সেই চমৎকার রাতের স্মৃতি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথম লেগে লিভারপুল ৩-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু অ্যানফিল্ডে ইতিহাস রচনা করে ৪-০ জয়ের সাথে দুটি গোল করেছিলেন ওরিগি। পরে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ফাইনালেও তিনি গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন।
শুধু ইউরোপ নয়, মার্সিসাইড ডার্বিতেও তিনি এভারটনের জন্য একটি আতঙ্ক ছিলেন। লিভারপুলের জার্সিতে ১৭৫ ম্যাচে ৪১ গোল করার পর তিনি ২০২০ সালে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের অংশ হয়েছিলেন। ২০২২ সালে এসি মিলানে যোগ দেওয়ার পর তিনি ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় ইতালিতে কাটিয়েছেন।
অবসরের ঘোষণায় আবেগঘন বার্তায় ওরিগি বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে নিজের স্বপ্ন পুরণ করতে পেরেছেন। সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলা এবং বড় ট্রফি জেতার লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঈশ্বর, সমর্থক, কোচ ও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় সেতুপতি নতুন সিনেমা নিয়ে আসছেন, যেখানে রহস্য, আবেগ আর অ্যাকশনের মিশেল রয়েছে। সম্প্রতি তার আসন্ন সিনেমা 'স্লামডগ ৩৩ টেম্পল রোড'র অফিসিয়াল টিজার প্রকাশ পেয়েছে, যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
টিজারের শুরুতেই বিজয় সেতুপতির কণ্ঠে শোনা যায় একটি শক্তিশালী আবেগঘন সংলাপ। সিনেমাটিতে বিজয়কে একজন দৃষ্টিহীন ভিক্ষুকের চরিত্রে দেখা যাবে।
এছাড়া টিজারে উঠে এসেছে তার রহস্যময়, অন্ধকার ও বিধ্বংসী রূপ। টিজার দেখে অনেকেই মনে করছেন, এটি রহস্য, আবেগ ও জমজমাট অ্যাকশনে ভরপুর ব্যাপক বাণিজ্যিক সিনেমা হতে যাচ্ছে।
সিনেমাটিতে বিজয় সেতুপতির বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী সংযুক্তা। এর পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায় দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেত্রী টাবুকে। খলনায়কের চরিত্রে উপস্থিত রয়েছেন কন্নড় তারকা দুনিয়া বিজয়।
সর্বভারতীয় এই সিনেমাটি তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম ও হিন্দি, মোট পাঁচটি ভাষায় মুক্তি পাবে। চলতি মাসেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমাটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ