ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব কেন, সামনে আসছে নানা সমীকরণ


জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব কেন, সামনে আসছে নানা সমীকরণ

ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সাম্প্রতিক মতপার্থক্য এবং পালটাপালটি বক্তব্যের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং রাজপথের কর্মসূচি নিয়ে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ‘সমঝোতা’র গুঞ্জন এবং বিএনপি-জামায়াতের পালটাপালটি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কেন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এই দূরত্ব রয়েছে, এর নেপথ্যে কী রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সামনে এর প্রভাব কতটা পড়তে পারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ফেনীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকারের অনুসারী এবং একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ জনগণের কল্যাণে সরকারের কর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে আবারও হাত মিলিয়েছে। তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ‘গুপ্ত রাজনীতি’ এবং ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই; বরং তারা কেবল ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতেই লিপ্ত রয়েছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, জামায়াতের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘সমঝোতার’ গুঞ্জনে দল দুটির মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস কিছুটা বেড়েছে। যদিও জামায়াত নেতারা বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন কথা বলছেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক ঢাকতে গিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে সখ্য রাখার অপপ্রচার চালাচ্ছে বিএনপি।

আরও পড়ুন: ‘জনপ্রতিনিধিদের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে’

সূত্রমতে, নির্বাচনের মাত্র সাত মাস যেতে-না-যেতেই জামায়াত ও এনসিপির লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি ক্ষুব্ধ। সরকারের মেয়াদের এত অল্প সময়ের মধ্যে লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলেও নানা আলোচনা রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন- এত কম সময়ের মধ্যে লংমার্চের মতো বড় কর্মসূচি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তারা আর কী ধরনের কর্মসূচি পালন করবে? তাছাড়া অব্যাহত কর্মসূচির কারণে নতুন করে দেশ অচল হয়ে পড়লে পরিস্থিতি কী দাঁড়াতে পারে, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী মনে করেন, অশুভ আঁতাতকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে ক্ষমতাসীন দলকে অবশ্যই আরও সতর্ক ও কৌশলী হতে হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময়ও যেমন কৌশলগত সংলাপ চলে, সরকারকে ঠিক তেমনই বিরোধী দলের সঙ্গে সংসদীয় রীতিতে সমঝোতার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোকে সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধনমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো দ্বন্দ্বে জড়ালে দেশের সবার ক্ষতি। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে অতীতে যে অন্যায়, অবিচার, অপকর্ম হয়েছে; সেগুলো অব্যাহত থাকলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি ব্যর্থ হলে জামায়াত বা আওয়ামী লীগ আসতে পারে। যদিও আওয়ামী লীগের আসার কোনো সম্ভাবনা আমি দেখছি না। তাই আমি বলব, সরকার ও বিরোধী দল নিজেদের মধ্যে সংলাপে বসে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করুক। তা না হলে পরিণতি হলো অরাজকতা এবং এর মাশুল দেবে বাংলাদেশের জনগণ। আমাদের রাজনীতিকদের দূরদর্শিতা, তাদের অপরিপক্বতা ও সীমাবদ্ধতার জন্যই আমরা অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দেশে অরাজকতাই চাচ্ছে। অথচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী প্রত্যাশা ছিল, সরকার ও বিরোধী দলগুলো পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে দায়িত্বশীল রাজনীতির চর্চা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরুতে সে ধরনের বেশকিছু ইতিবাচক উদাহরণও সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ নানা ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব এখন সুস্পষ্ট। যদিও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সদ্ভাব বজায় রেখে চলার কথা বলছে বিএনপি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দলগুলোর মধ্যে নতুন করে কোনো পারস্পরিক বৈঠকের বা আলাপের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবে বিএনপির একটি বড় অংশের মতে, সব রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনাই বর্তমান সরকারের জন্য টেকসই সুফল বয়ে আনবে।

আরও পড়ুন: মহাসচিবসহ দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার, আমিনুল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী বলেন, একটি কার্যকর সংসদীয় গণতান্ত্রিক সমাজে সংসদেই বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা করার কথা। সরকারের বয়স মাত্র ৬-৭ মাস হওয়ার পরেই রাজপথে নামার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সব ধরনের বিরোধ ও মতপার্থক্য জাতীয় সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সেটি না করে জামায়াত অন্য পথে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গুপ্ত বলতে আমরা যাদের বুঝি, তারা যদি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে ঐক্য করে, তাহলে দুটোই ডুববে। বাংলাদেশের জনগণ তাদের কখনোই মেনে নেবে না। জনগণ দূর ভবিষ্যতেও এ দেশে স্বৈরাচারী শক্তি বা হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান দেখতে চায় না। এই ধরনের অশুভ আঁতাত সফল হবে না।

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, কারও সঙ্গে দ্বন্দ্ব কিংবা সমঝোতার প্রশ্ন তো তখন আসে, যখন তার আসল চরিত্রটা বোঝা যায়। জামায়াতের আসল চরিত্র বোঝা মুশকিল। অতীতে তারা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের বন্ধু হয়েও আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন করেছে। ১৯৮৬ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিকে না জানিয়ে হঠাৎ আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে যায়।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারকে হটাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমান্তরালভাবে রাজপথে আন্দোলন করে। ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘদিন বিএনপির পাশে থেকে ২০০১ সালে মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়। অথচ এক-এগারোর পর আবার বিএনপির দায় নিতে অস্বীকার করে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও নিরাপত্তার সঙ্গে উদযাপন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলাল বলেন, ঘন ঘন দিক পরিবর্তনকারী দলকে বোঝা কঠিন বিধায় তাদের সঙ্গে সমঝোতা বা দ্বন্দ্ব-উভয় ক্ষেত্রেই গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন। জামায়াত যদি সঠিক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন না করে এবং এভাবে দিক বদলাতে থাকে, তবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগও তাদের পুরোপুরি বিশ্বাস করবে না।

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু যুগান্তরকে বলেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময় বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি একত্রে আন্দোলন করেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অনেক জায়গায় জামায়াত ও আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও অর্জিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য জামায়াতের সচেতন থাকা উচিত। জামায়াতে ইসলামী যেন কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত না মেলায়। কারণ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সমঝোতা করলে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা বিপন্ন হবে এবং ফ্যাসিস্টরাই এতে লাভবান হবে।

এদিকে জামায়াতের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মূলত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে দলটির মতদ্বৈধতা রয়েছে। এছাড়া সরকারকে চাপে ফেলে তারা আরও কিছু দাবি আদায় করতে চায়। পাশাপাশি সরকারের ব্যর্থতার চিত্র জনমনে তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পথও তৈরি করার কৌশল নিয়েছে দলটি।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ: হুইপ অপু

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি তাদের ভারতপ্রীতি, দিল্লিপ্রীতি ঢাকতে গিয়ে অসত্য কথা বলছে। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার আওয়ামী লীগ সারা দেশে একদিনে মিছিল করার সুযোগ পায় কী করে? প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকায় নিষিদ্ধ দল মিছিল করার দুঃসাহস কীভাবে পায়? মানুষ কি বোঝে না? সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে কি খবর নেই?

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্য ধরে রাখতে চাইলে সরকার যদি কোনো উদ্যোগ নেয় জামায়াত সহযোগিতা করবে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসে তারা সেটা করবে কিনা সে সন্দেহ তো রয়েই যায়।

এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগকে বিএনপিই আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমরা বলেছি, সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে, চাঁদাবাজি, দখলদারি বন্ধ করতে হবে। তাহলে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব। কিন্তু সরকার সেটা না করে বিরোধী দলের মোকাবিলায় আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিচ্ছে।

আরও পড়ুন: গুম-খুনের রাজনীতি ফিরতে দেবে না: আব্দুল্লাহ আল জাবের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি শিগগিরই আসতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি শিগগিরই আসতে পারে

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সমীকরণ শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যেকোনো সময় নতুন পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক কমিটি ঘোষণা করতে পারে। নতুন কমিটিতে পদ পেতে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা জোর লবিং ও তৎপরতা চালাচ্ছেন।

৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর থেকে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন এবং যাদের ক্লিন ইমেজ রয়েছে; তাদের এবার শীর্ষ নেতৃত্বে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার বিষয়টিকেও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের নিয়েও আলোচনা চলছে।

সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আইয়ুব আলী, তসলিম আহসান মাছুম, মিজানুর রহমান রাজ, আদাবর থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফী উদ্দিন ফয়সাল প্রমুখ।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু, তানভীর আহম্মেদ ইকরাম, আবু সালেহ চৌধুরী মানিক, সাবেক সদস্য ফরহাদ আলী সজীব, আরিফ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা মেহেদী হাসান রুয়েল, কামরুল ইসলাম, রফি উদ্দিন ফয়সাল প্রমুখ।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, যারা দুঃসময়ে দলকে আগলে রেখেছিলেন, হামলা-মামলা মাথায় নিয়েও রাজপথ ছাড়েননি এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই; তাদেরই ঢাকা মহানগর উত্তরের হাল ধরার সুযোগ দেওয়া হবে। কারণ আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে এই কমিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী মনিরুল ইসলাম স্বপন বলেন, "২০০৩ সাল থেকে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছি। রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। ফ্যাসিবাদী আমলে নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি। তবে কখনো আন্দোলনের মাঠ ছাড়িনি। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলাম। আশা করি, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে গৃহবধূকে হত্যা ও মালামাল লুট, ঘরে মিলল বিবস্ত্র লাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


কাউখালীতে গৃহবধূকে হত্যা ও মালামাল লুট, ঘরে মিলল বিবস্ত্র লাশ

পিরোজপুরের কাউখালীতে নিজ ঘর থেকে জেসমিন বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের বান্দাকান্দা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জেসমিন বেগম ওই এলাকার মৃত কেরামত আলীর স্ত্রী এবং আফজাল হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে ঘরে একাই ছিলেন জেসমিন বেগম। নির্জন ও চারপাশে প্রতিবেশী না থাকা ওই বাড়িতে রাতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। সকালে স্থানীয় এক কিশোর ওই বাড়িতে সুপারি পাড়তে এসে জেসমিন বেগমকে ডাকাডাকি করে। কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে সে ঘরের পেছনের দিকে গিয়ে ভেতরে খাটের ওপর গৃহবধূর বিবস্ত্র লাশ পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় ঘরের ভেতরে সমস্ত মালামাল ছড়ানো-ছিটানো ও এলোমেলো অবস্থায় ছিল।
এলাকাবাসীর প্রাথমিক ধারণা, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। মালামাল লুটপাটে বাধা দেওয়া অথবা চিনে ফেলার কারণে তারা জেসমিন বেগমকে হত্যা করে লাশ বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার, সিআইডি (CID)-এর তদন্ত দল এবং থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির কারিগরি দল।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান,
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে গ্রেপ্তার শারজিল ইমাম, ৭ দিনের জামিন পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে গ্রেপ্তার শারজিল ইমাম, ৭ দিনের জামিন পেলেন

২০২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলায় কারাগারে বন্দী শারজিল ইমাম সাত দিনের অন্তর্বর্তী জামিনে তিহার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এই সাময়িক জামিন দিল্লির একটি আদালত প্রদান করেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত তার জামিন কার্যকর থাকবে। তার দুই চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে অংশগ্রহণ করার জন্য এই জামিন প্রদান করা হয়েছে, যা দিল্লি ও বিহারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

কারকারদুমা আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, শারজিলকে ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরতে হবে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শারজিলের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা চলছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার সময় কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট একই মামলায় শারজিল ইমামের নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মামলার অপর আসামী উমর খালিদের নিয়মিত জামিনের আবেদনও নাকচ করা হয়।

সুতরাং, সাত দিনের এই অন্তর্বর্তী জামিন শারজিলের জন্য সাময়িক স্বস্তি প্রদান করলেও মামলার আইনি কার্যক্রম চলমান থাকবে। ১০ অক্টোবর জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তাকে আবার তিহার কারাগারে ফিরে যেতে হবে।

উল্লেখ্য, শারজিল ইমাম একজন শিক্ষার্থী এবং ছাত্র আন্দোলনকারী। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৯ সালের শেষের দিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ওই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র: মিল্লাত টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে কথক নৃত্য প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


সুনামগঞ্জে কথক নৃত্য প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ

সুনামগঞ্জ, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : তিন দিনব্যাপী কথক নৃত্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাত ৮ টায় হাছনরাজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

এ প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পৌর শহরের সাংস্কৃতিক সংগঠন অয়নৃত্যের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভারতের ত্রিপুরার ঘুঙুরু ড্যান্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক রাহুল দেব। এই কর্মশালায় ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অয়নৃত্যের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এবং নৃত্য প্রশিক্ষক সৌরভ অধিকারী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেরগুল আহমেদ, জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মনজুরুল হক চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন, সাংবাদিক মুহাম্মদ আমিনুল হক প্রমুখ।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া রাজশ্রী পাল সৃষ্টি জানান, "তিন দিনের কর্মশালায় প্রশিক্ষকের কাছ থেকে অনেক নতুন বিষয় শেখার সুযোগ হয়েছে। অনুশীলনের সময় ভুলত্রুটি সংশোধনের পাশাপাশি কথক নৃত্য সম্পর্কে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।"

প্রশিক্ষক রাহুল দেব মন্তব্য করেন, "ত্রিপুরা থেকে সুনামগঞ্জে এসে এ ধরনের একটি কর্মশালায় যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত। তিন দিনে শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা ও শেখার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা যেভাবে অনুশীলন করেছে, তা প্রশংসনীয়।"

জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী বাসসকে বলেন, "সুনামগঞ্জ সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর যত বাড়বে, সমাজে শুদ্ধতার চর্চাও তত বাড়বে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে সব সময় সহযোগিতা করবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%