মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি,
০৮:৫৬ পি.এম
১০ শে জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে রোজ বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনে কক্ষে ,
উপজেলা রিসোর্স টীম, ইউ আর টি, সদস্যদের অংশগ্রহণে গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রায়হান কবির,,
গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন,
জনাব নিলুফা ইয়াসমিন উপপরিচালক, উপসচিব ,স্থানীয় সরকার নারায়ণগঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর রিপন আলী পেশায় একজন কশাই হলেও, পশুর হাড় ও শিং দিয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম তৈরি করা তার নেশা। গত এক দশক ধরে তিনি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পরিত্যক্ত মাথা সংগ্রহ করে সেগুলোকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নান্দনিক শোপিসে রূপ দিচ্ছেন। মাটি বা কাঠের প্রথাগত শোপিসের বাইরে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাজশাহী ব্যুরো জানায়, গত কয়েক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম ও নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে এই বিশেষ পদ্ধতিটি আয়ত্ত করেছেন ৪০ বছর বয়সি রিপন আলী। বর্তমানে তার সংগ্রহে ১০০টিরও বেশি শৈল্পিক শোপিস রয়েছে। একটি কক্ষে তিনি পশুর এসব শিং ও মাথা থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন, যা দেখতে আসকো দর্শনার্থীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন। রিপন আলীর এই ব্যতিক্রমী যাত্রার শুরু মোটেও সহজ ছিল না। রাজশাহীর শালবাগান কশাইপট্টিতে কাজ করার সময় একদিন তিনি একটি মহিষের বিশাল শিং দেখে তার মাথায় এটি সংরক্ষণের চিন্তা করেন। বন্ধুদের পরামর্শে এবং নিজের দীর্ঘ ১০ বছরের মেধা ও একাগ্রতা দিয়ে ২০১৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজ শুরু করেন। রিপন জানান, তিনি সব ধরনের মাথা নেন না; কেবল যেসব পশুর শিং দেখতে আকর্ষণীয়, সেগুলোই সংগ্রহের জন্য বেছে নেন। এই শিল্পকর্ম তৈরির সঠিক পদ্ধতি জানার জন্য রিপন আলী অনেক বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকের দ্বরস্থ হয়েছিলেন। তবে কেউ তাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত দমে না গিয়ে, দীর্ঘ কয়েক বছর নিজের প্রচেষ্টায় তিনি পশুর মাথা ও শিং পচনমুক্ত করে শোপিসে রূপান্তরের কৌশল উদ্ভাবন করেন। শুরুর দিকে পশুর হাড়ের দুর্গন্ধ ও অর্থ ব্যয়ের কারণে পরিবার ও প্রতিবেশীদের উপহাস সহ্য করতে হলেও এখন দৃশ্যপট বদলেছে। এখন তার পরিবার এবং দর্শনার্থীরা এই নান্দনিক কাজের প্রশংসা করছেন। রিপন আলী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি কেবল বাজার থেকে কেনা গৃহপালিত পশুর (গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া) মাথা ব্যবহার করেন। বাঘ বা হরিণের মতো কোনো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অঙ্গ তিনি স্পর্শ করেন না। তার মূল লক্ষ্য হলো এই শিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দেয়া। তিনি মনে করেন, গৃহপালিত পশুর হাড় দিয়ে তৈরি এসব শোপিস যদি সহজলভ্য হয়, তবে মানুষ বন্যপ্রাণী নিধনের বদলে ঘর সাজানোর প্রবণতা থেকে সরে আসবে। এতে বন্যপ্রাণী হত্যা রোধ হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে একে একটি নতুন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখছেন এই শিল্পী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দেশের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।
এই চুক্তিটি আজ বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
১৯তম আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এর অর্থায়নে এ ঋণ ও অনুদান বিশ্বব্যাংক গ্রুপের মাধ্যমে ‘হেলথ, নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচএনপিএডিপি)’ বাস্তবায়নের জন্য দেওয়া হচ্ছে। এ তথ্য ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এই চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে মোট ২৮৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) বা তার সমপরিমাণ ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা প্রদান করবে। সেইসাথে, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (জিএফএফ) থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা প্রদান করা হবে।
তাহলে মোট অর্থায়নের পরিমাণ হবে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থায়নের আওতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
প্রথম প্রকল্পটি হলো ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট’, যা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা জোরদার হবে।
অন্যদিকে, ‘ক্লাইমেট রেসপনসিভ রিপ্রোডাকটিভ হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট ফর রেজাল্টস’ নামের দ্বিতীয় প্রকল্পটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। এর উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেবার গুণগত সম্প্রসারণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ৩৭৯ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ এবং ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ ভর্তুকি দেওয়া হবে। এছাড়াও, অনুত্তোলিত ঋণের ওপর বার্ষিক ০ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য থাকবে।
তবে, বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে এ বছরসহ এই কমিটমেন্ট ফি আদায় থেকে বিরত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০০৯ সাল। তখন এদুর গুডইয়নসেন বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির সতীর্থ ছিলেন। আজ আমরা ১৭ বছর পরে ২০২৬ সালে ফিরে যাচ্ছি। এদুর গুডইয়নসেনের ছেলে, ডানিয়েল গুডইয়নসেন, এখন লিওনেল মেসির প্রতিপক্ষ হিসেবে ময়দানে উপস্থিত।
আইসল্যান্ডের নাগরিক এদুর গুডইয়নসেনের এই দলের বিরুদ্ধে আজ মেসির আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে স্ক্যালোনির শিষ্যরা ৩-০ গোলের সহজ জয় নিশ্চিত করেছে। এই খেলায় আইসল্যান্ডের হয়ে মাঠে ছিলেন ডানিয়েল গুডইয়নসেন। মেসির সঙ্গে তার পুনঃপরিচয়ের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আগ্রহজনক।
ম্যাচ শেষে, গুডইয়নসেন পরিচয় দিয়ে মেসিকে বলেন, ‘হাই, আপনি আমার বাবার সঙ্গে খেলেছিলেন।’ তাদের আগে দেখা হয়েছিল, যখন গুডইয়নসেন ছিলেন খুবই ছোট। পরে মেসি জানিয়েছেন, তিনি এই পরিচয়ে কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন।
মেসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সে আমাকে বলল, ‘‘আপনি কি মনে করতে পারছেন আমি কে?’’ তখন আমি একরকম অবাক হয়েছিলাম। সত্যি বলতে, আমার মনে ছিল না, কারণ সে তখন ছিল খুবই ছোট।’
তাদের ওই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গুডইয়নসেনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেসিকে চমকে উঠতে দেখা যায়। তারা কিছুক্ষণ কথা বলেন, একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং করমর্দন করেন।
ডানিয়েল গুডইয়নসেন বার্সেলোনার একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। পরে তিনি সুইডেনে গিয়ে মালমোর হয়ে খেলেছেন। তার বাবা এদুর গুডইয়নসেন ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় খেলেছেন। ওই সময়ে তিনি ক্লাবটির হয়ে ১১৪টি ম্যাচে ১৯ গোল করেছেন। বিনিময়ে তিনি আইসল্যান্ডের হয়ে ৮৮ ম্যাচ খেলেন এবং করেন ২৬ গোল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় অধস্তন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে (ডেথ রেফারেন্স) এবং এ সংক্রান্ত আপিলের দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আলাদা বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন।
আজ বুধবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠন করা এ বেঞ্চটি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষরিত গঠনবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হবে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, অধস্তন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা কার্যকরে উচ্চ আদালতের অনুমোদন এবং শুনানি অনুষ্ঠিত হতে হয়। এজন্য অধস্তন আদালতের রায়ের অনুলিপি ও মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হলে এটি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যায় এবং শুনানির জন্য পেপারবুক (মামলার রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত করা হয়। অপরদিকে, কারাগারে থাকা আসামি হাইকোর্টে আপিল বা জেল আপিল করার সুযোগ পান।
সুপ্রিমকোর্টের গত ১০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া মামলাগুলোর শুনানির জন্য প্রস্তুত হতে সময় লাগে পাঁচ বছরের বেশি। বর্তমানে হাইকোর্টের পৃথক চারটি বেঞ্চে ২০১৮ সালে নথিভুক্ত হওয়া কিছু ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি চলমান রয়েছে বলে সুপ্রিমকোর্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ৭ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের পর এই রায় দ্রুত কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। রামিসার মতো এ ধরনের ঘটনার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি সব মহল থেকে ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলও উল্লেখ করেছেন, রামিসার মতো নৃশংস হত্যার ঘটনার বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা (ডেথ রেফারেন্স ও আপিল) শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের কথা বলেছেন।
এই বিশেষ বেঞ্চ আগামী রবিবার থেকে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ