ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তেহরানের আকাশে রহস্যময় আলো, ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে নতুন আলোচনা


তেহরানের আকাশে রহস্যময় আলো, ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে নতুন আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে দেখা গেছে একটি উজ্জ্বল, বহু রঙের আলো ছড়ানো রহস্যময় বস্তু। কিছু সময় ধরে আকাশে ভেসে থাকা এই বস্তুটি অনেকের কাছে কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হয়েছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিভিন্ন আলোচনা ও জল্পনা।

সম্প্রতি দেখা এই দৃশ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের কথিত গোপন উড়োজাহাজ ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন সরকার কখনো এই ধরনের কোনো উড়োজাহাজের অস্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে আকাশে বড়, কালো ও ত্রিভুজাকৃতির রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু দেখার দাবি উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এসব বস্তু খুব কম উচ্চতায় এবং প্রায় নিঃশব্দে চলাচল করেছে বলে দাবি করা হয়। তেহরানের আকাশে দেখা সাম্প্রতিক বস্তুটির সঙ্গেও এসব বর্ণনার মিল রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে তেহরানের আকাশে দেখা বস্তুটি আসলে কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন: চীন যুক্তরাষ্ট্রকে বিপাকে ফেলতে হুথিদের সহায়তা করছে

‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’র সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমন দাবিরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে রহস্যময় এই আকাশযানকে ঘিরে আলোচনা আপাতত জল্পনাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর তেহরানের আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ের কাছে প্রথমবার বস্তুটিকে আকাশে ভেসে যেতে দেখা যায়। ধারণ করা ভিডিওতে বড় আকারের অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি উড়ন্ত বস্তু এবং তাতে বিভিন্ন রঙের আলো দেখা গেছে।

এর একদিন পর, ২১ সেপ্টেম্বর ইরানের জাহেদান শহরের আকাশের আরেকটি ভিডিও সামনে আসে। সেখানে আকাশজুড়ে অস্বাভাবিক আলোর একটি গুচ্ছকে চলাচল করতে দেখা যায়।

তেহরানের ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বস্তুটি আসলে কী, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত গোপন বিমান ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ বলে দাবি করছেন।

আরও পড়ুন: রাশিয়ায় ১ হাজারেরও বেশি ড্রোন হামলা চালালো ইউক্রেন

তবে মার্কিন সরকার কখনো ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ নামে কোনো উড়োজাহাজের অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। ফলে ভিডিওতে দেখা বস্তুটি আসলে কী ছিল বা এর সঙ্গে কথিত ওই বিমানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে আকাশে দেখা এসব রহস্যময় বস্তু নিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনী বা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে রহস্যময় এই উড়ন্ত বস্তু নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি কথিত ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নামের একটি গোপন বিমান হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নামে কোনো উড়োজাহাজের অস্তিত্বের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। এমন কোনো বিমানের অস্তিত্বের দাবি মূলত অনুমান ও জল্পনার ওপরই ভিত্তি করে রয়েছে। তারপরও ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যের অবসান হয়নি।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে তীব্র যুদ্ধ, মানবিক সংকট গভীর হচ্ছে

কী এই ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’?

‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ নামে একটি কথিত অত্যাধুনিক মার্কিন উড়োজাহাজ নিয়ে বহু বছর ধরে নানা দাবি ও জল্পনা রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, এটি কালো ও ত্রিভুজাকৃতির একটি উড়ন্ত বস্তু, যার মাঝখানে উজ্জ্বল আলো দেখা যায়।

দাবি করা হয়, এটি আকাশে স্থিরভাবে ভেসে থাকতে পারে এবং হঠাৎ দ্রুতগতিতে চলে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এর অস্তিত্বের পক্ষে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০২১ সালে ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সে সময় ইরানের গণমাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ওপর ত্রিভুজাকৃতির একটি বস্তুর ছবি প্রকাশিত হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি তখন ধারণা প্রকাশ করে, বস্তুটি অত্যন্ত গোপন ‘টিআর-৩ ব্ল্যাক মান্টা’ হতে পারে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে রামলীলা মন্দির সিলগালা, প্রতিবাদ হিন্দু সম্প্রদায়ের

দাবি করা হয়, কথিত এই উড়োজাহাজ সুপারসনিক গতিতে উড়তে পারে এবং এতে ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

মিডিয়াম-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একটি তত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। সেই তত্ত্ব অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে উচ্চচাপের প্লাজমা তৈরি করা হতে পারে, যা উড়োজাহাজের চারপাশে কথিত অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তবে এটি একটি অনুমানভিত্তিক তত্ত্ব, প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি নয়।

‘ব্ল্যাক মান্টা’ সম্পর্কে আরো দাবি রয়েছে, এতে এমন বিশেষ থ্রাস্ট ব্যবস্থা থাকতে পারে, যা খুব দ্রুত গতি, দিক ও অবস্থান পরিবর্তনে সক্ষম। পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি প্লাজমা বিমানের রাডার সিগন্যালও কমিয়ে দিতে পারে, এমন ধারণাও প্রচলিত। এসব বৈশিষ্ট্য সত্য হলে উড়োজাহাজটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে এবং দীর্ঘ দূরত্বে উড়তে সক্ষম হতে পারে বলে দাবি করা হয়।

‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ এখনো মূলত একটি রহস্যময় ও অনুমাননির্ভর বিমান হিসেবেই আলোচিত।

আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে রুবিওর তলবে চরম বিতর্কে মোদি সরকার

ব্ল্যাক মান্টা’র রহস্য কতটা সত্য?

রহস্যময় ত্রিভুজাকৃতির উড়ন্ত বস্তু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত তদন্তগুলোর একটি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিসকভারি সায়েন্স। প্রতিষ্ঠানটি আকাশে দেখা কালো ও ত্রিভুজাকৃতির রহস্যময় বস্তু নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়।

২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম বন্ধ করার আগে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপ থেকে এমন ১৫০টির বেশি দেখার প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছিল।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিসকভারি সায়েন্স-এর তদন্তে দাবি করা হয়, এসব বস্তু অত্যন্ত নীরবে চলাচল করতে পারে এবং স্থির অবস্থান থেকে শক্তিশালী প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব দ্রুত গতি বাড়াতে সক্ষম। প্রতিষ্ঠানটি আরো ধারণা করেছিল, কথিত ‘ব্ল্যাক মান্টা’র প্রধান কাজ হতে পারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ। তবে এসব দাবির কোনোটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ‘ব্ল্যাক মান্টা’ এখনো বিমান চলাচলের জগতে একটি রহস্য ও লোককথার অংশ হিসেবেই রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্স জ্বলছে, দেরি হওয়ার আগেই সীমান্ত বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

তবে ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে কিছু অত্যাধুনিক উড়োজাহাজের অস্তিত্ব গোপন রেখেছিল। এর অন্যতম উদাহরণ এফ-১১৭ নাইটহক। বিশ্বের প্রথম কার্যকর স্টেলথ যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এফ-১১৭ নাইটহক এর স্বতন্ত্র ত্রিভুজাকৃতির অবয়ব ১৯৮৩ সাল থেকেই বিভিন্ন সময়ে দেখা যাওয়ার দাবি ছিল। কিন্তু মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটির অস্তিত্ব স্বীকার করে ১৯৮৮ সালে।

এ কারণে তেহরানের আকাশে দেখা রহস্যময় ত্রিভুজাকৃতির বস্তু নিয়ে ‘ব্ল্যাক মান্টা’র মতো গোপন মার্কিন বিমানের জল্পনা নতুন করে সামনে এলেও, এখন পর্যন্ত সেটিকে প্রমাণ করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার মঞ্চে ফিরছে ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’, প্রদর্শনী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


ঢাকার মঞ্চে ফিরছে ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’, প্রদর্শনী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর

দিল্লিতে সর্বশেষ মঞ্চায়নের দুই বছর পর আবারও ঢাকার মঞ্চে ফিরছে ম্যাড থেটারের প্রযোজনা একক নাটক ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নাটকটির বিশেষ দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

নাটকটির একমাত্র চরিত্রে অভিনয় করেছেন আর্য মেঘদূত। মূলধারার বাংলা নাট্যাঙ্গনের সর্বকনিষ্ঠ একক নাটকের অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী বর্তমানে ফুল ফান্ডেড বৃত্তিতে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’-এর মঞ্চায়ন ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশ ছাড়ার পর স্থগিত হয়ে যায়। সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করে ছুটিতে দেশে ফিরেছেন আর্য মেঘদূত। এই সুযোগে নাটকটির দুটি বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ফলে প্রায় দুই বছর পর ঢাকার দর্শকরা নাটকটির নবম ও দশম প্রদর্শনী দেখার সুযোগ পাবেন।

নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবরে। তখন আর্য মেঘদূত ছিলেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। উদ্বোধনী উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন।

এখন পর্যন্ত নাটকটির আটটি প্রদর্শনী হয়েছে। ২০২৪ সালে ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) আয়োজিত ভারত রং মহোৎসবে বাংলাদেশের অন্যতম নাটক হিসেবে অংশ নেয় ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। উৎসবের অংশ হিসেবে ভারতের ডিব্রুগড় ও দিল্লিতে দুটি প্রদর্শনী করে নাটকটি প্রশংসা পায়। গৌহাটির একটি আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবেও অংশ নিয়েছে প্রযোজনাটি।

তবে আর্য মেঘদূতের পড়াশোনার কারণে আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বরের বিশেষ প্রদর্শনী দুটিই হতে যাচ্ছে ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’-এর এককালীন শেষ মঞ্চায়ন। অক্সফোর্ডে পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে নাটকটিতে অভিনয় করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক চরিত্র অ্যানা ফ্রাঙ্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত এই প্রযোজনাটি বাংলাদেশে একক নাটক হিসেবে প্রথমবারের মতো মঞ্চস্থ হয়েছে। ঢাকার মঞ্চে এর বিশেষ প্রত্যাবর্তন নাট্যপ্রেমীদের জন্যও হয়ে উঠছে বিশেষ আয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পায়রা সমুদ্র বন্দরের ৫৫০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে নিম্নচাপ, সব বন্দরে ০৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


পায়রা সমুদ্র বন্দরের ৫৫০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে নিম্নচাপ, সব বন্দরে ০৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাত নয়টায় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৬২৫ কিলোমিটার এবং মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এটি অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। গতকাল রাত থেকে কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে এবং আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে নিম্নচাপটি আরো পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ কারণে পটুয়াখালী পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সকল মাছ ধরা ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো ফজলু গাজী জানান, সমুদ্রে অবস্থানরত সকল মাছধরা ট্রলারের জেলেদের সতর্কতার সহিত সাগরে মাছ ধরার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০০০ টাকার নোট বাতিলের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


১০০০ টাকার নোট বাতিলের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ

এক আইনজীবী সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবিতে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশের অর্থনীতিকে মূল্যস্ফীতি থেকে রক্ষা করতে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া ইচ্ছামতো টাকা ছাপানো বন্ধ করা উচিত এবং কালো টাকা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে এই নোটিশটি প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এ নোটিশটি পাঠান। নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব (অর্থ বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়াই অর্থনীতিতে ক্রমাগত কৃত্রিম টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ করছে। অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, নতুন টাকা ছাপানোর জন্য অবশ্যই সমপরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার (যেমন: ডলার, ইউরো, আরএমবি) রিজার্ভ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো টাকা ছাপানোর ফলে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ অনুযায়ী টাকার নিজস্ব মান বা ক্রয়ক্ষমতা চরমভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে এবং দেশে এক ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি তৈরি হচ্ছে।

নোটিশে আরো বলা হয়েছে যে, এই লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার এবং জীবনযাত্রার খরচ পূরণের সামর্থ্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘Right to Life’ বা জীবনধারণের অধিকার বলতে কেবল পশুর মতো বেঁচে থাকাকে বোঝায় না, বরং মানুষের মতো মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে বোঝায়। স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো মূল্যবান সম্পদের ব্যাকআপ ছাড়া টাকা ছাপিয়ে সৃষ্ট চরম অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষকে খাদ্যাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে বাধ্য করা সংবিধানের এই মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।

এছাড়া নোটিশে ১০০০ টাকার নোটের ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ, দিনমজুর বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ১০০০ টাকার মতো এত বড় নোটের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই। এই উচ্চমূল্যের নোটটি মূলত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট, কর ফাঁকিবাজ এবং অপরাধীরা তাদের অবৈধ কালো টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লুকিয়ে রাখার জন্যই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। এটি দেশে একটি ধ্বংসাত্মক ‘শ্যাডো ইকোনমি’ বা ছায়া অর্থনীতি তৈরি করেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের ২ হাজার টাকার নোট বাতিল করে কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করার সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাই দেশের অর্থনীতি থেকে কালো টাকার বিস্তার পুরোপুরি সমূলে উৎপাটন করতে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিল করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করতে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র ৩১ দেশে অভিবাসী পাঠানোর জন্য ৪১০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র ৩১ দেশে অভিবাসী পাঠানোর জন্য ৪১০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করেছে

যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৩১টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যাতে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হলে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই চুক্তিগুলোর মোট মূল্য ৪১০ মিলিয়ন (৪১ কোটি) ডলার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নতুন গঠিত ‘অফিস অব রিমিগ্রেশন’ এই চুক্তিগুলো পরিচালনা করছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, এর মধ্যে ১৩টি দেশের সরকারকে সরাসরি অন্তত ৮১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার চুক্তি রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি অনুসন্ধান অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অফিস অব রিমিগ্রেশনের নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন কূটনীতিক ক্রিশ্চিয়ান এরহার্ডট, যিনি প্রায় ১৫ সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত জুনে তিনি আইভরি কোস্ট, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, টোগো ও গ্যাবনসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে সফর করেন এবং অভিবাসীদের গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

চুক্তির আওতায় যেসব অভিবাসীকে পাঠানো হচ্ছে, তারা গ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক নন। ইতোমধ্যে চীন, রাশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, লাওস, কিউবা ও জ্যামাইকার নাগরিকদের কোস্টারিকা ও আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনিতে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে (আইওএম) ১৭৯ মিলিয়ন ডলার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে ১২৪ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে শরণার্থী ও অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।

এনডিটিভি জানাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে প্রভাবশালী কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারের সঙ্গে এই কর্মসূচির ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন বেশিরভাগ শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থগিত করে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র দপ্তরের শরণার্থী ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অর্থের একটি অংশ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে উৎসাহিত করা ‘প্রজেক্ট হোমকামিং’-এ স্থানান্তর করা হয়।

তবে চুক্তিগুলোর ধরন ভিন্ন। কিছু ক্ষেত্রে কেবল কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে অভিবাসী গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘লিলিপ্যাড’ নামে পরিচিত একটি ব্যবস্থায় কোনো দেশ সাময়িকভাবে অভিবাসীদের গ্রহণ করার পর তাদের অন্য দেশে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার একটি ছোট রাষ্ট্র এসওয়াতিনি সর্বোচ্চ ১৫০ জন অভিবাসী গ্রহণের বিনিময়ে ৫.১ মিলিয়ন ডলার পাবে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) সর্বোচ্চ ২ হাজার অভিবাসী গ্রহণে সম্মত হয়েছে এবং এ চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। অন্যদিকে কোস্টারিকা প্রতি সপ্তাহে ২৫ জন করে অভিবাসী গ্রহণে রাজি হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়—এমন অভিবাসীদের জন্য তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিভিন্ন স্বাধীন উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ২৮টি তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে।

তবে সব চুক্তি প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর হয়নি। যেমন পালাউকে ৭.৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার বিনিময়ে সর্বোচ্চ ৭৫ জন অভিবাসী গ্রহণের চুক্তি হলেও, জুন পর্যন্ত সেখানে মাত্র তিনজনকে পাঠানো হয়েছিল বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%