ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মক্কাসহ সৌদির চার শহরে বিপদের সতর্কতা জারি


মক্কাসহ সৌদির চার শহরে বিপদের সতর্কতা জারি

মক্কা, জেদ্দা এবং সৌদি আরবের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে, এই সতর্কতা প্রায় ১০ মিনিট পরেই প্রত্যাহার করা হয়।

শনিবার, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সৌদি আরবের মক্কা, জেদ্দা, তায়েফ এবং ইয়ানবু শহরে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সাময়িক সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু

কিন্তু, প্রায় ১০ মিনিট পর কর্তৃপক্ষ জানায় যে, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।

এই ঘটনার একদিন আগে, দাম্মাম শহরের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো আটজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখ কাটার জন্য জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের নারী শ্রমিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


আখ কাটার জন্য জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের নারী শ্রমিকরা

ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড় জেলার বহু নারী শ্রমিক আখ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে গিয়ে নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। মাসিকের ব্যথা, বিশ্রামের অভাব ও কঠোর শ্রমের কারণে কেউ কেউ জরায়ু অপসারণের কথা ভাবছেন, আবার অনেকে অস্ত্রোপচারও করিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব শ্রমিকের দুর্বিষহ জীবনের চিত্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজে নিয়োজিত। তাদের অনেকেই দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা কাজ করে পান মাত্র ৪০০ রুপি। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ মহারাষ্ট্রের বীড় জেলা থেকে কাজের সন্ধানে অন্য এলাকায় যান। নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাব ও পরিবারের ভরণপোষণের চাপ তাদের এই কঠিন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য করে।

কর্ণাটকের রামানালে ভোর ৪টা থেকেই শুরু হয় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। পূর্ণিমা নামের এক নারী শ্রমিকও প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজের প্রস্তুতি নেন। ঋণ শোধ করতে নিজ গ্রাম থেকে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন তিনি।

আখ কাটার নারী শ্রমিকদের জন্য শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি মাসিক সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ। অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছুটি না পাওয়ার চাপ।

কাজ থেকে এক দিন বিরতি নিলেই মজুরি কাটা কিংবা জরিমানার মুখে পড়তে হয় শ্রমিকদের। ফলে মাসিকের ব্যথা বা অসুস্থতা নিয়েও তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘ সময় ভারী আখ কাটা, বোঝা বহন ও ট্রাকে আখ তোলার কাজ করতে গিয়ে বাড়ছে শারীরিক দুর্ভোগ।

পূর্ণিমা দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, "ব্যথা থেকে মুক্তি পেলে তার জন্য অনেক বড় সহায়তা হতো। দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে রেহাই পেতে তিনি জরায়ু অপসারণের কথাও ভাবছেন।"

তিনি বলেন, "আমার কষ্ট কমছে না। এ কাজ চালিয়ে গেলে তা কেবল বাড়বে। এত ভারী ওজন তোলা বন্ধ করতে পারলে হয়তো ভালো হবে। কিন্তু এ কাজ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।"

বীড় জেলার বহু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস মৌসুমি আখ কাটা। প্রতিবছর মুকাদ্দম নামে পরিচিত ঠিকাদারেরা শ্রমিকদের সংগঠিত করেন। তারা চিনিকলের সঙ্গে যোগাযোগ, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং অগ্রিম অর্থের জোগান দেন। পরে সেই অর্থ শোধ করতে শ্রমিকদের মৌসুমজুড়ে কাজ করতে হয়।

স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে গঠিত প্রতিটি শ্রমিক দলকে স্থানীয়ভাবে ‘কইতা’ বলা হয়। সাধারণত সাত-আটটি কইতার একটি দলের মধ্যে আয় ভাগাভাগি হয়। প্রতিটি দম্পতির ওপর দৈনিক গড়ে তিন টন আখ কাটার চাপ থাকে।

কোনো নারী অসুস্থতার কারণে কাজ করতে না পারলে দলের অন্য শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে তারা সংশ্লিষ্ট দম্পতির কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেন। ফলে অসুস্থতা নিয়েও কাজ করতে বাধ্য হন নারী শ্রমিকেরা।

সবিতা নামের এক শ্রমিক ২০২৫ সালের মার্চে জরায়ু অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পেটে তীব্র ব্যথা থাকা সত্ত্বেও তাকে কাজ করতে হয়েছে। ট্রাকে আখ তুলতে মই বেয়ে ওঠার সময় গত বছর তিনবার পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তারপরও অভিযোগ করার সুযোগ পাননি।

সবিতা বলেন, "মাঠে কেউ সাহায্য করবে না। তারা একদম বিশ্রাম নিতে দেয় না। আমি এত অসুস্থ ছিলাম, তবু কেউ সাহায্য করেনি।"

পূর্ণিমাও জানান, কাজের মৌসুমে টানা চার থেকে পাঁচ মাস প্রতিদিন কাজ করতে হয়। গত তিন বছর ধরে অবিরাম ব্যথায় ভুগছেন তিনি। জরায়ু অপসারণের কথা ভাবলেও অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে তাকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে।

তার ভাষায়, "নিজের জরায়ু ফেলে দিতেও ঋণ নিতে হয়। মনে হয়, আমার শরীরই ব্যবস্থার দাসে পরিণত হয়েছে।"

২০১৯ সালে মহারাষ্ট্র সরকারের একটি কমিটি বীড় জেলায় আখ কাটার কাজে নিয়োজিত ৮২ হাজার ৩০৯ জন অভিবাসী নারী শ্রমিকের ওপর জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছে। পরে জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৪৫ শতাংশের বেশি শারীরিক বা মানসিক কষ্টের কথা জানান।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার জরায়ু অপসারণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে কিছু উদ্যোগ নেয়। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, বাস্তবে তাদের জীবনযাত্রা ও কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।

২০২৫ সালের মার্চে বোম্বে হাইকোর্ট আঞ্চলিক সরকারকে শ্রমিকদের যথাযথ নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই বছরের নভেম্বরে এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকলেও তা প্রকাশিত হয়নি বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

পূর্ণিমা ও সবিতা দুজনেই জানিয়েছেন, তারা সরকারের কাছ থেকে কোনো কল্যাণ সহায়তা পাননি।

দীর্ঘদিনের ব্যথা সামলাতে পূর্ণিমাকে নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। তিনি জানান, বছরে এসব ওষুধের পেছনে তার প্রায় ৫০ হাজার রুপি খরচ হয়। তবুও ব্যথা থেকে মুক্তি মিলছে না।

পূর্ণিমা বলেন, "গ্রামে ফিরে আমাকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে, কিন্তু এর জন্য আরও ঋণ নিতে হবে। মনে হয়, আমি যেন কাজ চালিয়ে যেতে পারি, সে জন্যই ব্যবস্থাটা আমার জরায়ুটাই কেড়ে নিচ্ছে।"

প্রতিবেদনটির বিষয়ে বীড় জেলার কালেক্টর বিবেক জনসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

অন্যদিকে, কোকাকোলা জানিয়েছে, আখ কাটার শ্রমিকদের বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, ছায়াযুক্ত বিশ্রামের স্থান, কাজের উপযোগী সরঞ্জাম এবং নারীদের স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত পণ্যের সুযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজ সংগঠন সলিডারিদাদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই উদ্যোগে এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট পেপসিকোর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল, তবে প্রতিষ্ঠানটি কোনো জবাব দেয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদাবাজি নির্মূলে নতুন আইন শিগগিরই আসছে: আইজিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


চাঁদাবাজি নির্মূলে নতুন আইন শিগগিরই আসছে: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, দেশের চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইন পাস হলে পুলিশ ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছাড়াই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনা পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আইজিপি এ তথ্য প্রদান করেন।

আইজিপি বলেন, সমাজে যারা চাঁদাবাজি করে, তাদের সাধারণত প্রভাবশালী হিসেবে দেখা যায়। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ক্ষমতার দাপটে তারা এসব অপরাধ করে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ বা ভুক্তভোগীরা ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে চান না, এমনকি সাক্ষ্যও দিতে চান না। তবে, এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি নতুন আইনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই আইন পাস হলে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে। যেকোনো ধরনের ডিজিটাল এভিডেন্স (প্রমাণ) পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। আইজিপি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন আইন কার্যকর হবে এবং এসব অপরাধ নির্মূল হবে।

পুলিশের কাজ করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আইজিপি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় আইন প্রয়োগ করতে গেলে পুলিশ বল প্রয়োগ করলে বলা হয় ‘পুলিশ ফ্যাসিস্ট’। আর বল প্রয়োগ না করলে বলা হয় ‘পুলিশ দুর্বল’। তিনি বলেন, আমরা এর কোনোটিই দেখতে চাই না। আমাদের উদ্দেশ্য হলো একটি কার্যকরী পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য নতুন প্রজন্ম কাজ করছে।

আইজিপি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে মাদককে সমাজে একটি স্বীকৃত বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সমাজে যেন কোনো মাদক, কিশোর গ্যাং বা চাঁদাবাজি না থাকে, তা আমরা সবাই মিলে কঠোরভাবে নির্মূল করবো।

এছাড়া, কমিউনিটি পুলিশিংকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইজিপি বলেন, আগে কমিউনিটি পুলিশিং কেবল ‘বুক প্র্যাকটিস’ বা খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে। আইনের কাঠামোর ভেতরে পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিং এখন থেকে কার্যকরভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান ও খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল করিমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসছে, নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসছে, নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

প্রায় ২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের পর এবার বাণিজ্যিক উৎপাদনের ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটি কার্পাস তুলা শনাক্তকরণ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি বেসরকারি খাতে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

মসলিন দেখে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক মো. আইয়ুব আলী বাংলানিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে দেশে ১৫ জন উদ্যোক্তা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন এবং উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের যাবতীয় নিয়ম ও পদ্ধতিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা

একসময় বাংলার রাজদরবার ও অভিজাতদের পরিধেয় ঢাকাই মসলিন ইউরোপসহ সারা বিশ্বে রপ্তানি হতো। সূক্ষ্ম বুনন ও মিহি সুতার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক কদর ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরুদ্ধার করা এই মসলিন দেখতে এসে আবার দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

প্রকল্প পরিচালক বাংলানিউজকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের উদ্যোক্তা ও ক্রেতারা মসলিনে তীব্র আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সে মুঘল ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন এমন প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ গজ মসলিন ক্রয়ের সরাসরি অনুরোধ এসেছে।’

বর্তমানে প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় মিলিয়ে তৈরি হওয়া সংরক্ষিত শাড়ি, স্কার্ফ ও রুমালে শৌখিন ক্রেতারা আগ্রহ দেখালেও এখনই তা বিক্রি করা হচ্ছে না। বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলেই সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই কাপড় বাজারে ছাড়া হবে।

কিভাবে ফিরল ঢাকাই মসলিন?

তাৎপর্যপূর্ণ এই শিল্প পুনরুদ্ধারে ২০১৩ সালে সরকারি উদ্যোগে গবেষণা শুরু হয়। ঐতিহাসিক নথি, গবেষণাপত্র ও জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা পর্যালোচনা করে সফলতার মুখ দেখেন গবেষকরা।

প্রকল্পের মুখ্য গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, গবেষণায় জেমস টেলরের ‘এ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’, অধ্যাপক আবদুল করিমের ‘ঢাকাই মসলিন’ এবং সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াসের ‘স্পিসিস প্ল্যান্টারাম’ বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নমুনার সহায়তা নেওয়া হয়।

গবেষণায় দেশজুড়ে সংগৃহীত ৩৯টি তুলার নমুনার মধ্যে ছয়টি জাত শনাক্ত করা হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, গাজীপুরের কাপাসিয়া অঞ্চলের তুলার সঙ্গে ঐতিহাসিক মসলিনের ‘ফুটি কার্পাস’ তুলার ডিএনএ-র প্রায় ৯৬ শতাংশ মিল রয়েছে।

বিশেষত্ব ও কারিগর তৈরি

ঢাকাই মসলিনের মূল বিশেষত্ব হলো নির্দিষ্ট জাতের তুলা (ফুটি কার্পাস), হাতে কাটা সূক্ষ্ম সুতা, দক্ষ কারিগর ও বিশেষ তাঁতের অনন্য সমন্বয়। আর্দ্র পরিবেশ বজায় রাখতে সোনারগাঁ, কাপাসিয়া এবং শীতলক্ষ্যা-মেঘনা নদীর অববাহিকায় সকাল বা সন্ধ্যায় বিশেষ প্রক্রিয়ায় এর সুতা কাটা হতো।

ফুটি কার্পাস নিশ্চিত হওয়ার পর গাজীপুরে তুলা বোর্ড এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে তুলা চাষ শুরু হয়। সুতা কাটা ও বুননের জন্য কুমিল্লার চান্দিনার খাদি কারিগরদের মধ্য থেকে বাছাইকৃতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষিত এসব কারিগরের পাশাপাশি বর্তমানে মসলিন হাউসের আরো ১৩০ জন তাঁতি ও কারিগর চূড়ান্ত উৎপাদনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত

বাণিজ্যিকভাবে মসলিন উৎপাদন শুরু হলে গ্রামীণ পর্যায়ে তুলাচাষি, সুতা প্রস্তুতকারক ও তাঁতিদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেনের মতে, বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য ফুটি কার্পাস তুলার জোগান বাড়ানো প্রয়োজন। তাই চাষিদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক তুলা উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী ও সময়সাপেক্ষ এই কাপড়ের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও দেশি-বিদেশি বাজার এবং শৌখিন সংগ্রাহকদের মধ্যে এর বিশাল চাহিদা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত তুলা, দক্ষ কারিগর ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ শুরু হওয়া এই বাণিজ্যিক যাত্রা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন ইতিহাস যোগ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিহারে বাড়িতে অবৈধ বাজি তৈরি, বিস্ফোরণে শিশুসহ নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


বিহারে বাড়িতে অবৈধ বাজি তৈরি, বিস্ফোরণে শিশুসহ নিহত ৫

ভারতের বিহার রাজ্যের সিওয়ান জেলায় একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে নিহতের সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের কারণে আহত আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, বাড়িটিতে অবৈধভাবে বাজি তৈরি করা হচ্ছিল। নিহত পাঁচজনের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন আমরুদ্দিন আহমেদ (৭০), মুশকাল সিদ্দিকি (২০), খুশবু সিদ্দিকি (১০), আরশাদ সিদ্দিকি (৮) এবং রাজকুমার ওরফে ভোলা (৩৫)। বিস্ফোরণের পর তাদের মরদেহ সিওয়ান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সিওয়ানের পুলিশ সুপার ভারত সোনি জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে এ ঘটনায় আহত কেউ ভর্তি নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে সামান্য আহত কয়েকজন পুলিশের কাছে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খবর দেননি। তাদের সন্ধান পেতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। অবৈধ বাজি তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি উল্লেখ করেন, বাড়িটিতে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, সেখানে কতটা বিস্ফোরক মজুত ছিল এবং কারা অবৈধভাবে বাজি তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরক সরবরাহের উৎস শনাক্ত করাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%